লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেনে তীব্র লড়াই ও সৌদিতে হুতিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখার পতনের পর ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাইজ শহরের কাছে কাধা এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ চলছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর মারিবের দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সরকারি বাহিনী ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। শহরটি হুতিদের দখলে গেলে উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অবস্থান অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মারিবের পশ্চিমে আল-মাশজাহ ও আল-জোর এলাকায় হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা মারিব শহরটি তেল ও গ্যাস সম্পদের পাশাপাশি প্রধান সামরিক সরবরাহ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আল-জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানিয়েছেন, যে পক্ষ মারিব নিয়ন্ত্রণ করবে, ইয়েমেনের রাজস্ব প্রবাহ তাদের হাতে থাকবে। সরকারি বাহিনীর একটি অংশ লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল থেকে সরে গিয়ে মারিবে পুনর্গঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য ও মারিবের গভর্নর সুলতান আল-আরাদা। তিনি পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনীর পরাজয়কে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলে লড়াইয়ে তাদের পাঁচ শতাধিক সেনা নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার সেনা আহত হয়েছেন।

এদিকে হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ঘাঁটির অস্ত্রাগার ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে শনিবার সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল এলাকায় একটি হামলায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুতিদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় তাইজ ও মারিবের কাছে তাদের অবস্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান জানিয়েছে, কাসেম দ্বীপের অদূরে তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, যাতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান। তবে বাহরাইন এই বৈঠকে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরানের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর আলোচনায় তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

ইয়েমেনে সংঘাতের প্রভাবে মানবিক সংকটও বাড়ছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, জুলাই থেকে ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে দুই হাজারের বেশি মানুষ সমুদ্রপথে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৪ সালে সানা দখলের মাধ্যমে হুতিদের উত্থান এবং ২০১৫ সালে সৌদি জোটের সামরিক হস্তক্ষেপে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধ ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা স্তিমিত হলেও বর্তমানে পুনরায় তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা মনে করেন, সরকারি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক বিভক্তি হুতিদের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত আসাদুলের মরদেহ ৩৬ ঘণ্টা পর ফেরত

ইয়েমেনে তীব্র লড়াই ও সৌদিতে হুতিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখার পতনের পর ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাইজ শহরের কাছে কাধা এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ চলছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর মারিবের দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সরকারি বাহিনী ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। শহরটি হুতিদের দখলে গেলে উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অবস্থান অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মারিবের পশ্চিমে আল-মাশজাহ ও আল-জোর এলাকায় হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা মারিব শহরটি তেল ও গ্যাস সম্পদের পাশাপাশি প্রধান সামরিক সরবরাহ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আল-জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানিয়েছেন, যে পক্ষ মারিব নিয়ন্ত্রণ করবে, ইয়েমেনের রাজস্ব প্রবাহ তাদের হাতে থাকবে। সরকারি বাহিনীর একটি অংশ লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল থেকে সরে গিয়ে মারিবে পুনর্গঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য ও মারিবের গভর্নর সুলতান আল-আরাদা। তিনি পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনীর পরাজয়কে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলে লড়াইয়ে তাদের পাঁচ শতাধিক সেনা নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার সেনা আহত হয়েছেন।

এদিকে হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ঘাঁটির অস্ত্রাগার ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে শনিবার সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল এলাকায় একটি হামলায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুতিদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় তাইজ ও মারিবের কাছে তাদের অবস্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান জানিয়েছে, কাসেম দ্বীপের অদূরে তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, যাতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান। তবে বাহরাইন এই বৈঠকে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরানের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর আলোচনায় তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

ইয়েমেনে সংঘাতের প্রভাবে মানবিক সংকটও বাড়ছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, জুলাই থেকে ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে দুই হাজারের বেশি মানুষ সমুদ্রপথে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৪ সালে সানা দখলের মাধ্যমে হুতিদের উত্থান এবং ২০১৫ সালে সৌদি জোটের সামরিক হস্তক্ষেপে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধ ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা স্তিমিত হলেও বর্তমানে পুনরায় তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা মনে করেন, সরকারি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক বিভক্তি হুতিদের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।