লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আখতারুজ্জামানের শুনানিতে আইনজীবীদের হাতাহাতি, পাঠানো হলো কারাগারে

জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিতে ঢাকার আদালতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আইনজীবীদের চরম হট্টগোলের মুখে একপর্যায়ে বিচারক এজলাস ছেড়ে চলে যান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হলে শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির সময় এজলাসে আসামিপক্ষে জামায়াতপন্থি আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ ৩০ জনের বেশি এবং রাষ্ট্রপক্ষে বিএনপিপন্থি ৪০ জনেরও বেশি আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী সবাইকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি আখতারুজ্জামানও দুই হাত জোড় করে উভয় পক্ষকে শান্ত হতে বলেন। পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার পর বিচারক পুনরায় এজলাসে আসেন।

শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আখতারুজ্জামান ভাঙা গলায় বলেন, "আমি অসুস্থ। আমার পক্ষে ১০ জন আইনজীবীকে শুনানি করার অনুমতি দিন।" আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে জামিনের আবেদন জানান। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর জোর দাবি জানায়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, একদিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল এবং তার অনুপস্থিতিতেই আদালতের শুনানি শুরু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। গত শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। ওই দিন আদালতে তোলার আগে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মাথায় থাকা হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আখতারুজ্জামানকে বলতে শোনা যায়, "সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না।" এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদেরও ধমক দেন।

গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসের (ক্যান্টনমেন্ট) ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গত ১লা অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলি সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জেরে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

দশ বছরের সম্পর্কে ইতি, বিচ্ছেদের পথে প্রীতম-শাহতাজ

আখতারুজ্জামানের শুনানিতে আইনজীবীদের হাতাহাতি, পাঠানো হলো কারাগারে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিতে ঢাকার আদালতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আইনজীবীদের চরম হট্টগোলের মুখে একপর্যায়ে বিচারক এজলাস ছেড়ে চলে যান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হলে শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির সময় এজলাসে আসামিপক্ষে জামায়াতপন্থি আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ ৩০ জনের বেশি এবং রাষ্ট্রপক্ষে বিএনপিপন্থি ৪০ জনেরও বেশি আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী সবাইকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি আখতারুজ্জামানও দুই হাত জোড় করে উভয় পক্ষকে শান্ত হতে বলেন। পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার পর বিচারক পুনরায় এজলাসে আসেন।

শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আখতারুজ্জামান ভাঙা গলায় বলেন, "আমি অসুস্থ। আমার পক্ষে ১০ জন আইনজীবীকে শুনানি করার অনুমতি দিন।" আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে জামিনের আবেদন জানান। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর জোর দাবি জানায়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, একদিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল এবং তার অনুপস্থিতিতেই আদালতের শুনানি শুরু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। গত শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। ওই দিন আদালতে তোলার আগে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মাথায় থাকা হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আখতারুজ্জামানকে বলতে শোনা যায়, "সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না।" এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদেরও ধমক দেন।

গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসের (ক্যান্টনমেন্ট) ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গত ১লা অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলি সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জেরে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।