লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নুসরাত হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। সাজা বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ মোট ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনার পর মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলেও নুসরাত তা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে ওই বছরের ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। এই বর্বরোচিত অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায় ও আনুষঙ্গিক নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায় এবং তা ১৪০/১৯ নম্বর ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির ডেথ রেফারেন্সের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছিল। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। এরপর ১৪ জুন থেকে বেঞ্চটি তার কার্যক্রম শুরু করে। এই বেঞ্চে গত ২৮ জুলাই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির শুনানি শুরু হয়ে ২০ আগস্ট শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী আজ চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান সংশোধন কমিটির চতুর্থ বৈঠকে সাংবাদিকদের মতামত গ্রহণ

নুসরাত হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। সাজা বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ মোট ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনার পর মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলেও নুসরাত তা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে ওই বছরের ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। এই বর্বরোচিত অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায় ও আনুষঙ্গিক নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায় এবং তা ১৪০/১৯ নম্বর ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির ডেথ রেফারেন্সের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছিল। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। এরপর ১৪ জুন থেকে বেঞ্চটি তার কার্যক্রম শুরু করে। এই বেঞ্চে গত ২৮ জুলাই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির শুনানি শুরু হয়ে ২০ আগস্ট শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী আজ চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।