লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেক্সা জয়ের অপেক্ষায় ব্রাজিল: দীর্ঘতম খরায় সেলেসাওরা

১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া ব্রাজিল ফুটবল দল বর্তমানে দীর্ঘতম ট্রফি-খরার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে অংশগ্রহণকারী একমাত্র দল হিসেবে ব্রাজিলের জন্য এবারের অপেক্ষা আসরসংখ্যার বিচারে দীর্ঘতম। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই অপেক্ষার সময়কাল দাঁড়াবে ২৮ বছর।

১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ শুরুর পর প্রথম ট্রফি জিততে ব্রাজিলের সময় লেগেছিল ২৮ বছর। এরপর ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৯৭০ সালে তারা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে জুলেরিমে ট্রফি স্থায়ীভাবে নিজেদের করে নেয়। পরবর্তীতে ২৪ বছরের বিরতি শেষে ১৯৯৪ সালে চতুর্থ এবং ২০০২ সালে পঞ্চম অর্থাৎ ‘পেন্টা’ জয়ের গৌরব অর্জন করে দলটি। তবে ২০০২ সালের পর থেকে ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—এই ছয়টি আসরেই হেক্সা জয়ের স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপে তারকাখচিত দল নিয়ে মাঠে নামলেও কোয়ার্টার ফাইনালে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে কার্লোস দুঙ্গার অধীনে খেলতে গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ ব্যবধানে হার মানে তারা। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের সেই ভয়াবহ পরাজয়টি ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দুঃখের দিন হিসেবে চিহ্নিত, যা ‘মিনেইরাজ্জো’ নামে পরিচিত।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে কাজানে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে নেইমার, রদ্রিগো ও মার্কিনিওসদের নিয়ে গড়া দলটি ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে (১০৫+১) নেইমারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। তবে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে আসর থেকে ছিটকে পড়ে। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমারসহ দলটি শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে। ম্যাচে নেইমার একটি পেনাল্টি গোল করলেও ব্রুনো গিমারাইস একটি পেনাল্টি মিস করেন। এদিকে, নেইমারকে নিয়ে কোচ আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলাররা।

এর মধ্যে কেটে গেছে পাঁচ আসর (১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৫০ ও ১৯৫৪)।

এরপর ২৪ বছরের অপেক্ষায় আবারও পাঁচ আসরে (১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০) ট্রফিশূন্য থাকার পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে চতুর্থ ট্রফির দেখা পায় সেলেসাওরা।ব্রাজিল ‘পেন্টা’ বা বিশ্বকাপে পঞ্চম ট্রফিটি জেতে ২০০২ বিশ্বকাপে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব ও ইসলামের নির্দেশনা

হেক্সা জয়ের অপেক্ষায় ব্রাজিল: দীর্ঘতম খরায় সেলেসাওরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া ব্রাজিল ফুটবল দল বর্তমানে দীর্ঘতম ট্রফি-খরার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে অংশগ্রহণকারী একমাত্র দল হিসেবে ব্রাজিলের জন্য এবারের অপেক্ষা আসরসংখ্যার বিচারে দীর্ঘতম। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই অপেক্ষার সময়কাল দাঁড়াবে ২৮ বছর।

১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ শুরুর পর প্রথম ট্রফি জিততে ব্রাজিলের সময় লেগেছিল ২৮ বছর। এরপর ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৯৭০ সালে তারা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে জুলেরিমে ট্রফি স্থায়ীভাবে নিজেদের করে নেয়। পরবর্তীতে ২৪ বছরের বিরতি শেষে ১৯৯৪ সালে চতুর্থ এবং ২০০২ সালে পঞ্চম অর্থাৎ ‘পেন্টা’ জয়ের গৌরব অর্জন করে দলটি। তবে ২০০২ সালের পর থেকে ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—এই ছয়টি আসরেই হেক্সা জয়ের স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপে তারকাখচিত দল নিয়ে মাঠে নামলেও কোয়ার্টার ফাইনালে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে কার্লোস দুঙ্গার অধীনে খেলতে গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ ব্যবধানে হার মানে তারা। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের সেই ভয়াবহ পরাজয়টি ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দুঃখের দিন হিসেবে চিহ্নিত, যা ‘মিনেইরাজ্জো’ নামে পরিচিত।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে কাজানে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে নেইমার, রদ্রিগো ও মার্কিনিওসদের নিয়ে গড়া দলটি ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে (১০৫+১) নেইমারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। তবে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে আসর থেকে ছিটকে পড়ে। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমারসহ দলটি শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে। ম্যাচে নেইমার একটি পেনাল্টি গোল করলেও ব্রুনো গিমারাইস একটি পেনাল্টি মিস করেন। এদিকে, নেইমারকে নিয়ে কোচ আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলাররা।

এর মধ্যে কেটে গেছে পাঁচ আসর (১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৫০ ও ১৯৫৪)।

এরপর ২৪ বছরের অপেক্ষায় আবারও পাঁচ আসরে (১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০) ট্রফিশূন্য থাকার পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে চতুর্থ ট্রফির দেখা পায় সেলেসাওরা।ব্রাজিল ‘পেন্টা’ বা বিশ্বকাপে পঞ্চম ট্রফিটি জেতে ২০০২ বিশ্বকাপে।