লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম (16 September 2026, 12:00 AM)

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি কাজে গতিশীলতা আনা এবং প্রতিটি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার বিকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বর্তমান সরকারের শাসনামলে অনুষ্ঠিত প্রথম সচিব সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় উপস্থিত একাধিক সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সচিবদের উদ্দেশে ড. নাসিমুল গনি বলেন, দেশের প্রতিটি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে এবং ঘুস ছাড়া ফাইল নড়ছে না। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও ধর্ম উপদেষ্টার মন্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্টের কোনো মূল্য নেই, আমাদের কেউ সম্মান করে না। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে যারা দুর্নীতি করবে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কোনোভাবেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসে দেরিতে আসা এবং তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সরকারের অনুসন্ধানের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকাল ৯টায় অফিসে আসেন না, এমনকি মফস্বল পর্যায়ে অনেকে ১০টার পরও অফিসে আসেন এবং বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে চলে যান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন থেকে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত হতে হবে এবং প্রস্থান করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো অজুহাত বা আবদার গ্রহণ করা হবে না এবং সচিবদের নিয়মিত এটি তদারকি করতে হবে।

শূন্য পদে জনবল নিয়োগের বিষয়ে সচিবদের আইন ও বিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন ড. নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, কোনো ধরনের তদবির, টেলিফোন, প্রলোভন বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কেউ তদবির করলে তা নির্ধারিত নিয়মে সরকারকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া, প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ই-নথি চালুর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ফাইল সিদ্ধান্ত ছাড়া ফেলে রাখা যাবে না। নিষ্পত্তি করা না গেলে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিগত সরকার দেশের আর্থিক খাত ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। এই সংকট মোকাবিলায় মেধা খাটিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানি ও সার আমদানির পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প সোর্স খোঁজা হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সোলার প্যানেলের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে সোলার প্যানেল থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এজন্য সচিবালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সব সরকারি ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করতে হবে। পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক দেশ সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুতের চাহিদা লাঘব করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মাঠ পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকা সত্ত্বেও গত এক মাস ধরে মাঠ পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, যা সরকার কঠোরভাবে মোকাবিলা করেছে। আগামী দিনেও এমন চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, তাই সবাইকে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। জনগণের সেবা যথাসময়ে নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনো ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স

দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম (16 September 2026, 12:00 AM)

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি কাজে গতিশীলতা আনা এবং প্রতিটি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার বিকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বর্তমান সরকারের শাসনামলে অনুষ্ঠিত প্রথম সচিব সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় উপস্থিত একাধিক সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সচিবদের উদ্দেশে ড. নাসিমুল গনি বলেন, দেশের প্রতিটি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে এবং ঘুস ছাড়া ফাইল নড়ছে না। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও ধর্ম উপদেষ্টার মন্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্টের কোনো মূল্য নেই, আমাদের কেউ সম্মান করে না। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে যারা দুর্নীতি করবে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কোনোভাবেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসে দেরিতে আসা এবং তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সরকারের অনুসন্ধানের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকাল ৯টায় অফিসে আসেন না, এমনকি মফস্বল পর্যায়ে অনেকে ১০টার পরও অফিসে আসেন এবং বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে চলে যান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন থেকে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত হতে হবে এবং প্রস্থান করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো অজুহাত বা আবদার গ্রহণ করা হবে না এবং সচিবদের নিয়মিত এটি তদারকি করতে হবে।

শূন্য পদে জনবল নিয়োগের বিষয়ে সচিবদের আইন ও বিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন ড. নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, কোনো ধরনের তদবির, টেলিফোন, প্রলোভন বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কেউ তদবির করলে তা নির্ধারিত নিয়মে সরকারকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া, প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ই-নথি চালুর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ফাইল সিদ্ধান্ত ছাড়া ফেলে রাখা যাবে না। নিষ্পত্তি করা না গেলে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিগত সরকার দেশের আর্থিক খাত ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। এই সংকট মোকাবিলায় মেধা খাটিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানি ও সার আমদানির পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প সোর্স খোঁজা হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সোলার প্যানেলের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে সোলার প্যানেল থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এজন্য সচিবালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সব সরকারি ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করতে হবে। পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক দেশ সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুতের চাহিদা লাঘব করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মাঠ পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকা সত্ত্বেও গত এক মাস ধরে মাঠ পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, যা সরকার কঠোরভাবে মোকাবিলা করেছে। আগামী দিনেও এমন চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, তাই সবাইকে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। জনগণের সেবা যথাসময়ে নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনো ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়।