লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে: যুবরাজ সালমান

সৌদি আরবে যেকোনো ধরনের হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই কড়া বার্তা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, সৌদি আরব আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো বিভিন্ন হামলাকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অখণ্ডতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন যুবরাজ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষায় বিন্দুমাত্র আপস না করেই আমরা উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টায় সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করছি। নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আমরা দ্বিধা করব না।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে সৌদি যুবরাজ বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। এছাড়া উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সৌদি আরব কাজ করে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোহাম্মদ বিন সালমান জানান, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রাখছে সৌদি আরব। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক পানিপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার ঠেকানোর লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুবরাজ আরও বলেন, নিরাপত্তা রক্ষা এবং উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে সৌদি আরব তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে; পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মানবিক সহায়তার নিরাপদ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যুবরাজ। ইয়েমেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলা এবং ইয়েমেনে সরকারের কর্তৃত্ব ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি জোটের মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরব। পাশাপাশি সুদানের বৈধ প্রতিষ্ঠান ও দেশটির ঐক্য রক্ষায় সমর্থন দিচ্ছে রিয়াদ।

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বিষয়ে যুবরাজ বলেন, ২০২৬ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বছর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এআই-ভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীলতা ও সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানোই সৌদি আরবের লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি সামরিক বিমান অবতরণের অনুমতি দিল না সৌদি আরব

সৌদি আরবে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে: যুবরাজ সালমান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে যেকোনো ধরনের হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই কড়া বার্তা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, সৌদি আরব আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো বিভিন্ন হামলাকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অখণ্ডতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন যুবরাজ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষায় বিন্দুমাত্র আপস না করেই আমরা উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টায় সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করছি। নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আমরা দ্বিধা করব না।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে সৌদি যুবরাজ বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। এছাড়া উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সৌদি আরব কাজ করে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোহাম্মদ বিন সালমান জানান, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রাখছে সৌদি আরব। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক পানিপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার ঠেকানোর লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুবরাজ আরও বলেন, নিরাপত্তা রক্ষা এবং উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে সৌদি আরব তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে; পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মানবিক সহায়তার নিরাপদ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যুবরাজ। ইয়েমেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলা এবং ইয়েমেনে সরকারের কর্তৃত্ব ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি জোটের মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরব। পাশাপাশি সুদানের বৈধ প্রতিষ্ঠান ও দেশটির ঐক্য রক্ষায় সমর্থন দিচ্ছে রিয়াদ।

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বিষয়ে যুবরাজ বলেন, ২০২৬ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বছর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এআই-ভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীলতা ও সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানোই সৌদি আরবের লক্ষ্য।