লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই এদেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি।

বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে, একেই দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এই সম্প্রীতি আমাদের শক্তি এবং যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় ও আপসহীন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার পরামর্শ দেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এই দেশ সকলের এবং সবাই মিলে দেশ গড়তে হবে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়ই এই উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। সকল ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এর আগে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও সাত মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৭৩ জন

সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই এদেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি।

বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে, একেই দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এই সম্প্রীতি আমাদের শক্তি এবং যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় ও আপসহীন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার পরামর্শ দেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এই দেশ সকলের এবং সবাই মিলে দেশ গড়তে হবে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়ই এই উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। সকল ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এর আগে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।