লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই জাদুঘরে দর্শনার্থীদের ঢল, প্রতিদিন আসছেন ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ

উদ্বোধনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জাদুঘরে প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ আসছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়, কোনো কোনো দিন দর্শনার্থীর উপস্থিতি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারেও জাদুঘরে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাদুঘরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই শনিবার প্রায় ৭ হাজার ৮৬০ জন দর্শনার্থী জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। এর আগের দিন শুক্রবার এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজারেরও কিছু বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনের পর থেকে কোনো দিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা ছয় হাজারের নিচে নামেনি। তবে টিকিট ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ থাকায় প্রকৃত দর্শনার্থীর সংখ্যা হিসাবের চেয়ে আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় টিকিট সংগ্রহের সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তেও কাউন্টারগুলোতে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাদুঘরের বিভিন্ন প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আনাগোনা। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে আসা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন, কেউ বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার অনেকেই আয়নাঘর, কবর ও যোদ্ধা ভাস্কর্যের মতো প্রতীকী স্থাপনাগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

সাভার কলেজ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা শিক্ষার্থী রফিক মোল্লা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, তিনি পুরো এলাকা ঘুরে প্রতিটি মোটিফ ও নির্মাণশৈলী দেখেছেন। তাঁর মতে, এটি একটি অসাধারণ কাজ হয়েছে, তবে বহু মানুষের হারিয়ে যাওয়ার বেদনাদায়ক গল্প এখানে মিশে থাকায় মনের ভেতর এক ধরনের বিষণ্নতাও তৈরি হয়। ছালমা নামের আরেক তরুণী জানান, বন্ধুদের নিয়ে এসে টিকিটের জন্য তাঁকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। ভেতরে বিশেষ করে আয়নাঘর ও যোদ্ধা ভাস্কর্যের সামনে ছবি তোলার জন্য দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। অন্য এক দর্শনার্থী জানান, এখানে শুধু তরুণরাই নন, বরং সপরিবারে অনেকে আসছেন, যা প্রমাণ করে জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে মানুষের গভীর আগ্রহ রয়েছে। উদ্বোধনের দশম দিনেও ছুটির দিনে এমন বিপুল উপস্থিতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রবল আগ্রহেরই প্রতিফলন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইগাতীতে মসজিদ কমিটির বিরোধে হামলায় বিএনপি নেতার মৃত্যু

জুলাই জাদুঘরে দর্শনার্থীদের ঢল, প্রতিদিন আসছেন ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

উদ্বোধনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জাদুঘরে প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ আসছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়, কোনো কোনো দিন দর্শনার্থীর উপস্থিতি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারেও জাদুঘরে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাদুঘরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই শনিবার প্রায় ৭ হাজার ৮৬০ জন দর্শনার্থী জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। এর আগের দিন শুক্রবার এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজারেরও কিছু বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনের পর থেকে কোনো দিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা ছয় হাজারের নিচে নামেনি। তবে টিকিট ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ থাকায় প্রকৃত দর্শনার্থীর সংখ্যা হিসাবের চেয়ে আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় টিকিট সংগ্রহের সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তেও কাউন্টারগুলোতে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাদুঘরের বিভিন্ন প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আনাগোনা। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে আসা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন, কেউ বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার অনেকেই আয়নাঘর, কবর ও যোদ্ধা ভাস্কর্যের মতো প্রতীকী স্থাপনাগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

সাভার কলেজ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা শিক্ষার্থী রফিক মোল্লা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, তিনি পুরো এলাকা ঘুরে প্রতিটি মোটিফ ও নির্মাণশৈলী দেখেছেন। তাঁর মতে, এটি একটি অসাধারণ কাজ হয়েছে, তবে বহু মানুষের হারিয়ে যাওয়ার বেদনাদায়ক গল্প এখানে মিশে থাকায় মনের ভেতর এক ধরনের বিষণ্নতাও তৈরি হয়। ছালমা নামের আরেক তরুণী জানান, বন্ধুদের নিয়ে এসে টিকিটের জন্য তাঁকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। ভেতরে বিশেষ করে আয়নাঘর ও যোদ্ধা ভাস্কর্যের সামনে ছবি তোলার জন্য দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। অন্য এক দর্শনার্থী জানান, এখানে শুধু তরুণরাই নন, বরং সপরিবারে অনেকে আসছেন, যা প্রমাণ করে জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে মানুষের গভীর আগ্রহ রয়েছে। উদ্বোধনের দশম দিনেও ছুটির দিনে এমন বিপুল উপস্থিতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রবল আগ্রহেরই প্রতিফলন।