লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতা

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানি সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি আগস্ট মাসেই এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সোমবার (১০ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য এই মাসিক সম্মানি ও কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি পরিচালনার জন্য গঠিত সেলের সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ও সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভাতা প্রদানের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডভিত্তিক নির্দিষ্ট হারে মসজিদ ও মন্দির নির্বাচন করা হবে। এছাড়া বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজকরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন। মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ও গির্জার সহকারী যাজকরা পাবেন তিন হাজার টাকা এবং মসজিদের খাদেমরা মাসিক দুই হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন।

এই সম্মানির অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এই প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনায় দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় এই সুবিধার আওতায় আসছে এবং পরবর্তী তিন বছরে পর্যায়ক্রমে শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এর অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ১৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ধর্মীয় নেতাকে প্রথমবারের মতো সম্মানি দেওয়া হয়েছিল, যার উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৪ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ২

৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানি সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি আগস্ট মাসেই এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সোমবার (১০ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য এই মাসিক সম্মানি ও কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি পরিচালনার জন্য গঠিত সেলের সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ও সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভাতা প্রদানের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডভিত্তিক নির্দিষ্ট হারে মসজিদ ও মন্দির নির্বাচন করা হবে। এছাড়া বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজকরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন। মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ও গির্জার সহকারী যাজকরা পাবেন তিন হাজার টাকা এবং মসজিদের খাদেমরা মাসিক দুই হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন।

এই সম্মানির অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এই প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনায় দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় এই সুবিধার আওতায় আসছে এবং পরবর্তী তিন বছরে পর্যায়ক্রমে শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এর অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ১৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ধর্মীয় নেতাকে প্রথমবারের মতো সম্মানি দেওয়া হয়েছিল, যার উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৪ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে।