লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডারউইনে তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন তানজিদ হাসান। ডারউইনের সবুজ উইকেটে প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজলউড ও বিউ ওয়েবস্টারদের মতো বোলারদের মোকাবিলা করে ১৮৮ বলে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।

ইনিংসের ৬৪তম ওভারের শেষ বলে নাথান লায়নকে লং অফে ঠেলে দিয়ে এক রান নেওয়ার সময় নাজমুল হোসেনকে অতিক্রম করে শূন্যে লাফিয়ে নিজের শতরান উদ্‌যাপন করেন তানজিদ। এই সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ দলও বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছেছে। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ২৩০ রান সংগ্রহ করেছিল, যেখানে দ্বিতীয় দিনেও তানজিদের দুর্দান্ত ব্যাটিং বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯০ রানের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

তানজিদের এই ইনিংসটি বিস্ময়কর ছিল কারণ এটি তার ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট। ড্রাইভ, পাঞ্চ কিংবা ওয়েবস্টারের বলে মারা ছক্কায় তিনি কোনো জড়তা দেখাননি। মুমিনুল হকের সঙ্গে তার ১০২ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিটি বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যদিও মুমিনুল ৪৯ রানে আউট হয়ে যান। কিন্তু মুমিনুল আউট হয়ে যাওয়ায় ২০০৩ সালে কেয়ার্নসে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে হাবিবুল বাশার ও হান্নান সরকারের ১০৮ রানের জুটিই এখনো সর্বোচ্চের আসীনে থেকে গেছে। তানজিদের প্রথম ৫০ এসেছে ১০২ বলে, চার ছিল ৫টি। সেঞ্চুরির পর তানজিদ ১০১ রানে নাথান লায়নের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। লায়নকে ছক্কা মারতে গিয়ে ১০১ রানের মাথায় ক্যাচ দিয়েছেন লং অফে। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট করে কাল শেষ সেশনেই ১ উইকেটে ৯৬ করে ফেলেছিল বাংলাদেশ।

ম্যাচের আগে স্টিভেন স্মিথ ডারউইনের উইকেটকে ‘ট্রিকি’ বলে বাংলাদেশের জন্য ভয়ের আবহ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তবে তানজিদ ও তার সতীর্থরা সেই মাইন্ডগেমকে পাত্তা দেননি। এমনকি ব্যক্তিগত ৬২ রানের সময় স্মিথের হাত ফসকে তানজিদের একটি ক্যাচ বেঁচে যাওয়ার বিষয়টিও স্মিথের সেই ‘ট্রিকি’ মন্তব্যের বিপরীতে একটি মজার রসদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্মিথের সেই কথাকে ভুল প্রমাণ করে তানজিদ ও নাজমুলের ব্যাটিং বাংলাদেশ দলকে চালকের আসনে বসিয়েছে।

তবে ৪০টি ওয়ানডে আর ৫৩টি টি–টুয়েন্টি খেলে ফেলায় তানজিদকে পরিচয় করিয়ে দিতে খুব বেশি কিছু বলার দরকার পড়ে না।

ওয়ানডেতে ৯ ফিফটির সঙ্গে তো সেঞ্চুরিও আছে একটি।.দেখার বাকি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে তিনি কেমন করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

যান্ত্রিক ত্রুটিতে ফের বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট

ডারউইনে তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:২৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন তানজিদ হাসান। ডারউইনের সবুজ উইকেটে প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজলউড ও বিউ ওয়েবস্টারদের মতো বোলারদের মোকাবিলা করে ১৮৮ বলে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।

ইনিংসের ৬৪তম ওভারের শেষ বলে নাথান লায়নকে লং অফে ঠেলে দিয়ে এক রান নেওয়ার সময় নাজমুল হোসেনকে অতিক্রম করে শূন্যে লাফিয়ে নিজের শতরান উদ্‌যাপন করেন তানজিদ। এই সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ দলও বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছেছে। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ২৩০ রান সংগ্রহ করেছিল, যেখানে দ্বিতীয় দিনেও তানজিদের দুর্দান্ত ব্যাটিং বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯০ রানের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

তানজিদের এই ইনিংসটি বিস্ময়কর ছিল কারণ এটি তার ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট। ড্রাইভ, পাঞ্চ কিংবা ওয়েবস্টারের বলে মারা ছক্কায় তিনি কোনো জড়তা দেখাননি। মুমিনুল হকের সঙ্গে তার ১০২ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিটি বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যদিও মুমিনুল ৪৯ রানে আউট হয়ে যান। কিন্তু মুমিনুল আউট হয়ে যাওয়ায় ২০০৩ সালে কেয়ার্নসে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে হাবিবুল বাশার ও হান্নান সরকারের ১০৮ রানের জুটিই এখনো সর্বোচ্চের আসীনে থেকে গেছে। তানজিদের প্রথম ৫০ এসেছে ১০২ বলে, চার ছিল ৫টি। সেঞ্চুরির পর তানজিদ ১০১ রানে নাথান লায়নের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। লায়নকে ছক্কা মারতে গিয়ে ১০১ রানের মাথায় ক্যাচ দিয়েছেন লং অফে। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট করে কাল শেষ সেশনেই ১ উইকেটে ৯৬ করে ফেলেছিল বাংলাদেশ।

ম্যাচের আগে স্টিভেন স্মিথ ডারউইনের উইকেটকে ‘ট্রিকি’ বলে বাংলাদেশের জন্য ভয়ের আবহ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তবে তানজিদ ও তার সতীর্থরা সেই মাইন্ডগেমকে পাত্তা দেননি। এমনকি ব্যক্তিগত ৬২ রানের সময় স্মিথের হাত ফসকে তানজিদের একটি ক্যাচ বেঁচে যাওয়ার বিষয়টিও স্মিথের সেই ‘ট্রিকি’ মন্তব্যের বিপরীতে একটি মজার রসদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্মিথের সেই কথাকে ভুল প্রমাণ করে তানজিদ ও নাজমুলের ব্যাটিং বাংলাদেশ দলকে চালকের আসনে বসিয়েছে।

তবে ৪০টি ওয়ানডে আর ৫৩টি টি–টুয়েন্টি খেলে ফেলায় তানজিদকে পরিচয় করিয়ে দিতে খুব বেশি কিছু বলার দরকার পড়ে না।

ওয়ানডেতে ৯ ফিফটির সঙ্গে তো সেঞ্চুরিও আছে একটি।.দেখার বাকি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে তিনি কেমন করেন।