লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে আর কোন কোন দেশ

তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান গত শুক্রবার ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই জোটের মূল বিষয় হলো, চুক্তিবদ্ধ কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে জোটের তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, এই জোটকে কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে আরও দেশকে এর আওতায় আনা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে মিসরের নাম সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। হাকান ফিদান মিসরকে এই জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কিছু কারিগরি বিষয় সমাধান হলে কায়রো এই জোটে যোগ দিতে পারে। তবে মিসর এই চুক্তির সামরিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি এবং লিবিয়াসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখতে চায় কায়রো।

জোটের সম্ভাব্য সম্প্রসারণে কাতার ও কুয়েতের নামও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই দুই দেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সৌদি আরব ছাড়া জিসিসির অন্য সব সদস্য দেশ—কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই জোটে যোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে। এছাড়া আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানও ভবিষ্যতে তুলনামূলক দ্রুত জোটে যুক্ত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনই একটি পূর্ণাঙ্গ ন্যাটো-ধাঁচের আঞ্চলিক জোটে পরিণত হবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। বরং প্রতিটি দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে ধাপে ধাপে এতে যোগ দিতে পারে। মিসর ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যোগ দিলে জোটটির রাজনৈতিক প্রভাব, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ ও আঞ্চলিক বিরোধ জোটটিকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ব্লকে পরিণত করার পথে বড় বাধা হতে পারে।

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩০আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩০

জনপ্রিয় সংবাদ

খলিফা হিসেবে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে আর কোন কোন দেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান গত শুক্রবার ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই জোটের মূল বিষয় হলো, চুক্তিবদ্ধ কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে জোটের তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, এই জোটকে কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে আরও দেশকে এর আওতায় আনা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে মিসরের নাম সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। হাকান ফিদান মিসরকে এই জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কিছু কারিগরি বিষয় সমাধান হলে কায়রো এই জোটে যোগ দিতে পারে। তবে মিসর এই চুক্তির সামরিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি এবং লিবিয়াসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখতে চায় কায়রো।

জোটের সম্ভাব্য সম্প্রসারণে কাতার ও কুয়েতের নামও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই দুই দেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সৌদি আরব ছাড়া জিসিসির অন্য সব সদস্য দেশ—কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই জোটে যোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে। এছাড়া আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানও ভবিষ্যতে তুলনামূলক দ্রুত জোটে যুক্ত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনই একটি পূর্ণাঙ্গ ন্যাটো-ধাঁচের আঞ্চলিক জোটে পরিণত হবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। বরং প্রতিটি দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে ধাপে ধাপে এতে যোগ দিতে পারে। মিসর ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যোগ দিলে জোটটির রাজনৈতিক প্রভাব, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ ও আঞ্চলিক বিরোধ জোটটিকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ব্লকে পরিণত করার পথে বড় বাধা হতে পারে।

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩০আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩০