লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মামলা করলে ফের মারধরের হুমকি, নড়িয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জিডি

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে কর্মরত এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর নিজের ও সহকর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

জিডির বিবরণ অনুযায়ী, গত ২ জুন দুপুর প্রায় ২টার দিকে তৌফিকুল ইসলাম তার দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর সেখানে উপস্থিত হয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর অবস্থান জানতে চান। প্রকৌশলী রাস্তার কাজ পরিদর্শনে বাইরে রয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর মতিউর রহমান ক্ষুব্ধ হয়ে অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরিচয় জানতে চাইলে মতিউর রহমান নিজেকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলামের শার্টের কলার চেপে ধরে তাকে চড় মারেন। সেই সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের হুমকিও দেন তিনি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ভুক্তভোগী প্রকৌশলীর অভিযোগ, কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় মতিউর রহমান তাকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, এই ঘটনায় যদি কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে তিনি আবারও অফিসে এসে মারধর করবেন এবং ক্ষতি করবেন। এই ঘটনার পর থেকে এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

এতদিন পর জিডি করার কারণ জানতে চাইলে তৌফিকুল ইসলাম জানান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত মতিউর রহমান সাগরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অভিযোগে মারধর ও হুমকির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরিয়ার আলেপ্পোয় সেনা ঘাঁটিতে পরপর শক্তিশালী বিস্ফোরণ

মামলা করলে ফের মারধরের হুমকি, নড়িয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জিডি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে কর্মরত এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর নিজের ও সহকর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

জিডির বিবরণ অনুযায়ী, গত ২ জুন দুপুর প্রায় ২টার দিকে তৌফিকুল ইসলাম তার দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর সেখানে উপস্থিত হয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর অবস্থান জানতে চান। প্রকৌশলী রাস্তার কাজ পরিদর্শনে বাইরে রয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর মতিউর রহমান ক্ষুব্ধ হয়ে অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরিচয় জানতে চাইলে মতিউর রহমান নিজেকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলামের শার্টের কলার চেপে ধরে তাকে চড় মারেন। সেই সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের হুমকিও দেন তিনি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ভুক্তভোগী প্রকৌশলীর অভিযোগ, কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় মতিউর রহমান তাকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, এই ঘটনায় যদি কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে তিনি আবারও অফিসে এসে মারধর করবেন এবং ক্ষতি করবেন। এই ঘটনার পর থেকে এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

এতদিন পর জিডি করার কারণ জানতে চাইলে তৌফিকুল ইসলাম জানান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত মতিউর রহমান সাগরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অভিযোগে মারধর ও হুমকির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।