লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের প্রথম ছয় মাসে ১২ সূচকে উন্নতি, ১৯টিতে অবনতি: সিপিডি

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে ১২টিতে অগ্রগতি হয়েছে, তবে ১৯টি সূচকে অবনতি দেখা দিয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের এক গবেষণায় এই তথ্য তুলে ধরেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে ‘সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক মিডিয়া ডায়ালগে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এই চিত্র উপস্থাপন করেন।

সিপিডির গবেষণায় সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতিকে সচল করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু গত ছয় মাসের পর্যালোচনায় উভয় ক্ষেত্রেই আশানুরূপ অগ্রগতি দেখা যায়নি, বরং অর্থনীতি ও সুশাসন নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে ভঙ্গুর অর্থনীতির উত্তরাধিকার পেয়েছে, যার মধ্যে তারল্য সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা, অনাদায়ী ঋণ, অর্থপাচার ও রাজস্ব ঘাটতি অন্যতম। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি।

সুশাসনের বিষয়ে সিপিডির ফেলো বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট ও ‘মব কালচার’ বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে এর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। তিনি অভিযোগ করেন, ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা সত্ত্বেও মব সহিংসতা চলছে এবং নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় কার্যকর প্রতিরোধের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া গুম ও মানবাধিকার রক্ষায় প্রণীত আইনের ত্রুটি এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে পদায়ন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কী ধরনের সংকট পেয়েছে, সে বিষয়ে সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি না করায়ও তিনি সমালোচনা করেন।

তবে সরকারের কিছু উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ড. দেবপ্রিয়। এর মধ্যে রয়েছে এমপিদের গাড়ি ও প্লটদের গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ। তিনি অর্থনীতিকে দ্রুত সচল করার লক্ষ্যে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণের ওপর জোর দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বুন্ডেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড গড়লেন হ্যারি কেইন

সরকারের প্রথম ছয় মাসে ১২ সূচকে উন্নতি, ১৯টিতে অবনতি: সিপিডি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে ১২টিতে অগ্রগতি হয়েছে, তবে ১৯টি সূচকে অবনতি দেখা দিয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের এক গবেষণায় এই তথ্য তুলে ধরেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে ‘সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক মিডিয়া ডায়ালগে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এই চিত্র উপস্থাপন করেন।

সিপিডির গবেষণায় সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতিকে সচল করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু গত ছয় মাসের পর্যালোচনায় উভয় ক্ষেত্রেই আশানুরূপ অগ্রগতি দেখা যায়নি, বরং অর্থনীতি ও সুশাসন নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে ভঙ্গুর অর্থনীতির উত্তরাধিকার পেয়েছে, যার মধ্যে তারল্য সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা, অনাদায়ী ঋণ, অর্থপাচার ও রাজস্ব ঘাটতি অন্যতম। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি।

সুশাসনের বিষয়ে সিপিডির ফেলো বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট ও ‘মব কালচার’ বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে এর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। তিনি অভিযোগ করেন, ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা সত্ত্বেও মব সহিংসতা চলছে এবং নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় কার্যকর প্রতিরোধের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া গুম ও মানবাধিকার রক্ষায় প্রণীত আইনের ত্রুটি এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে পদায়ন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কী ধরনের সংকট পেয়েছে, সে বিষয়ে সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি না করায়ও তিনি সমালোচনা করেন।

তবে সরকারের কিছু উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ড. দেবপ্রিয়। এর মধ্যে রয়েছে এমপিদের গাড়ি ও প্লটদের গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ। তিনি অর্থনীতিকে দ্রুত সচল করার লক্ষ্যে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণের ওপর জোর দেন।