লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, জানালো আল-উইফাক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ইরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তার কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক মেনে নিতে বাধ্য হতে পারেন।

ইরানের সংবাদপত্র আল-উইফাকের প্রধান সম্পাদক মোখতার হাদ্দাদ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ট্রাম্পের কৌশল সম্পর্কে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ইরান মনে করে যে, তিনি সাধারণত শুরুতে অত্যন্ত কঠোর ও উচ্চমাত্রার দাবি সামনে আনেন এবং পরে তা থেকে পিছু হটেন। হাদ্দাদের মতে, আমেরিকান প্রেসিডেন্টের এই সুপরিচিত আচরণের মাধ্যমে ইরান নিশ্চিত হয়েছে যে, তিনি আলোচনার শুরুতে একটি উঁচু সীমা নির্ধারণ করে থাকেন।

হাদ্দাদ আরও বলেন, বর্তমান অচলাবস্থা যত দীর্ঘ হবে, ট্রাম্পের ওপর সমঝোতায় ফেরার চাপও তত বৃদ্ধি পাবে। তার ধারণা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পিছু হটে আবার আলোচনায় ফিরবেন এবং সমঝোতা মেনে নিতে বাধ্য হবেন। তবে ইরান তার কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা আসন্ন নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে—এমন ধারণা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

মোখতার হাদ্দাদ স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরান ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের অপেক্ষায় বসে নেই, বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই নিজেদের প্রস্তুত করছে। তিনি আরও বলেন, ইরানি পক্ষের মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর মৌলিক কোনো আস্থা নেই। ফলে ট্রাম্প ভবিষ্যতে অবস্থান পরিবর্তন করবেন—এমন প্রত্যাশা থাকলেও তেহরান নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত পরিকল্পনা কোনোভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল রাখছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তেহরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, তারা একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খোলা রাখছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত রাখছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার পথে ফিরবেন, নাকি এই অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ ও জটিল সংঘাতে রূপ নেবে?

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে যুবককে হত্যা, আটক ২

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, জানালো আল-উইফাক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ইরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তার কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক মেনে নিতে বাধ্য হতে পারেন।

ইরানের সংবাদপত্র আল-উইফাকের প্রধান সম্পাদক মোখতার হাদ্দাদ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ট্রাম্পের কৌশল সম্পর্কে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ইরান মনে করে যে, তিনি সাধারণত শুরুতে অত্যন্ত কঠোর ও উচ্চমাত্রার দাবি সামনে আনেন এবং পরে তা থেকে পিছু হটেন। হাদ্দাদের মতে, আমেরিকান প্রেসিডেন্টের এই সুপরিচিত আচরণের মাধ্যমে ইরান নিশ্চিত হয়েছে যে, তিনি আলোচনার শুরুতে একটি উঁচু সীমা নির্ধারণ করে থাকেন।

হাদ্দাদ আরও বলেন, বর্তমান অচলাবস্থা যত দীর্ঘ হবে, ট্রাম্পের ওপর সমঝোতায় ফেরার চাপও তত বৃদ্ধি পাবে। তার ধারণা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পিছু হটে আবার আলোচনায় ফিরবেন এবং সমঝোতা মেনে নিতে বাধ্য হবেন। তবে ইরান তার কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা আসন্ন নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে—এমন ধারণা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

মোখতার হাদ্দাদ স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরান ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের অপেক্ষায় বসে নেই, বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই নিজেদের প্রস্তুত করছে। তিনি আরও বলেন, ইরানি পক্ষের মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর মৌলিক কোনো আস্থা নেই। ফলে ট্রাম্প ভবিষ্যতে অবস্থান পরিবর্তন করবেন—এমন প্রত্যাশা থাকলেও তেহরান নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত পরিকল্পনা কোনোভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল রাখছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তেহরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, তারা একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খোলা রাখছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত রাখছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার পথে ফিরবেন, নাকি এই অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ ও জটিল সংঘাতে রূপ নেবে?