লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলের অটিজম, চুল না কাটার পেছনে কুকুরেয়ার আবেগঘন গল্প

ফুটবলারদের বাবরি দোলানো ঝাঁকড়া চুলের একটা সোনালী সময় ছিল। আশির দশক থেকে শুরু করে দুই হাজার সালের পূর্ব পর্যন্ত এই স্টাইলটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। কার্লোস ভালদেরামো, ডেভিড বেকহ্যাম, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা কিংবা রোনালদিনহোর মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা মাঠ মাতিয়েছেন তাদের ঝাঁকড়া চুলে। তবে সময়ের সাথে সাথে খেলোয়াড়দের ফ্যাশনে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সময়ে ফুটবলাররা সাধারণত ফেড কাট দিয়ে মাঠে নামতেই বেশি পছন্দ করেন।

এই আধুনিক ট্রেন্ডের মধ্যেও ব্যতিক্রমী কয়েকজন হলেন স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া, মাতেও গুয়েন্ডোজি এবং বাংলাদেশি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। বিশেষ করে কুকুরেয়ার লম্বা চুল রাখার পেছনে লুকিয়ে আছে এক আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক গল্প। অন্যদের মতো তিনি চাইলেই নিজের চুল কাঁচির নিচে সঁপে দিতে পারেন না। সম্প্রতি ২৮ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নিজেই জানিয়েছেন সেই নেপথ্য কাহিনী।

কুকুরেয়ার এই চুল না কাটার কারণ তার বড় ছেলে। এই ফুটবলারের ঘরে রয়েছে তিন সন্তান—মাতেও, রিও ও বেলা। তাদের মধ্যে বড় ছেলে মাতেও অটিজমে আক্রান্ত। মাত্র ৩ বছর বয়সে তার এই বিশেষ সমস্যাটি শনাক্ত হয়। মাতেও তার বাবার লম্বা চুল ভীষণ পছন্দ করে, আর সে কারণেই কুকুরেয়া চুল কাটেন না।

এর পেছনে কুকুরেয়ার মনে কাজ করে এক গভীর পিতৃত্বের ভয়। তিনি আশঙ্কা করেন, যদি কখনো তার ছেলে তাকে ভুলে যায়, তবে এই লম্বা চুল দেখেই যেন মাতেও তাকে সহজে চিনতে পারে। এমনকি ছেলে মাতেওর চুলও তার বাবার মতোই লম্বা রাখা হয়েছে।

স্পেনের এই ডিফেন্ডার নিজের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছেলের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অশ্রুসিক্ত চোখে বিশ্বকাপজয়ী কুকুরেয়া বলেন, আমার একটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তান রয়েছে। আমার সমস্ত টাকা-পয়সা না থাকলেও চলত, যদি আমার ছেলেটি পুরোপুরি সুস্থ থাকত। আমার ছেলে এই চুল পছন্দ করে বলেই আমি এটি বড় করেছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢামেকের ৮ তলা থেকে লাফিয়ে চিকিৎসাধীন তরুণীর মৃত্যু

ছেলের অটিজম, চুল না কাটার পেছনে কুকুরেয়ার আবেগঘন গল্প

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ফুটবলারদের বাবরি দোলানো ঝাঁকড়া চুলের একটা সোনালী সময় ছিল। আশির দশক থেকে শুরু করে দুই হাজার সালের পূর্ব পর্যন্ত এই স্টাইলটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। কার্লোস ভালদেরামো, ডেভিড বেকহ্যাম, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা কিংবা রোনালদিনহোর মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা মাঠ মাতিয়েছেন তাদের ঝাঁকড়া চুলে। তবে সময়ের সাথে সাথে খেলোয়াড়দের ফ্যাশনে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সময়ে ফুটবলাররা সাধারণত ফেড কাট দিয়ে মাঠে নামতেই বেশি পছন্দ করেন।

এই আধুনিক ট্রেন্ডের মধ্যেও ব্যতিক্রমী কয়েকজন হলেন স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া, মাতেও গুয়েন্ডোজি এবং বাংলাদেশি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। বিশেষ করে কুকুরেয়ার লম্বা চুল রাখার পেছনে লুকিয়ে আছে এক আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক গল্প। অন্যদের মতো তিনি চাইলেই নিজের চুল কাঁচির নিচে সঁপে দিতে পারেন না। সম্প্রতি ২৮ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নিজেই জানিয়েছেন সেই নেপথ্য কাহিনী।

কুকুরেয়ার এই চুল না কাটার কারণ তার বড় ছেলে। এই ফুটবলারের ঘরে রয়েছে তিন সন্তান—মাতেও, রিও ও বেলা। তাদের মধ্যে বড় ছেলে মাতেও অটিজমে আক্রান্ত। মাত্র ৩ বছর বয়সে তার এই বিশেষ সমস্যাটি শনাক্ত হয়। মাতেও তার বাবার লম্বা চুল ভীষণ পছন্দ করে, আর সে কারণেই কুকুরেয়া চুল কাটেন না।

এর পেছনে কুকুরেয়ার মনে কাজ করে এক গভীর পিতৃত্বের ভয়। তিনি আশঙ্কা করেন, যদি কখনো তার ছেলে তাকে ভুলে যায়, তবে এই লম্বা চুল দেখেই যেন মাতেও তাকে সহজে চিনতে পারে। এমনকি ছেলে মাতেওর চুলও তার বাবার মতোই লম্বা রাখা হয়েছে।

স্পেনের এই ডিফেন্ডার নিজের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছেলের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অশ্রুসিক্ত চোখে বিশ্বকাপজয়ী কুকুরেয়া বলেন, আমার একটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তান রয়েছে। আমার সমস্ত টাকা-পয়সা না থাকলেও চলত, যদি আমার ছেলেটি পুরোপুরি সুস্থ থাকত। আমার ছেলে এই চুল পছন্দ করে বলেই আমি এটি বড় করেছি।