লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিশের ভরা মৌসুমেও জালে মাছ নেই, দুশ্চিন্তায় চরফ্যাশনের জেলেরা

ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও ভোলার চরফ্যাশনের নদ-নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। দিনের পর দিন নদীতে জাল ফেলে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। অনেক ক্ষেত্রেই মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে নৌকা ভাড়া, জ্বালানি, বরফ এবং খাবারের খরচই উঠছে না, যার ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চলায় জেলেদের মধ্যে ধার-দেনার চাপ বাড়ছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, বছরের এই সময়ে নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য থাকার কথা থাকলেও এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নদীতে জাল ফেললে খুবই অল্পসংখ্যক ইলিশ ধরা পড়ছে।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ জেলে ঢালচরের ৭০ বছর বয়সী কাঞ্চন মাঝি বলেন, 'এই বয়সেও নদীতে যাচ্ছি। কিন্তু জীবনে এত কম মাছ কখনো দেখিনি। মাছ কম পাওয়ায় সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।' একই সুরে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীর মাঝি। তিনি বলেন, 'ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ করে নদীতে যাই, কিন্তু সেই অনুযায়ী মাছ পাই না। এভাবে চললে আমরা কীভাবে সংসার চালাব?'

জেলেদের অভিযোগ, অনেকের জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও তারা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাছ কম পাওয়ায় আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাদের। তাই প্রকৃত অসহায় ও কার্ডধারী জেলেদের দ্রুত সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইলিশের এই সংকটের প্রভাব কেবল জেলে পরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মাছ ব্যবসা ও উপকূলীয় অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, 'আসলে ইলিশ কেন কম হচ্ছে, এটা ইলিশ নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের কাছে ফোন করে জানার জন্য।' তিনি আরও জানান, সরকারি বরাদ্দ আসলে অবশ্যই জেলেরা সহায়তা পাবেন।

উপকূলীয় জেলেরা ইলিশ কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে আগামীকাল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

ইলিশের ভরা মৌসুমেও জালে মাছ নেই, দুশ্চিন্তায় চরফ্যাশনের জেলেরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও ভোলার চরফ্যাশনের নদ-নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। দিনের পর দিন নদীতে জাল ফেলে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। অনেক ক্ষেত্রেই মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে নৌকা ভাড়া, জ্বালানি, বরফ এবং খাবারের খরচই উঠছে না, যার ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চলায় জেলেদের মধ্যে ধার-দেনার চাপ বাড়ছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, বছরের এই সময়ে নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য থাকার কথা থাকলেও এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নদীতে জাল ফেললে খুবই অল্পসংখ্যক ইলিশ ধরা পড়ছে।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ জেলে ঢালচরের ৭০ বছর বয়সী কাঞ্চন মাঝি বলেন, 'এই বয়সেও নদীতে যাচ্ছি। কিন্তু জীবনে এত কম মাছ কখনো দেখিনি। মাছ কম পাওয়ায় সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।' একই সুরে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীর মাঝি। তিনি বলেন, 'ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ করে নদীতে যাই, কিন্তু সেই অনুযায়ী মাছ পাই না। এভাবে চললে আমরা কীভাবে সংসার চালাব?'

জেলেদের অভিযোগ, অনেকের জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও তারা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাছ কম পাওয়ায় আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাদের। তাই প্রকৃত অসহায় ও কার্ডধারী জেলেদের দ্রুত সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইলিশের এই সংকটের প্রভাব কেবল জেলে পরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মাছ ব্যবসা ও উপকূলীয় অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, 'আসলে ইলিশ কেন কম হচ্ছে, এটা ইলিশ নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের কাছে ফোন করে জানার জন্য।' তিনি আরও জানান, সরকারি বরাদ্দ আসলে অবশ্যই জেলেরা সহায়তা পাবেন।

উপকূলীয় জেলেরা ইলিশ কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।