লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের জার্সিতে কেন মোরগের ছবি? লুকিয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ফ্রান্সের জার্সির দিকে তাকালেই একটি বিশেষ প্রতীক—মোরগ—চোখে পড়ে। সিংহ বা ঈগলের মতো প্রচলিত বীরত্বের প্রতীকের পরিবর্তে মোরগ বেছে নেওয়ার পেছনে লুকিয়ে আছে ভাষা, ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের এক দীর্ঘ গল্প।

ফরাসিরা এই প্রতীককে বলে ‘কক গ্যালোয়া’ বা গ্যালিক মোরগ। প্রাচীনকালে বর্তমান ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ অঞ্চল গল (Gaul) নামে পরিচিত ছিল এবং রোমানরা এখানকার বাসিন্দাদের গ্যাল বলে অভিহিত করত। ল্যাটিন ভাষায় ‘Gallus’ শব্দটির দ্বৈত অর্থ রয়েছে—এটি একদিকে যেমন গল অঞ্চলের মানুষকে বোঝায়, তেমনি এর অর্থ মোরগ। ভাষাগত এই মিল থেকেই মোরগ ফরাসি পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। যদিও শুরুতে রোমানরা এই মিল ব্যবহার করে গলবাসীদের ব্যঙ্গ করত, পরবর্তীতে ফরাসিরা একে নিজেদের গর্ব ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে।

ফরাসি সংস্কৃতিতে মোরগ সাহস, সতর্কতা, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন সূচনার প্রতীক। ভোরের আগে মোরগের ডাক নতুন দিনের বার্তার পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন বিভিন্নভাবে এই গ্যালিক মোরগের প্রতীক ব্যবহার করে আসছে, যা পরবর্তীতে জাতীয় দলের জার্সির স্থায়ী অংশে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসহ যেকোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের জার্সিতে থাকা এই মোরগ কেবল একটি নকশা নয়; এটি দেশের ঐতিহ্য, গর্ব এবং কোটি সমর্থকের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। ফুটবলের পাশাপাশি ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও অলিম্পিক দলের জার্সিতেও এই প্রতীকের উপস্থিতি দেখা যায়। প্রতিবার ফরাসি ফুটবলাররা মাঠে নামলে তাদের জার্সির বুকের এই মোরগ যেন পুরো জাতির ইতিহাস ও লড়াইয়ের মানসিকতার গল্প বহন করে নিয়ে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনের মোখায় সৌদি বিমান হামলায় ৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত

ফ্রান্সের জার্সিতে কেন মোরগের ছবি? লুকিয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ফ্রান্সের জার্সির দিকে তাকালেই একটি বিশেষ প্রতীক—মোরগ—চোখে পড়ে। সিংহ বা ঈগলের মতো প্রচলিত বীরত্বের প্রতীকের পরিবর্তে মোরগ বেছে নেওয়ার পেছনে লুকিয়ে আছে ভাষা, ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের এক দীর্ঘ গল্প।

ফরাসিরা এই প্রতীককে বলে ‘কক গ্যালোয়া’ বা গ্যালিক মোরগ। প্রাচীনকালে বর্তমান ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ অঞ্চল গল (Gaul) নামে পরিচিত ছিল এবং রোমানরা এখানকার বাসিন্দাদের গ্যাল বলে অভিহিত করত। ল্যাটিন ভাষায় ‘Gallus’ শব্দটির দ্বৈত অর্থ রয়েছে—এটি একদিকে যেমন গল অঞ্চলের মানুষকে বোঝায়, তেমনি এর অর্থ মোরগ। ভাষাগত এই মিল থেকেই মোরগ ফরাসি পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। যদিও শুরুতে রোমানরা এই মিল ব্যবহার করে গলবাসীদের ব্যঙ্গ করত, পরবর্তীতে ফরাসিরা একে নিজেদের গর্ব ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে।

ফরাসি সংস্কৃতিতে মোরগ সাহস, সতর্কতা, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন সূচনার প্রতীক। ভোরের আগে মোরগের ডাক নতুন দিনের বার্তার পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন বিভিন্নভাবে এই গ্যালিক মোরগের প্রতীক ব্যবহার করে আসছে, যা পরবর্তীতে জাতীয় দলের জার্সির স্থায়ী অংশে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসহ যেকোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের জার্সিতে থাকা এই মোরগ কেবল একটি নকশা নয়; এটি দেশের ঐতিহ্য, গর্ব এবং কোটি সমর্থকের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। ফুটবলের পাশাপাশি ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও অলিম্পিক দলের জার্সিতেও এই প্রতীকের উপস্থিতি দেখা যায়। প্রতিবার ফরাসি ফুটবলাররা মাঠে নামলে তাদের জার্সির বুকের এই মোরগ যেন পুরো জাতির ইতিহাস ও লড়াইয়ের মানসিকতার গল্প বহন করে নিয়ে যায়।