লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কায়রোর স্বাধীন সংগীত ও নিজের পথচলা নিয়ে তামের আবু গাজালেহ

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মিসরীয় সংগীতশিল্পী তামের আবু গাজালেহ আরব বিশ্বের স্বাধীন সংগীত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও শিল্পী। কায়রোয় জন্মগ্রহণ করা এই গায়ক, সুরকার ও বহু বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী সংগীতজ্ঞ কায়রোর স্বাধীন সংগীতের প্রসারে ‘একা৩’ প্ল্যাটফর্ম এবং এর সহযোগী সংগীত লেবেল ‘মোস্তাকেল’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রচলিত সংগীত কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন ভাষা খোঁজার পাশাপাশি স্বাধীন শিল্পীদের জন্য বিকল্প অবকাঠামো তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বার্লিনে আন্তর্জাতিক সংগীতদল ‘আলিফ’-এর সফর চলাকালে সাউন্ডচেকের আগে সংগীত সাংবাদিক এরিক ম্যান্ডেলের সঙ্গে এক দীর্ঘ আলাপে তিনি নিজের অ্যালবামের কাজের গল্প, প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও আরব বিশ্বের পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় স্বাধীন সংগীতের অবস্থান তুলে ধরেন।

২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের নিয়ে গঠিত হয় ব্যান্ড ‘আলিফ’। এই দলে তামেরের পাশাপাশি রয়েছেন ইরাকি-ব্রিটিশ উদবাদক খাইয়াম আল্লামি, মিসরীয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পী মরিস লুকা, লেবানিজ পারকাশনবাদক খালেদ ইয়াসিন এবং বেজবাদক বাশার ফাররান। তামের জানান, শুরু থেকেই ভৌগোলিক সীমানার বাধা ভেঙে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। গত বছর দলটি প্রকাশ করে তাদের অ্যালবাম ‘হোয়াটএভার ইট ফলস’। তবে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে রিহার্সাল ও অনুষ্ঠানের জন্য মিসর বা লেবাননে বিমানে যাতায়াতসহ নানাবিধ সাংগঠনিক জটিলতা সামলাতে হয় তাঁদের।

আরব অঞ্চলের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তামের উল্লেখ করেন, গত ষাট বছর ধরে কায়রো ও বৈরুত ছিল সংগীত, সাহিত্য ও গণমাধ্যমের মূল কেন্দ্র। তবে বিগত দশকে ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন জর্ডান, ফিলিস্তিন, তিউনিসিয়া ও মরক্কোর শিল্পীরা সরাসরি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। আগে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান প্রধানত কায়রো ও বৈরুতকেন্দ্রিক থাকলেও এখন যেকোনো জায়গা থেকেই শিল্পীদের কাজ শোনা ও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে।

মিসরের রাজনৈতিক ও স্বাধীন সংগীতের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তামের বলেন, দেশটির আন্ডারগ্রাউন্ড সংগীতজগতে শ্রোতার অভাব নেই। কায়রোয় অত্যন্ত পরীক্ষামূলক সংগীতের আয়োজন হলেও কয়েক শ মানুুষ সেখানে জড়ো হন। কিন্তু অর্থায়নের মারাত্মক সংকট রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ মূলত বাণিজ্যমুখী পপ সংগীতে যায় এবং সরকারি বরাদ্দ গুটিকয়েক সরকারি প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে স্বাধীন শিল্পীদের নিজস্ব শক্তিতে টিকে থাকতে হয়। ভেন্যুর চড়া ভাড়া এবং সুলভ সাউন্ড সরঞ্জাম ও বাদ্যযন্ত্রের অভাবের কারণে শ্রোতা ও শিল্পীর মধ্যে স্থায়ী যোগাযোগের অবকাঠামো গড়ে উঠছে না।

এই অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করতেই জন্ম নেয় ‘একা৩’। ২০০৭ সালে এটিকে কেবল সংগীত লেবেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলেও পরে পুরো পরিবেশ তৈরির তাগিদ অনুভব করেন উদ্যোক্তারা। অ্যালবামের প্রকাশনা ছাড়াও এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিতরণ ব্যবস্থা, আলমোহরেক নামের বুকিং এজেন্সি, আওয়াভ প্রকাশনা সংস্থা এবং সংগীত পর্যালোচনার ওয়েবসাইট Ma3azef.com। একই সঙ্গে প্রায় নয় বছর আগে শুরু হওয়া ‘মোস্তাকেল’ লেবেলের মাধ্যমে বিকল্প ঘরানার নতুন সংগীত প্রচার করা শুরু হয়। শুরুর দিকে সব ধরনের বিকল্প গান প্রকাশ করলেও সময়ের সাথে মোস্তাকেলে স্বতন্ত্র গীতিকার-সুরকারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। যেমন মরিয়ম সালেহ ও জেইদ হামদানের সংগীতে ট্রিপ-হপ ও ইন্ডি পপের সংমিশ্রণ এবং জর্ডানের এল মোরাব্বা ব্যান্ডের সাইকেডেলিক রকের কাজকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।

তামের আবু গাজালেহের নিজের সংগীতচর্চার শুরুটাও বেশ ব্যতিক্রমী। মাত্র দুই বছর বয়স থেকে মায়ের সংগীতদলে গান গাওয়া শুরু করেছিলেন তিনি। ১৫ বছর বয়সে প্রকাশিত তাঁর প্রথম অ্যালবামে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে ধারণ করা বিভিন্ন গান ঠাঁই পায়, যা তাঁর শৈশব থেকে কণ্ঠের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। কায়রোয় বেড়ে উঠলেও পরবর্তীতে তিনি রামাল্লায় এডওয়ার্ড সাঈদ ন্যাশনাল কনজারভেটরিতে খালেদ জুবরানের অধীনে সংগীতের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেন। ফিলিস্তিন থেকে কায়রোয় নির্বাসিত তাঁর বাবা-মায়ের জীবনে অসলো চুক্তির পর পরিবর্তন আসে। পিএলওর সাধারণ পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁর মা বৈঠকে যোগ দিতে ফিলিস্তিন যাওয়ার সুযোগ পেলে তাঁদের পুরো পরিবার রামাল্লায় ফেরার প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পায়।

প্রধানত উদ ও বুজুক বাজাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা তামেরের ‘থুলথেইং’ অ্যালবামটির গান তৈরি করতে প্রায় নয় বছর সময় লেগেছিল। তিনি জানান, রানি ব্যান্ডের কুইনের ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’ গানটি তাঁকে প্রচলিত সরলরৈখিক সুরের বাইরে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছিল। এই অ্যালবামে তিনি কায়স ইবন আল-মুলাওয়াহর প্রাচীন আরবি কবিতা ‘হোভ’ ব্যবহার করেছেন, যেখানে কবিতার প্রথাগত ছন্দ ভেঙে নতুন সুরারোপ করা হয়, যা ঐতিহ্যপন্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এছাড়া মরিয়ম সালেহের ‘মেশ বাঘান্নি’ অ্যালবামে রকের সাথে মিসরীয় লোকসংগীতের মিশ্রণ ও মরিয়মের তীব্র তীক্ষ্ণ কণ্ঠকে ফুটিয়ে তোলার কাজ পরিচালনা করেছিলেন তিনি।

মিসরের স্থানীয় সংগীতের প্রসঙ্গে তামের জানান, কায়রোর আসল আন্ডারগ্রাউন্ড সংগীত দৃশ্যপট গড়ে উঠেছে ‘শাবি’ এবং ‘মাহরাগানাত’ ঘরানাকে কেন্দ্র করে, যা নিজস্ব এলাকাকেন্দ্রিক উপসংস্কৃতি দ্বারা পরিচালিত। অপরদিকে র‍্যাপ ও হিপ-হপ অনলাইনে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হলেও সরাসরি পরিবেশনার লাইভ আন্দোলন হিসেবে এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠেনি। এছাড়া কায়রোর অনেক টেকনো প্রযোজক কৃত্রিমতা এড়াতে নিজেদের সংগীতে আরবি বা লোকসংগীতের ঐতিহ্যবাহী উপাদান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকেন।

আরব সংগীত শিল্পে ভবিষ্যৎমুখী ধারার উত্থান নিয়ে তামের আবু গাজালেহ মনে করেন, ঐতিহ্যকেন্দ্রিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণেরা বিশ্ব সংগীতের সাথে তাল মেলাচ্ছেন। যদিও ‘মিসরীয় ভবিষ্যতবাদ’ এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট রূপ নেয়নি, তবে ঐতিহ্য ও আধুনিক শব্দের সংমিশ্রণে ভবিষ্যতের নতুন সংগীত সৃষ্টির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই জোর কদমে শুরু হয়ে গেছে। কায়রো, বৈরুত ও রামাল্লার স্মৃতি, নির্বাসন এবং আধুনিক নগর জীবনের গতিকে একসুরে বেঁধে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এই ফিলিস্তিনি-মিসরীয় সংগীতশিল্পী।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকৃতির গল্প ও হারিয়ে যাওয়া বন্য প্রাণীর দিনলিপি

কায়রোর স্বাধীন সংগীত ও নিজের পথচলা নিয়ে তামের আবু গাজালেহ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মিসরীয় সংগীতশিল্পী তামের আবু গাজালেহ আরব বিশ্বের স্বাধীন সংগীত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও শিল্পী। কায়রোয় জন্মগ্রহণ করা এই গায়ক, সুরকার ও বহু বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী সংগীতজ্ঞ কায়রোর স্বাধীন সংগীতের প্রসারে ‘একা৩’ প্ল্যাটফর্ম এবং এর সহযোগী সংগীত লেবেল ‘মোস্তাকেল’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রচলিত সংগীত কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন ভাষা খোঁজার পাশাপাশি স্বাধীন শিল্পীদের জন্য বিকল্প অবকাঠামো তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বার্লিনে আন্তর্জাতিক সংগীতদল ‘আলিফ’-এর সফর চলাকালে সাউন্ডচেকের আগে সংগীত সাংবাদিক এরিক ম্যান্ডেলের সঙ্গে এক দীর্ঘ আলাপে তিনি নিজের অ্যালবামের কাজের গল্প, প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও আরব বিশ্বের পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় স্বাধীন সংগীতের অবস্থান তুলে ধরেন।

২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের নিয়ে গঠিত হয় ব্যান্ড ‘আলিফ’। এই দলে তামেরের পাশাপাশি রয়েছেন ইরাকি-ব্রিটিশ উদবাদক খাইয়াম আল্লামি, মিসরীয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পী মরিস লুকা, লেবানিজ পারকাশনবাদক খালেদ ইয়াসিন এবং বেজবাদক বাশার ফাররান। তামের জানান, শুরু থেকেই ভৌগোলিক সীমানার বাধা ভেঙে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। গত বছর দলটি প্রকাশ করে তাদের অ্যালবাম ‘হোয়াটএভার ইট ফলস’। তবে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে রিহার্সাল ও অনুষ্ঠানের জন্য মিসর বা লেবাননে বিমানে যাতায়াতসহ নানাবিধ সাংগঠনিক জটিলতা সামলাতে হয় তাঁদের।

আরব অঞ্চলের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তামের উল্লেখ করেন, গত ষাট বছর ধরে কায়রো ও বৈরুত ছিল সংগীত, সাহিত্য ও গণমাধ্যমের মূল কেন্দ্র। তবে বিগত দশকে ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন জর্ডান, ফিলিস্তিন, তিউনিসিয়া ও মরক্কোর শিল্পীরা সরাসরি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। আগে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান প্রধানত কায়রো ও বৈরুতকেন্দ্রিক থাকলেও এখন যেকোনো জায়গা থেকেই শিল্পীদের কাজ শোনা ও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে।

মিসরের রাজনৈতিক ও স্বাধীন সংগীতের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তামের বলেন, দেশটির আন্ডারগ্রাউন্ড সংগীতজগতে শ্রোতার অভাব নেই। কায়রোয় অত্যন্ত পরীক্ষামূলক সংগীতের আয়োজন হলেও কয়েক শ মানুুষ সেখানে জড়ো হন। কিন্তু অর্থায়নের মারাত্মক সংকট রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ মূলত বাণিজ্যমুখী পপ সংগীতে যায় এবং সরকারি বরাদ্দ গুটিকয়েক সরকারি প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে স্বাধীন শিল্পীদের নিজস্ব শক্তিতে টিকে থাকতে হয়। ভেন্যুর চড়া ভাড়া এবং সুলভ সাউন্ড সরঞ্জাম ও বাদ্যযন্ত্রের অভাবের কারণে শ্রোতা ও শিল্পীর মধ্যে স্থায়ী যোগাযোগের অবকাঠামো গড়ে উঠছে না।

এই অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করতেই জন্ম নেয় ‘একা৩’। ২০০৭ সালে এটিকে কেবল সংগীত লেবেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলেও পরে পুরো পরিবেশ তৈরির তাগিদ অনুভব করেন উদ্যোক্তারা। অ্যালবামের প্রকাশনা ছাড়াও এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিতরণ ব্যবস্থা, আলমোহরেক নামের বুকিং এজেন্সি, আওয়াভ প্রকাশনা সংস্থা এবং সংগীত পর্যালোচনার ওয়েবসাইট Ma3azef.com। একই সঙ্গে প্রায় নয় বছর আগে শুরু হওয়া ‘মোস্তাকেল’ লেবেলের মাধ্যমে বিকল্প ঘরানার নতুন সংগীত প্রচার করা শুরু হয়। শুরুর দিকে সব ধরনের বিকল্প গান প্রকাশ করলেও সময়ের সাথে মোস্তাকেলে স্বতন্ত্র গীতিকার-সুরকারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। যেমন মরিয়ম সালেহ ও জেইদ হামদানের সংগীতে ট্রিপ-হপ ও ইন্ডি পপের সংমিশ্রণ এবং জর্ডানের এল মোরাব্বা ব্যান্ডের সাইকেডেলিক রকের কাজকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।

তামের আবু গাজালেহের নিজের সংগীতচর্চার শুরুটাও বেশ ব্যতিক্রমী। মাত্র দুই বছর বয়স থেকে মায়ের সংগীতদলে গান গাওয়া শুরু করেছিলেন তিনি। ১৫ বছর বয়সে প্রকাশিত তাঁর প্রথম অ্যালবামে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে ধারণ করা বিভিন্ন গান ঠাঁই পায়, যা তাঁর শৈশব থেকে কণ্ঠের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। কায়রোয় বেড়ে উঠলেও পরবর্তীতে তিনি রামাল্লায় এডওয়ার্ড সাঈদ ন্যাশনাল কনজারভেটরিতে খালেদ জুবরানের অধীনে সংগীতের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেন। ফিলিস্তিন থেকে কায়রোয় নির্বাসিত তাঁর বাবা-মায়ের জীবনে অসলো চুক্তির পর পরিবর্তন আসে। পিএলওর সাধারণ পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁর মা বৈঠকে যোগ দিতে ফিলিস্তিন যাওয়ার সুযোগ পেলে তাঁদের পুরো পরিবার রামাল্লায় ফেরার প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পায়।

প্রধানত উদ ও বুজুক বাজাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা তামেরের ‘থুলথেইং’ অ্যালবামটির গান তৈরি করতে প্রায় নয় বছর সময় লেগেছিল। তিনি জানান, রানি ব্যান্ডের কুইনের ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’ গানটি তাঁকে প্রচলিত সরলরৈখিক সুরের বাইরে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছিল। এই অ্যালবামে তিনি কায়স ইবন আল-মুলাওয়াহর প্রাচীন আরবি কবিতা ‘হোভ’ ব্যবহার করেছেন, যেখানে কবিতার প্রথাগত ছন্দ ভেঙে নতুন সুরারোপ করা হয়, যা ঐতিহ্যপন্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এছাড়া মরিয়ম সালেহের ‘মেশ বাঘান্নি’ অ্যালবামে রকের সাথে মিসরীয় লোকসংগীতের মিশ্রণ ও মরিয়মের তীব্র তীক্ষ্ণ কণ্ঠকে ফুটিয়ে তোলার কাজ পরিচালনা করেছিলেন তিনি।

মিসরের স্থানীয় সংগীতের প্রসঙ্গে তামের জানান, কায়রোর আসল আন্ডারগ্রাউন্ড সংগীত দৃশ্যপট গড়ে উঠেছে ‘শাবি’ এবং ‘মাহরাগানাত’ ঘরানাকে কেন্দ্র করে, যা নিজস্ব এলাকাকেন্দ্রিক উপসংস্কৃতি দ্বারা পরিচালিত। অপরদিকে র‍্যাপ ও হিপ-হপ অনলাইনে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হলেও সরাসরি পরিবেশনার লাইভ আন্দোলন হিসেবে এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠেনি। এছাড়া কায়রোর অনেক টেকনো প্রযোজক কৃত্রিমতা এড়াতে নিজেদের সংগীতে আরবি বা লোকসংগীতের ঐতিহ্যবাহী উপাদান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকেন।

আরব সংগীত শিল্পে ভবিষ্যৎমুখী ধারার উত্থান নিয়ে তামের আবু গাজালেহ মনে করেন, ঐতিহ্যকেন্দ্রিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণেরা বিশ্ব সংগীতের সাথে তাল মেলাচ্ছেন। যদিও ‘মিসরীয় ভবিষ্যতবাদ’ এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট রূপ নেয়নি, তবে ঐতিহ্য ও আধুনিক শব্দের সংমিশ্রণে ভবিষ্যতের নতুন সংগীত সৃষ্টির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই জোর কদমে শুরু হয়ে গেছে। কায়রো, বৈরুত ও রামাল্লার স্মৃতি, নির্বাসন এবং আধুনিক নগর জীবনের গতিকে একসুরে বেঁধে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এই ফিলিস্তিনি-মিসরীয় সংগীতশিল্পী।