লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আগামীকাল ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং অতীতে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চেপে বসেছিল। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে, যা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই সময় এক যুগান্তকারী বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছিল এবং সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়েছিল। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি ও তাঁর ওপর অর্পিত জাতীয় সংকটের গুরুদায়িত্বের কথা স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল ত্রাতার। সিপাহি ও জনতার সেই সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক জাগরণ, যা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পুনরায় প্রতিফলিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে এবং তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক্‌ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি অর্থনৈতিক মুক্তি ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। বর্তমান জাতীয় সমস্যার সমাধানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সংসদকে সব সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাহসিফ হত্যা মামলা: রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন বান্ধবী দিশা

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

আগামীকাল ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং অতীতে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চেপে বসেছিল। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে, যা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই সময় এক যুগান্তকারী বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছিল এবং সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়েছিল। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি ও তাঁর ওপর অর্পিত জাতীয় সংকটের গুরুদায়িত্বের কথা স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল ত্রাতার। সিপাহি ও জনতার সেই সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক জাগরণ, যা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পুনরায় প্রতিফলিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে এবং তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক্‌ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি অর্থনৈতিক মুক্তি ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। বর্তমান জাতীয় সমস্যার সমাধানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সংসদকে সব সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।