লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীর কয়লাখনি দেখিয়ে লন্ডনে শেয়ার ব্যবসা চালাচ্ছে জিসিএম রিসোর্সেস

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ২০০৬ সালে কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে থমকে গেলেও এশিয়া এনার্জি বা জিসিএম রিসোর্সেস তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেনি। কোম্পানিটি নাম পরিবর্তন করে জিসিএম রিসোর্সেস নামে সক্রিয় রয়েছে এবং লন্ডন শেয়ারবাজারে ফুলবাড়ীর কয়লাখনিকে পুঁজি করে নিয়মিত শেয়ারের দাম বাড়াচ্ছে। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান কোনো সম্পর্ক নেই।

ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্পের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯৪ সালের ২০ আগস্ট বাংলাদেশ সরকার অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি কোম্পানির সঙ্গে কয়লাসম্পদ অনুসন্ধানের চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে বিএইচপি তাদের লাইসেন্স এশিয়া এনার্জির কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ২০০৪ সালের ২৮ জানুয়ারি জ্বালানি বিভাগের খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) কাছ থেকে এশিয়া এনার্জি দুই বছরের জন্য অনুসন্ধান ও সমীক্ষার অনুমোদন পায়, যার মেয়াদ ২০০৬ সালের ২৭ জানুয়ারি শেষ হয়। তবে এশিয়া এনার্জির ঢাকা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, তারা নিয়মিত বিএমডির কাছে লাইসেন্স ফি ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়ে আসছে।

২০০৪ সালে অনুমোদনের পর উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিলে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে খনি এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে তিনজন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সে সময় জাতীয় কমিটির সঙ্গে চুক্তি করে, যার অন্যতম শর্ত ছিল এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিষ্কার ও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন না করা।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে (এআইএম) ২০০৪ সালে তালিকাভুক্ত হয় এশিয়া এনার্জি এবং ২০০৭ সালে নাম পরিবর্তন করে জিসিএম রিসোর্সেস রাখা হয়। গত ২০ বছর ধরে এই খনিকে সম্পদ হিসেবে দেখিয়ে তারা লন্ডনে শেয়ার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারের দর ২ দশমিক ৮৬ পেন্স থেকে বেড়ে ১৭ পেন্স পর্যন্ত পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেলেই তাদের শেয়ারের দর চাঙা হয় এবং এর সঙ্গে সরকারের কোনো মহলের যোগসাজশ থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার অতীতে কয়লা উত্তোলন না করার চুক্তি করলেও এখন কয়লা তোলার কথা বলে বিশ্বাস ভঙ্গ করছে, যা কোনোভাবেই জ্বালানিসংকটের সমাধান নয়।

জিসিএম রিসোর্সেস তাদের লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছে, তারা ‘উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলন চুক্তি’র আওতায় কাজ করছে এবং সমীক্ষার মেয়াদ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটি ২০২০ সালে চীনের পাওয়ার চায়নার সঙ্গে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। তবে ২০০৫ সালে জমা দেওয়া খনি উন্নয়নের কর্মপরিকল্পনা যাচাইয়ের জন্য ২০০৬, ২০০৭ ও ২০১২ সালে গঠিত তিনটি সরকারি কমিটিই ফুলবাড়ী প্রকল্পের বিপক্ষে মতামত দিয়েছিল।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দাম ছিল দেড় পেন্স।

জনপ্রিয় সংবাদ

টঙ্গীবাড়ীতে চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

ফুলবাড়ীর কয়লাখনি দেখিয়ে লন্ডনে শেয়ার ব্যবসা চালাচ্ছে জিসিএম রিসোর্সেস

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৫৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ২০০৬ সালে কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে থমকে গেলেও এশিয়া এনার্জি বা জিসিএম রিসোর্সেস তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেনি। কোম্পানিটি নাম পরিবর্তন করে জিসিএম রিসোর্সেস নামে সক্রিয় রয়েছে এবং লন্ডন শেয়ারবাজারে ফুলবাড়ীর কয়লাখনিকে পুঁজি করে নিয়মিত শেয়ারের দাম বাড়াচ্ছে। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান কোনো সম্পর্ক নেই।

ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্পের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯৪ সালের ২০ আগস্ট বাংলাদেশ সরকার অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি কোম্পানির সঙ্গে কয়লাসম্পদ অনুসন্ধানের চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে বিএইচপি তাদের লাইসেন্স এশিয়া এনার্জির কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ২০০৪ সালের ২৮ জানুয়ারি জ্বালানি বিভাগের খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) কাছ থেকে এশিয়া এনার্জি দুই বছরের জন্য অনুসন্ধান ও সমীক্ষার অনুমোদন পায়, যার মেয়াদ ২০০৬ সালের ২৭ জানুয়ারি শেষ হয়। তবে এশিয়া এনার্জির ঢাকা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, তারা নিয়মিত বিএমডির কাছে লাইসেন্স ফি ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়ে আসছে।

২০০৪ সালে অনুমোদনের পর উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিলে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে খনি এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে তিনজন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সে সময় জাতীয় কমিটির সঙ্গে চুক্তি করে, যার অন্যতম শর্ত ছিল এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিষ্কার ও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন না করা।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে (এআইএম) ২০০৪ সালে তালিকাভুক্ত হয় এশিয়া এনার্জি এবং ২০০৭ সালে নাম পরিবর্তন করে জিসিএম রিসোর্সেস রাখা হয়। গত ২০ বছর ধরে এই খনিকে সম্পদ হিসেবে দেখিয়ে তারা লন্ডনে শেয়ার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারের দর ২ দশমিক ৮৬ পেন্স থেকে বেড়ে ১৭ পেন্স পর্যন্ত পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেলেই তাদের শেয়ারের দর চাঙা হয় এবং এর সঙ্গে সরকারের কোনো মহলের যোগসাজশ থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার অতীতে কয়লা উত্তোলন না করার চুক্তি করলেও এখন কয়লা তোলার কথা বলে বিশ্বাস ভঙ্গ করছে, যা কোনোভাবেই জ্বালানিসংকটের সমাধান নয়।

জিসিএম রিসোর্সেস তাদের লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছে, তারা ‘উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলন চুক্তি’র আওতায় কাজ করছে এবং সমীক্ষার মেয়াদ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটি ২০২০ সালে চীনের পাওয়ার চায়নার সঙ্গে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। তবে ২০০৫ সালে জমা দেওয়া খনি উন্নয়নের কর্মপরিকল্পনা যাচাইয়ের জন্য ২০০৬, ২০০৭ ও ২০১২ সালে গঠিত তিনটি সরকারি কমিটিই ফুলবাড়ী প্রকল্পের বিপক্ষে মতামত দিয়েছিল।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দাম ছিল দেড় পেন্স।