লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর হিমাগারে বিপুল আলু অবিক্রীত, লোকসানের মুখে চাষি ও ব্যবসায়ীরা

রাজশাহী অঞ্চলের হিমাগারগুলোতে গত বছরের উৎপাদিত আলুর অর্ধেকেরও বেশি এখনো অবিক্রীত রয়ে গেছে। অথচ আগামী এক মাসের মধ্যেই বাজারে নতুন আগামজাতের আলু উঠতে শুরু করবে। এই পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। হিমাগার মালিকরা আগামী মৌসুমের জন্য জায়গা খালি করতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আলু সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দিয়েছেন, যা চাষিদের জন্য বাড়তি চাপের সৃষ্টি করেছে।

রাজশাহীর ৩৬টি হিমাগারে প্রায় ৮০ লাখ বস্তায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অর্ধেক খালাস হলেও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু এখনো হিমাগারে পড়ে আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বীজ আলু হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দাম ১২ থেকে ১৪ টাকা, যেখানে উৎপাদন ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি কেজিতে চাষিদের খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকা। এতে প্রতি কেজিতে প্রায় ১১ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

মোহনপুর উপজেলার বসন্তকেদার গ্রামের আলুচাষি শেখ মবিনুর রহমান জানান, পবা উপজেলার উত্তরা স্টোরে রাখা তার ২৫০ বস্তা আলু নিয়ে তিনি উভয় সংকটে পড়েছেন। আলু তুললে লোকসান, আবার না তুললে হিমাগার মালিক নিলামে বিক্রি করে ভাড়া আদায় করবেন। বায়া এলাকার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন জানান, হিমাগারে রাখা আলুর ৬০ শতাংশই এখনো অবিক্রীত, যা এক মাসে বিক্রি করা অসম্ভব।

রাজশাহী হিমাগার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান জানান, চাষিদের পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে হিমাগার খালি করার সময় দেওয়া হয়েছে। তবে বায়ার আসমা হিমাগারের ব্যবস্থাপক আলী আশরাফ হোসেন স্পষ্ট করেছেন যে, ৩০ ডিসেম্বরের পর আলু না তুললে সেগুলো নিলামে তোলা হবে।

রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত দুই মৌসুমের ন্যায় এবারও চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আলু চাষিদের এই দুর্দশা লাঘবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের নেপথ্যে তরুণ প্রজন্মের ভোট

রাজশাহীর হিমাগারে বিপুল আলু অবিক্রীত, লোকসানের মুখে চাষি ও ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাজশাহী অঞ্চলের হিমাগারগুলোতে গত বছরের উৎপাদিত আলুর অর্ধেকেরও বেশি এখনো অবিক্রীত রয়ে গেছে। অথচ আগামী এক মাসের মধ্যেই বাজারে নতুন আগামজাতের আলু উঠতে শুরু করবে। এই পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। হিমাগার মালিকরা আগামী মৌসুমের জন্য জায়গা খালি করতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আলু সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দিয়েছেন, যা চাষিদের জন্য বাড়তি চাপের সৃষ্টি করেছে।

রাজশাহীর ৩৬টি হিমাগারে প্রায় ৮০ লাখ বস্তায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অর্ধেক খালাস হলেও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু এখনো হিমাগারে পড়ে আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বীজ আলু হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দাম ১২ থেকে ১৪ টাকা, যেখানে উৎপাদন ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি কেজিতে চাষিদের খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকা। এতে প্রতি কেজিতে প্রায় ১১ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

মোহনপুর উপজেলার বসন্তকেদার গ্রামের আলুচাষি শেখ মবিনুর রহমান জানান, পবা উপজেলার উত্তরা স্টোরে রাখা তার ২৫০ বস্তা আলু নিয়ে তিনি উভয় সংকটে পড়েছেন। আলু তুললে লোকসান, আবার না তুললে হিমাগার মালিক নিলামে বিক্রি করে ভাড়া আদায় করবেন। বায়া এলাকার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন জানান, হিমাগারে রাখা আলুর ৬০ শতাংশই এখনো অবিক্রীত, যা এক মাসে বিক্রি করা অসম্ভব।

রাজশাহী হিমাগার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান জানান, চাষিদের পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে হিমাগার খালি করার সময় দেওয়া হয়েছে। তবে বায়ার আসমা হিমাগারের ব্যবস্থাপক আলী আশরাফ হোসেন স্পষ্ট করেছেন যে, ৩০ ডিসেম্বরের পর আলু না তুললে সেগুলো নিলামে তোলা হবে।

রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত দুই মৌসুমের ন্যায় এবারও চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আলু চাষিদের এই দুর্দশা লাঘবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।