লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বমঞ্চে কমছে ট্রাম্পের প্রভাব, অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে মার্কিন প্রশাসন

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ পিএম। বিশ্বমঞ্চে নিজের হারানো প্রভাব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপক তৎপরতা চালালেও তা কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনছে না। তার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোতে ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানই মূলত বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে এমন প্রতিরোধের জন্ম দিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের কঠোর ভাষণের পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হলেও তাতে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি, যা কার্যত ব্যর্থতারই শামিল।

ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিতে ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্র দেশগুলো অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বিদেশি হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তার দেশের জলসীমায় রণতরী পাঠানোর চেয়ে বরং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অর্থের প্রবাহ বন্ধে সহযোগিতা প্রয়োজন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত লোহিত সাগর ও ইয়েমেন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে, যেখানে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে আসছে। এছাড়া চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই মাস বাড়ানো ছাড়া বড় কোনো সাফল্য আসেনি। বেইজিংয়ের বিরল খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পের নমনীয় অবস্থানকে বিশ্লেষকরা বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের ফল হিসেবে দেখছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধে সীমিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও খুব একটা সফল হয়নি। গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সমঝোতা হলেও এটি ট্রাম্পের আগের মালিকানা দাবির তুলনায় অনেক সীমিত। ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমার উল্লেখ করেছেন, এক বছর আগের তুলনায় এখন কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে ‘না’ বলার সাহস দেখাচ্ছে।

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানো তার ক্ষমতার ভিত্তি আরও দুর্বল করতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি থমকে যাওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন যে, বিশ্বনেতারা জনসম্মুখে ভিন্ন কথা বললেও ব্যক্তিগত আলোচনায় তাদের অবস্থান ভিন্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

বিশ্বমঞ্চে কমছে ট্রাম্পের প্রভাব, অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে মার্কিন প্রশাসন

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:২৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ পিএম। বিশ্বমঞ্চে নিজের হারানো প্রভাব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপক তৎপরতা চালালেও তা কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনছে না। তার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোতে ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানই মূলত বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে এমন প্রতিরোধের জন্ম দিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের কঠোর ভাষণের পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হলেও তাতে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি, যা কার্যত ব্যর্থতারই শামিল।

ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিতে ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্র দেশগুলো অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বিদেশি হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তার দেশের জলসীমায় রণতরী পাঠানোর চেয়ে বরং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অর্থের প্রবাহ বন্ধে সহযোগিতা প্রয়োজন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত লোহিত সাগর ও ইয়েমেন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে, যেখানে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে আসছে। এছাড়া চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই মাস বাড়ানো ছাড়া বড় কোনো সাফল্য আসেনি। বেইজিংয়ের বিরল খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পের নমনীয় অবস্থানকে বিশ্লেষকরা বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের ফল হিসেবে দেখছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধে সীমিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও খুব একটা সফল হয়নি। গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সমঝোতা হলেও এটি ট্রাম্পের আগের মালিকানা দাবির তুলনায় অনেক সীমিত। ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমার উল্লেখ করেছেন, এক বছর আগের তুলনায় এখন কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে ‘না’ বলার সাহস দেখাচ্ছে।

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানো তার ক্ষমতার ভিত্তি আরও দুর্বল করতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি থমকে যাওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন যে, বিশ্বনেতারা জনসম্মুখে ভিন্ন কথা বললেও ব্যক্তিগত আলোচনায় তাদের অবস্থান ভিন্ন।