লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনা পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ

বরগুনা পৌর শহরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় পৌর এলাকার দুই শতাধিক টিউবওয়েলের অধিকাংশ থেকেই আর পানি উঠছে না। এতে খাবার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার পৌরবাসী। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাইরে থেকে পানি কিনে আনছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরবাসীর চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ লিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হতো। অতিরিক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি এই উত্তোলনের ফলেই পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে গেছে। বেসরকারি হিসাবে, পৌর এলাকায় থাকা দুই শতাধিক টিউবওয়েলের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি সচল রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সচল টিউবওয়েলগুলো থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সগীর জানান, আগে তিন-চার বাড়ি পরপর একটি টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করা যেত, কিন্তু এখন সব টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইমরান ও নোমান জানান, পানি না পাওয়ায় বাইরে থেকে কলস প্রতি ২০ টাকা দিয়ে পানি কিনতে হচ্ছে, তাও সবসময় পাওয়া যায় না। একইভাবে ব্যাংক কলোনি এলাকার রাশেদা বেগম জানিয়েছেন, ৩০ টাকা দিয়ে এক কলস পানি কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে, যা দিয়ে দুজনের গোসলও সম্ভব হয় না। পিটিআই এলাকার বাসিন্দা খলিল জানান, ৩০ বছর ধরে যে টিউবওয়েলটি ব্যবহার করেছেন, সেটিও এখন অকেজো।

পৌরবাসীর সংকট নিরসনে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি উঁচু জলাধার নির্মাণ করা হয়, যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা ১০ লাখ লিটার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এলজিইডি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এগুলো নির্মাণ করা হলেও, উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও এগুলো থেকে নিয়মিত পানি সরবরাহ শুরু হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে টিউবওয়েলগুলো অকেজো, অন্যদিকে বিকল্প জলাধারগুলো কার্যকর না হওয়ায় সংকট তীব্রতর হয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৯৮ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শহরের ক্রোক এলাকায় একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করেছিল। তবে গ্রাহকসংখ্যা কম থাকায় পরিচালন ব্যয় না ওঠায় ২০১২ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহের ব্যবস্থা করলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাবেক নেতা ও বরগুনা পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ খান জানিয়েছেন, পাইপলাইনের সমস্যার কারণে জলাধারগুলো থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না এবং তারা এটি সমাধানের চেষ্টা করছেন। এছাড়া বরগুনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শিশির কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, পানি পরিশোধনাগারটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং সংকট নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেরপুরে মা’দক মামলার রায়ে ১ ব্যক্তির ১০ বছরের কা’রাদণ্ড

বরগুনা পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বরগুনা পৌর শহরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় পৌর এলাকার দুই শতাধিক টিউবওয়েলের অধিকাংশ থেকেই আর পানি উঠছে না। এতে খাবার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার পৌরবাসী। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাইরে থেকে পানি কিনে আনছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরবাসীর চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ লিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হতো। অতিরিক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি এই উত্তোলনের ফলেই পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে গেছে। বেসরকারি হিসাবে, পৌর এলাকায় থাকা দুই শতাধিক টিউবওয়েলের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি সচল রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সচল টিউবওয়েলগুলো থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সগীর জানান, আগে তিন-চার বাড়ি পরপর একটি টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করা যেত, কিন্তু এখন সব টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইমরান ও নোমান জানান, পানি না পাওয়ায় বাইরে থেকে কলস প্রতি ২০ টাকা দিয়ে পানি কিনতে হচ্ছে, তাও সবসময় পাওয়া যায় না। একইভাবে ব্যাংক কলোনি এলাকার রাশেদা বেগম জানিয়েছেন, ৩০ টাকা দিয়ে এক কলস পানি কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে, যা দিয়ে দুজনের গোসলও সম্ভব হয় না। পিটিআই এলাকার বাসিন্দা খলিল জানান, ৩০ বছর ধরে যে টিউবওয়েলটি ব্যবহার করেছেন, সেটিও এখন অকেজো।

পৌরবাসীর সংকট নিরসনে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি উঁচু জলাধার নির্মাণ করা হয়, যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা ১০ লাখ লিটার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এলজিইডি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এগুলো নির্মাণ করা হলেও, উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও এগুলো থেকে নিয়মিত পানি সরবরাহ শুরু হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে টিউবওয়েলগুলো অকেজো, অন্যদিকে বিকল্প জলাধারগুলো কার্যকর না হওয়ায় সংকট তীব্রতর হয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৯৮ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শহরের ক্রোক এলাকায় একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করেছিল। তবে গ্রাহকসংখ্যা কম থাকায় পরিচালন ব্যয় না ওঠায় ২০১২ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহের ব্যবস্থা করলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাবেক নেতা ও বরগুনা পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ খান জানিয়েছেন, পাইপলাইনের সমস্যার কারণে জলাধারগুলো থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না এবং তারা এটি সমাধানের চেষ্টা করছেন। এছাড়া বরগুনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শিশির কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, পানি পরিশোধনাগারটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং সংকট নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।