লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদই আত্মপরিচয় ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে এ দেশের মানুষের আত্মপরিচয়, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (সিবিএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। লেখক ও গবেষক রুহুল আমিনের রচিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ : তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি মূলত মানুষের স্বাধীন সত্তা, দেশপ্রেম এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক দর্শনের বহিঃপ্রকাশ। কোনো জাতির নিজস্ব পরিচয় অনুধাবনের জন্য তার ইতিহাস, দীর্ঘ সংগ্রাম, সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রচিন্তার ধারাবাহিকতা জানা জরুরি। রুহুল আমিনের এই নতুন বইটি এই সংক্রান্ত আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ।

জ্ঞান ও গবেষণামূলক আলোচনাকে কোনো নির্দিষ্ট দলীয় গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা ঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ থাকতে পারে, তবে তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও মুক্ত আলোচনা হওয়া একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক পটভূমি ও বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা নতুন প্রজন্মের কাছে তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি আরও যোগ করেন, একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়তে আমাদের এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিচয় দরকার, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, অঞ্চল ও মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সবাই অভিন্ন নাগরিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূল দর্শনটি এ দেশের মানুষের political অধিকার, গণতন্ত্র রক্ষা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। জাতীয়তাবাদকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে হলে জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে। রুহুল আমিনের এই গ্রন্থটি সমকালীন রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদের বিকাশ নিয়ে পাঠকদের নতুন করে ভাবাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজরুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে এই প্রকাশনা উৎসবে আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বক্তব্য প্রদান করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুম এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মোহনা টিভির নির্বাহী পরিচালক এম এ মালেক প্রমুখ।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের সময় বাড়ল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদই আত্মপরিচয় ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে এ দেশের মানুষের আত্মপরিচয়, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (সিবিএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। লেখক ও গবেষক রুহুল আমিনের রচিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ : তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি মূলত মানুষের স্বাধীন সত্তা, দেশপ্রেম এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক দর্শনের বহিঃপ্রকাশ। কোনো জাতির নিজস্ব পরিচয় অনুধাবনের জন্য তার ইতিহাস, দীর্ঘ সংগ্রাম, সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রচিন্তার ধারাবাহিকতা জানা জরুরি। রুহুল আমিনের এই নতুন বইটি এই সংক্রান্ত আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ।

জ্ঞান ও গবেষণামূলক আলোচনাকে কোনো নির্দিষ্ট দলীয় গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা ঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ থাকতে পারে, তবে তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও মুক্ত আলোচনা হওয়া একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক পটভূমি ও বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা নতুন প্রজন্মের কাছে তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি আরও যোগ করেন, একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়তে আমাদের এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিচয় দরকার, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, অঞ্চল ও মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সবাই অভিন্ন নাগরিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূল দর্শনটি এ দেশের মানুষের political অধিকার, গণতন্ত্র রক্ষা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। জাতীয়তাবাদকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে হলে জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে। রুহুল আমিনের এই গ্রন্থটি সমকালীন রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদের বিকাশ নিয়ে পাঠকদের নতুন করে ভাবাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজরুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে এই প্রকাশনা উৎসবে আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বক্তব্য প্রদান করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুম এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মোহনা টিভির নির্বাহী পরিচালক এম এ মালেক প্রমুখ।