লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে পৌনে ৪ কোটি টাকার স্কুল ভবনে অনিয়মের অভিযোগ

পাবনার ঈশ্বরদীর মিরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ৩ কোটি ৮১ লাখ ৪১ হাজার ৮৮৫ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বসুন্ধারা হাউস বিল্ডার্স’৷

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণকাজে শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, বালু ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মন্নিকা পারভীন জানান, কাজের তদারকির জন্য শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা একাধিকবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের বিষয়ে জানালেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী ম্যানেজার আরিফ ও ঠিকাদার মাজহারুল ইসলাম নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক চাপের কারণে কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য ওহিদুজ্জামান এবং পাবনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাসেল হোসেনের মাধ্যমে ইট ও বালু সরবরাহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ তুলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পাবনার সহকারী প্রকৌশলী সাকিব রেজা জানিয়েছেন, বিভিন্ন মহলের রাজনৈতিক চাপের কারণে তারা নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকি করতে পারছেন না।

তবে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য ওহিদুজ্জামান ও ছাত্রদল নেতা রাসেল হোসেন। তাদের দাবি, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের সামগ্রী দিয়েই ভবনটির কাজ হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জনি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কখনোই তাদের কাছে কোনো প্রতিবন্ধকতার কথা জানায়নি। তিনি বলেন, নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রয়োজন। এদিকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা এই অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেসকোর প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ২৪ ঘণ্টা বিঘ্নের সতর্কতা

ঈশ্বরদীতে পৌনে ৪ কোটি টাকার স্কুল ভবনে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীর মিরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ৩ কোটি ৮১ লাখ ৪১ হাজার ৮৮৫ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বসুন্ধারা হাউস বিল্ডার্স’৷

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণকাজে শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, বালু ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মন্নিকা পারভীন জানান, কাজের তদারকির জন্য শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা একাধিকবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের বিষয়ে জানালেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী ম্যানেজার আরিফ ও ঠিকাদার মাজহারুল ইসলাম নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক চাপের কারণে কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য ওহিদুজ্জামান এবং পাবনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাসেল হোসেনের মাধ্যমে ইট ও বালু সরবরাহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ তুলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পাবনার সহকারী প্রকৌশলী সাকিব রেজা জানিয়েছেন, বিভিন্ন মহলের রাজনৈতিক চাপের কারণে তারা নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকি করতে পারছেন না।

তবে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য ওহিদুজ্জামান ও ছাত্রদল নেতা রাসেল হোসেন। তাদের দাবি, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের সামগ্রী দিয়েই ভবনটির কাজ হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জনি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কখনোই তাদের কাছে কোনো প্রতিবন্ধকতার কথা জানায়নি। তিনি বলেন, নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রয়োজন। এদিকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা এই অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।