লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে ৮০ স্কুলে নেই নৈশপ্রহরী, তালা ভেঙে চুরির ঘটনা

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টি স্কুলেই বর্তমানে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। এই নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেই জাংগালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, চুরির কারণে তাদের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে গিয়ে চুরির বিষয়টি টের পান। সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি জানান, সকালে এসে তিনি গেটের তালা খুলে ভেতরে ঢোকার পর office কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন জানান, চোরেরা অফিস কক্ষ থেকে একটি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছে। শিশুদের পাঠদানের জন্য ব্যবহৃত প্রজেক্টরটি চুরি হওয়ায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষক কারিমা জানান, চুরির খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় জমান। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ সংগ্রহের সুবিধার্থে ভাঙা তালা ও আসবাবপত্রে হাত না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, ঘটনাস্থল থেকে ভাঙা তালাটিও গায়েব হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের ধারণা, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা এই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, কালীগঞ্জের ১২৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৪৭টিতে নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন। গত মাসে আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় এখন ৮০টি বিদ্যালয় সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কালীগঞ্জে যোগদানের পর গত পাঁচ মাসের মধ্যে দুটি বিদ্যালয়ে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটল। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী নিয়োগ বা শূন্য পদে লোক নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হলে এ ধরনের চুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান。

এদিকে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৩১৪ জন

কালীগঞ্জে ৮০ স্কুলে নেই নৈশপ্রহরী, তালা ভেঙে চুরির ঘটনা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টি স্কুলেই বর্তমানে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। এই নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেই জাংগালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, চুরির কারণে তাদের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে গিয়ে চুরির বিষয়টি টের পান। সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি জানান, সকালে এসে তিনি গেটের তালা খুলে ভেতরে ঢোকার পর office কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন জানান, চোরেরা অফিস কক্ষ থেকে একটি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছে। শিশুদের পাঠদানের জন্য ব্যবহৃত প্রজেক্টরটি চুরি হওয়ায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষক কারিমা জানান, চুরির খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় জমান। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ সংগ্রহের সুবিধার্থে ভাঙা তালা ও আসবাবপত্রে হাত না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, ঘটনাস্থল থেকে ভাঙা তালাটিও গায়েব হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের ধারণা, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা এই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, কালীগঞ্জের ১২৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৪৭টিতে নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন। গত মাসে আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় এখন ৮০টি বিদ্যালয় সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কালীগঞ্জে যোগদানের পর গত পাঁচ মাসের মধ্যে দুটি বিদ্যালয়ে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটল। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী নিয়োগ বা শূন্য পদে লোক নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হলে এ ধরনের চুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান。

এদিকে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।