লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঘারপাড়ায় হাট ইজারা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ২; এলাকায় পুলিশ মোতায়েন

বাঘারপাড়ায় হাট ইজারা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ২; এলাকায় পুলিশ মোতায়েন

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘারপাড়া (যশোর):

যশোরের বাঘারপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার ও হাট ইজারার পুরনো বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের পুনিয়ার বটতলা বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা টিএস আইয়ুব এবং বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের অনুসারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিরোধের নেপথ্যে হাট ও রাজনৈতিক মেরুকরণ

দীর্ঘদিন ধরেই নাড়িকেলবাড়িয়া হাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। বর্তমানে হাটটি সাদিকুল ইসলামের পক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা প্রতিপক্ষ মেনে নিতে পারছিল না। এছাড়া গত নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং পুরনো একটি মামলার জেরে দুই পক্ষের বৈরিতা চূড়ান্ত রূপ নেয়।

শুক্রবার বিকেলে পুনিয়ার বটতলা বাজারে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে গুরুতর আহত দয়রামপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত আব্দুল হালিমকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদিকুল ইসলাম সরাসরি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন:

“বিএনপি নেতা টিএস আইয়ুবের রাজনীতি করার কারণে মশিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত। শুক্রবার বিকেলে মশিয়ার রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে আজিজুর, সোহাগ, আকতারসহ ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণ করা হয়েছিল।”

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান একে ‘বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। পাল্টা বক্তব্যে তিনি বলেন:

“ঘটনার সময় আমি এলাকায় উপস্থিতই ছিলাম না। গত জাতীয় নির্বাচনে এক পক্ষ ধানের শীষের পক্ষে এবং সাদিকুলরা জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই মূলত বিরোধের শুরু। এলাকায় ইবাদুল নামের একজনের ওপর হামলার একটি পুরনো মামলা রয়েছে; সেই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটেছে।”

পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে

ঘটনার পরপরই বাঘারপাড়া থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাজালাল আলম জানান, নতুন করে কোনো সহিংসতা এড়াতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

ডিআইজির বাংলোয় রহস্যময় অভিযান: নেপথ্যে কি অভ্যন্তরীণ স্বার্থের দ্বন্দ্ব?

বাঘারপাড়ায় হাট ইজারা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ২; এলাকায় পুলিশ মোতায়েন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বাঘারপাড়ায় হাট ইজারা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ২; এলাকায় পুলিশ মোতায়েন

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘারপাড়া (যশোর):

যশোরের বাঘারপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার ও হাট ইজারার পুরনো বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের পুনিয়ার বটতলা বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা টিএস আইয়ুব এবং বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের অনুসারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিরোধের নেপথ্যে হাট ও রাজনৈতিক মেরুকরণ

দীর্ঘদিন ধরেই নাড়িকেলবাড়িয়া হাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। বর্তমানে হাটটি সাদিকুল ইসলামের পক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা প্রতিপক্ষ মেনে নিতে পারছিল না। এছাড়া গত নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং পুরনো একটি মামলার জেরে দুই পক্ষের বৈরিতা চূড়ান্ত রূপ নেয়।

শুক্রবার বিকেলে পুনিয়ার বটতলা বাজারে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে গুরুতর আহত দয়রামপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত আব্দুল হালিমকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদিকুল ইসলাম সরাসরি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন:

“বিএনপি নেতা টিএস আইয়ুবের রাজনীতি করার কারণে মশিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত। শুক্রবার বিকেলে মশিয়ার রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে আজিজুর, সোহাগ, আকতারসহ ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণ করা হয়েছিল।”

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান একে ‘বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। পাল্টা বক্তব্যে তিনি বলেন:

“ঘটনার সময় আমি এলাকায় উপস্থিতই ছিলাম না। গত জাতীয় নির্বাচনে এক পক্ষ ধানের শীষের পক্ষে এবং সাদিকুলরা জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই মূলত বিরোধের শুরু। এলাকায় ইবাদুল নামের একজনের ওপর হামলার একটি পুরনো মামলা রয়েছে; সেই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটেছে।”

পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে

ঘটনার পরপরই বাঘারপাড়া থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাজালাল আলম জানান, নতুন করে কোনো সহিংসতা এড়াতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।