লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ই নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব, তবে সেই গৌরবের পতাকাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূলমন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা তাদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ইতিহাস সাক্ষী যে যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'দিল্লি নয় পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওইদিন দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। তিনি জানান, ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল এবং ২রা নভেম্বর মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার কারণেই ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর হয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, তাদের পরাজয় ঘটেছিল ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে। তিনি বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ এবং বিগত সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরায় সেই পরাজিত অপশক্তির পরাজয় ঘটেছে। তিনি ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে স্বাধীনতা অর্জন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর হলো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে দেশের মানুষের অধিকার হরণ করতে না পারে, এটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।

৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহী জনতার বিপ্লব, ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২৪ এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় আমাদের তারুণ্য প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনোই আপোষ করেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত

৭ই নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩১:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব, তবে সেই গৌরবের পতাকাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূলমন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা তাদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ইতিহাস সাক্ষী যে যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'দিল্লি নয় পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওইদিন দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। তিনি জানান, ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল এবং ২রা নভেম্বর মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার কারণেই ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর হয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, তাদের পরাজয় ঘটেছিল ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে। তিনি বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ এবং বিগত সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরায় সেই পরাজিত অপশক্তির পরাজয় ঘটেছে। তিনি ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে স্বাধীনতা অর্জন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর হলো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে দেশের মানুষের অধিকার হরণ করতে না পারে, এটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।

৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহী জনতার বিপ্লব, ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২৪ এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় আমাদের তারুণ্য প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনোই আপোষ করেনি।