লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইসিসি প্রেসিডেন্ট আকানে ও কৌঁসুলি সেয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, ওয়াশিংটনের সম্মতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং গ্রেপ্তারি পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে মার্কিন জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়েকে মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে এমন কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে, যা ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আকানে ও সেয়ের মালিকানাধীন যেকোনো ধরনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা আটকে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি কোনো মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন পরিচালনা করতে পারবে না। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সই করা ‘ইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ শীর্ষক একটি নির্বাহী আদেশের অধীনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান এবং আটজন বিচারকসহ মোট ১০ কর্মকর্তাকে এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল।

মূলত ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর থেকেই আদালতের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, আকানে ও সেয়ে আইসিসির এমন সব কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার না করা দেশগুলোর কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার বা বিচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি আইসিসির এই হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন সরকারের নেওয়া উদ্যোগটি হবে অত্যন্ত ব্যাপক। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধ করে বিশ্বের আরও অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে শামিল হবে। এর আগে গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসির বিরুদ্ধে একটি বিশেষ প্রচারণাও শুরু করে। ক্যাম্প ডেভিডে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও দাবি করেছিলেন, সদস্য নয় এমন দেশের ওপরও এখতিয়ার দাবি করে আইসিসি মূলত নিজেকেই অবৈধ করে তুলেছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেউই আইসিসির সদস্য দেশ নয়। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, রুবিও মূলত ‘বিবি’ (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) ও আরও কয়েকজনকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, আইসিসির ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট এবং এই পদে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম জাপানি নাগরিক তোমোকো আকানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার এই প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। গত ডিসেম্বরে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এসব নিষেধাজ্ঞা বিচারকদের দায়িত্ব পালনের ধরনে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। আকানে জোর দিয়ে বলেন, আইনগত কাঠামোর ব্যাখ্যা ও মামলার বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে তারা কখনোই কারও কোনো ধরনের চাপ মেনে নেবেন না। আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাই তাদের মূল ভিত্তি এবং তা সবসময় অটুট থাকবে। তবে সদ্য ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইসিসির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, জানালো আল-উইফাক

আইসিসি প্রেসিডেন্ট আকানে ও কৌঁসুলি সেয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, ওয়াশিংটনের সম্মতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং গ্রেপ্তারি পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে মার্কিন জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়েকে মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে এমন কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে, যা ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আকানে ও সেয়ের মালিকানাধীন যেকোনো ধরনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা আটকে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি কোনো মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন পরিচালনা করতে পারবে না। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সই করা ‘ইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ শীর্ষক একটি নির্বাহী আদেশের অধীনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান এবং আটজন বিচারকসহ মোট ১০ কর্মকর্তাকে এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল।

মূলত ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর থেকেই আদালতের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, আকানে ও সেয়ে আইসিসির এমন সব কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার না করা দেশগুলোর কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার বা বিচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি আইসিসির এই হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন সরকারের নেওয়া উদ্যোগটি হবে অত্যন্ত ব্যাপক। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধ করে বিশ্বের আরও অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে শামিল হবে। এর আগে গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসির বিরুদ্ধে একটি বিশেষ প্রচারণাও শুরু করে। ক্যাম্প ডেভিডে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও দাবি করেছিলেন, সদস্য নয় এমন দেশের ওপরও এখতিয়ার দাবি করে আইসিসি মূলত নিজেকেই অবৈধ করে তুলেছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেউই আইসিসির সদস্য দেশ নয়। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, রুবিও মূলত ‘বিবি’ (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) ও আরও কয়েকজনকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, আইসিসির ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট এবং এই পদে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম জাপানি নাগরিক তোমোকো আকানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার এই প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। গত ডিসেম্বরে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এসব নিষেধাজ্ঞা বিচারকদের দায়িত্ব পালনের ধরনে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। আকানে জোর দিয়ে বলেন, আইনগত কাঠামোর ব্যাখ্যা ও মামলার বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে তারা কখনোই কারও কোনো ধরনের চাপ মেনে নেবেন না। আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাই তাদের মূল ভিত্তি এবং তা সবসময় অটুট থাকবে। তবে সদ্য ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইসিসির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।