লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইয়ের কবলে সাধারণ মানুষ, অনিরাপদ ঢাকার প্রবেশমুখ

রাজধানীর অন্যতম প্রবেশমুখ যাত্রাবাড়ী এলাকা এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা—দিনের যেকোনো সময় সুযোগ পেলেই ছিনতাইকারীরা সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে। ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ছিনতাইকারীরা অত্যন্ত বেপরোয়া এবং প্রায়ই ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুট করে নেয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা চিকিৎসক শামসুন্নাহার হেনা চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় যাত্রাবাড়ী মোড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন। রিকশায় থাকা অবস্থায় তিনজন ছিনতাইকারী তাঁর গলায় চাকু ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং তাঁর মুঠোফোন ও লাগেজ নিয়ে যায়। পরে র‍্যাবের সহায়তায় তাঁর মুঠোফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্য কিছু ফেরত পাননি তিনি।

যাত্রাবাড়ী এলাকার এই অনিরাপদ পরিস্থিতির চিত্র কেবল একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কের সংযোগস্থল যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই ও ছিনতাইচেষ্টার মোট মামলা হয়েছে ১১৯টি। স্থানীয়দের অভিযোগ, 'বেচাবিক্রি হোক আর না হোক, প্রতিদিন ৩০০ টাকা দেওয়া লাগে'। গত ১২ আগস্ট রাজু শেখ নামের এক ব্যক্তি ফরিদপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে যানজটের মধ্যে একটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রত্যক্ষ করেন। গাড়ি থেকে নেমে ছিনতাইকারীকে মারধর করার পরও সে বিন্দুমাত্র ভয় পায়নি, যা থেকে ধারণা করা হয় যে এলাকায় অপরাধীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরাও জানালা দিয়ে মুঠোফোন ও গয়না ছিনতাইয়ের ভয়ে সবসময় আতঙ্কিত থাকেন।

২০২২ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, অর্থাৎ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের মূল পথ এখন ঢাকা-ভাঙ্গা মহাসড়ক, যা শুরু হয় যাত্রাবাড়ী থেকে। যাত্রাবাড়ী থানার তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের হাতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এই সাত মাসে থানায় ছিনতাই ও ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে ১১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১ হাজার ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, কাজলারপাড়, চট্টগ্রাম মহাসড়ক, দোলাইরপাড় ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা ছিনতাইয়ের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

নিহতদের তালিকায় রয়েছেন মাতুয়াইল মাদ্রাসা বাজার এলাকার কাওসার হাওলাদার, অটোরিকশাচালক মো. ইউসুফ এবং কাপড় ব্যবসায়ী আশীষ জোয়ারদার। গত সোমবারও ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ছিনতাইকারীরা নিয়মিত এলাকায় ঘোরাঘুরি করে এবং সুযোগ পেলেই যাত্রীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করায় অপরাধের প্রকৃত পরিসংখ্যান আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে সক্রিয় ৩৮৬ কিশোর গ্যাং, সদস্য সোয়া ৪ হাজার

যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইয়ের কবলে সাধারণ মানুষ, অনিরাপদ ঢাকার প্রবেশমুখ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর অন্যতম প্রবেশমুখ যাত্রাবাড়ী এলাকা এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা—দিনের যেকোনো সময় সুযোগ পেলেই ছিনতাইকারীরা সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে। ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ছিনতাইকারীরা অত্যন্ত বেপরোয়া এবং প্রায়ই ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুট করে নেয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা চিকিৎসক শামসুন্নাহার হেনা চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় যাত্রাবাড়ী মোড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন। রিকশায় থাকা অবস্থায় তিনজন ছিনতাইকারী তাঁর গলায় চাকু ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং তাঁর মুঠোফোন ও লাগেজ নিয়ে যায়। পরে র‍্যাবের সহায়তায় তাঁর মুঠোফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্য কিছু ফেরত পাননি তিনি।

যাত্রাবাড়ী এলাকার এই অনিরাপদ পরিস্থিতির চিত্র কেবল একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কের সংযোগস্থল যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই ও ছিনতাইচেষ্টার মোট মামলা হয়েছে ১১৯টি। স্থানীয়দের অভিযোগ, 'বেচাবিক্রি হোক আর না হোক, প্রতিদিন ৩০০ টাকা দেওয়া লাগে'। গত ১২ আগস্ট রাজু শেখ নামের এক ব্যক্তি ফরিদপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে যানজটের মধ্যে একটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রত্যক্ষ করেন। গাড়ি থেকে নেমে ছিনতাইকারীকে মারধর করার পরও সে বিন্দুমাত্র ভয় পায়নি, যা থেকে ধারণা করা হয় যে এলাকায় অপরাধীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরাও জানালা দিয়ে মুঠোফোন ও গয়না ছিনতাইয়ের ভয়ে সবসময় আতঙ্কিত থাকেন।

২০২২ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, অর্থাৎ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের মূল পথ এখন ঢাকা-ভাঙ্গা মহাসড়ক, যা শুরু হয় যাত্রাবাড়ী থেকে। যাত্রাবাড়ী থানার তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের হাতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এই সাত মাসে থানায় ছিনতাই ও ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে ১১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১ হাজার ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, কাজলারপাড়, চট্টগ্রাম মহাসড়ক, দোলাইরপাড় ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা ছিনতাইয়ের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

নিহতদের তালিকায় রয়েছেন মাতুয়াইল মাদ্রাসা বাজার এলাকার কাওসার হাওলাদার, অটোরিকশাচালক মো. ইউসুফ এবং কাপড় ব্যবসায়ী আশীষ জোয়ারদার। গত সোমবারও ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ছিনতাইকারীরা নিয়মিত এলাকায় ঘোরাঘুরি করে এবং সুযোগ পেলেই যাত্রীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করায় অপরাধের প্রকৃত পরিসংখ্যান আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।