লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮তম ব্রিকস সামিট: অগ্রগতি ও প্রশ্ন নিয়ে সমাপ্তি

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সামিটে বিশ্বের তিন ক্ষমতাধর নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একমঞ্চে মিলিত হয়েছেন। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির ওপর জোর দিলেও দুই দিনের এই সম্মেলন শেষ হয়েছে কিছু প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে। সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশ এবং ১০টি পার্টনার দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এদিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না ইরান।

সম্মেলনের সমাপনী দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির আহ্বান জানিয়ে ৫ দফা পরিকল্পনা উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ১. উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ, ২. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণ উদ্যোগ, ৪. বুদ্ধিমান উৎপাদন বা স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে সহযোগিতা উদ্যোগ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রতিভা উন্নয়ন। তিনি ব্রিকস এআই ওপেন সোর্স কমিউনিটি এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।

সম্মেলনের প্রথম দিন শনিবার রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত নৈশভোজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদসহ কয়েকজন নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। এনডিটিভি’র তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে শি জিনপিং ক্লান্ত থাকায় নৈশভোজে যোগ দেননি। তবে ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বর দুইদিনের এ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হয়নি। আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই সম্মেলনে যোগ দেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা তার কোনো প্রতিনিধি।

সম্মেলনের শেষ দিনে নরেন্দ্র মোদি সাতটি দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা মতপার্থক্য থেকে বিরোধ সৃষ্টি না করার বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশলগত নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকসের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ব্রিকসের নিজস্ব পেমেন্ট, ডিপোজিটরি ও ক্লিয়ারিং অবকাঠামো, পুনর্বীমা ব্যবস্থা এবং একটি শস্যবাজার বা গ্রেইন এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। ২০২৫ সালের মধ্যে জোটের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো প্রথম দিন সর্বসম্মতিক্রমে একটি যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করে। এতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া বাণিজ্য বিকৃতকারী একতরফা শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন, ব্রিকস এখন পরিণত এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের ঐক্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে। জোটটি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ডব্লিউটিও’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে, কারণ অনেক সদস্য মনে করে এসব প্রতিষ্ঠান পশ্চিমা শক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত

১৮তম ব্রিকস সামিট: অগ্রগতি ও প্রশ্ন নিয়ে সমাপ্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৭:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সামিটে বিশ্বের তিন ক্ষমতাধর নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একমঞ্চে মিলিত হয়েছেন। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির ওপর জোর দিলেও দুই দিনের এই সম্মেলন শেষ হয়েছে কিছু প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে। সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশ এবং ১০টি পার্টনার দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এদিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না ইরান।

সম্মেলনের সমাপনী দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির আহ্বান জানিয়ে ৫ দফা পরিকল্পনা উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ১. উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ, ২. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণ উদ্যোগ, ৪. বুদ্ধিমান উৎপাদন বা স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে সহযোগিতা উদ্যোগ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রতিভা উন্নয়ন। তিনি ব্রিকস এআই ওপেন সোর্স কমিউনিটি এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।

সম্মেলনের প্রথম দিন শনিবার রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত নৈশভোজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদসহ কয়েকজন নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। এনডিটিভি’র তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে শি জিনপিং ক্লান্ত থাকায় নৈশভোজে যোগ দেননি। তবে ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বর দুইদিনের এ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হয়নি। আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই সম্মেলনে যোগ দেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা তার কোনো প্রতিনিধি।

সম্মেলনের শেষ দিনে নরেন্দ্র মোদি সাতটি দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা মতপার্থক্য থেকে বিরোধ সৃষ্টি না করার বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশলগত নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকসের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ব্রিকসের নিজস্ব পেমেন্ট, ডিপোজিটরি ও ক্লিয়ারিং অবকাঠামো, পুনর্বীমা ব্যবস্থা এবং একটি শস্যবাজার বা গ্রেইন এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। ২০২৫ সালের মধ্যে জোটের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো প্রথম দিন সর্বসম্মতিক্রমে একটি যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করে। এতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া বাণিজ্য বিকৃতকারী একতরফা শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন, ব্রিকস এখন পরিণত এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের ঐক্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে। জোটটি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ডব্লিউটিও’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে, কারণ অনেক সদস্য মনে করে এসব প্রতিষ্ঠান পশ্চিমা শক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।