লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী, দেশের বাজারেও বাড়ার সম্ভাবনা

মার্কিন ডলারের মান দুর্বল হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয় কর্মসূচি বাড়ানোর ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো স্বর্ণের দাম বাড়ার পথে রয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মূল্যবান এই ধাতুর দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের সেশনে দাম জুনের শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ডলারের দাম চলতি সপ্তাহে নিম্নমুখী থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়েছে, যা চাহিদাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সরকার ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর আগে বুধবার ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছিল, আগামী প্রান্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজের বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করে প্রতিটি কার্যক্রমে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। তবে ট্রেজারি বিভাগের এই ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে ফেডের কর্মকর্তারা সতর্কতা জানিয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষকরা স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপথকে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সুদের হারের প্রত্যাশার ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করছেন। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ এবং সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩৭ শতাংশ। এছাড়া ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে শুক্রবার স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬৫ দশমিক ২৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিনটি ধাতুর দামই চলতি সপ্তাহে বাড়ার পথে রয়েছে।

বিশ্ববাজারের এই প্রবণতার ধারাবাহিকতায় দেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবশেষ গত ২০ আগস্ট বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়েছিল। নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে এবং বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ১০৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৫১ দফা কমানো হয়েছে। এছাড়া রুপার দাম ৬৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩০ দফা কমানো হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫৩ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজালাল বিমানবন্দরে ধারাবাহিক অভিযান: ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী, দেশের বাজারেও বাড়ার সম্ভাবনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন ডলারের মান দুর্বল হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয় কর্মসূচি বাড়ানোর ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো স্বর্ণের দাম বাড়ার পথে রয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মূল্যবান এই ধাতুর দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের সেশনে দাম জুনের শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ডলারের দাম চলতি সপ্তাহে নিম্নমুখী থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়েছে, যা চাহিদাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সরকার ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর আগে বুধবার ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছিল, আগামী প্রান্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজের বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করে প্রতিটি কার্যক্রমে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। তবে ট্রেজারি বিভাগের এই ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে ফেডের কর্মকর্তারা সতর্কতা জানিয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষকরা স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপথকে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সুদের হারের প্রত্যাশার ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করছেন। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ এবং সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩৭ শতাংশ। এছাড়া ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে শুক্রবার স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬৫ দশমিক ২৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিনটি ধাতুর দামই চলতি সপ্তাহে বাড়ার পথে রয়েছে।

বিশ্ববাজারের এই প্রবণতার ধারাবাহিকতায় দেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবশেষ গত ২০ আগস্ট বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়েছিল। নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে এবং বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ১০৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৫১ দফা কমানো হয়েছে। এছাড়া রুপার দাম ৬৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩০ দফা কমানো হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫৩ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।