লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৭ আগস্ট: ৬৩ জেলায় জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার সেই ভয়াবহ দিন

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলা বাদে বাংলাদেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে প্রায় সাড়ে ৪০০ স্থানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) পরিকল্পিতভাবে সিরিজ বোমা হামলা চালায়। আদালত, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ২ জন নিহত ও অন্তত ১০৪ জন আহত হন।

পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পর সারাদেশে মোট ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৪২টি মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করে। এসব মামলায় মোট ৯৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এখন পর্যন্ত ৯৪টি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। রায়ের মাধ্যমে ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল। ইতোমধ্যে ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া ৩৪৯ জন অব্যাহতি এবং ৩৫৮ জন খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে ঢাকার আদালতে ৫টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও ৫৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় আছে।

২০০৫ সালের সেই সিরিজ বোমা হামলার পর জঙ্গিরা আরও ধারাবাহিক হামলা চালায়, যাতে বিচারক ও আইনজীবীসহ আরও ৩০ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হন। ওই বছরের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের আদালতে বোমা হামলায় ৩ জন নিহত হন। ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে আত্মঘাতী হামলায় দুই বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহমেদ নিহত হন। এই বিচারক হত্যার দায়ে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ ৬ শীর্ষ জঙ্গি নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

একই বছরের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতি ও চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে জেএমবির পৃথক আত্মঘাতী হামলায় আইনজীবী ও পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন মারা যান। পরবর্তীতে ১ ডিসেম্বর গাজীপুর ডিসি অফিসের গেটে বোমা বিস্ফোরণে ১ জন এবং ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় উদীচীর কার্যালয়ের সামনে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ৮ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা

১৭ আগস্ট: ৬৩ জেলায় জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার সেই ভয়াবহ দিন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৫৪:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলা বাদে বাংলাদেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে প্রায় সাড়ে ৪০০ স্থানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) পরিকল্পিতভাবে সিরিজ বোমা হামলা চালায়। আদালত, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ২ জন নিহত ও অন্তত ১০৪ জন আহত হন।

পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পর সারাদেশে মোট ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৪২টি মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করে। এসব মামলায় মোট ৯৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এখন পর্যন্ত ৯৪টি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। রায়ের মাধ্যমে ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল। ইতোমধ্যে ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া ৩৪৯ জন অব্যাহতি এবং ৩৫৮ জন খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে ঢাকার আদালতে ৫টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও ৫৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় আছে।

২০০৫ সালের সেই সিরিজ বোমা হামলার পর জঙ্গিরা আরও ধারাবাহিক হামলা চালায়, যাতে বিচারক ও আইনজীবীসহ আরও ৩০ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হন। ওই বছরের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের আদালতে বোমা হামলায় ৩ জন নিহত হন। ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে আত্মঘাতী হামলায় দুই বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহমেদ নিহত হন। এই বিচারক হত্যার দায়ে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ ৬ শীর্ষ জঙ্গি নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

একই বছরের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতি ও চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে জেএমবির পৃথক আত্মঘাতী হামলায় আইনজীবী ও পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন মারা যান। পরবর্তীতে ১ ডিসেম্বর গাজীপুর ডিসি অফিসের গেটে বোমা বিস্ফোরণে ১ জন এবং ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় উদীচীর কার্যালয়ের সামনে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ৮ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।