লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা বন্ধের আইনি নোটিশে বিনোদন অঙ্গনের প্রতিবাদ

প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়ে পাঠানো একটি আইনি নোটিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে টেলিভিশন নাটকের সংশ্লিষ্ট সাতটি সংগঠন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী সরকারের তিন সচিব ও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর এই নোটিশ পাঠালে বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে টেলিভিশন নাটকের সাথে যুক্ত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।

প্রতিবাদলিপিতে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণ সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার দাবি সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ বিনোদন অঙ্গনের শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজক ও কলাকুশলীদের মধ্যে বিস্ময় ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল শিল্প দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তাই এ ধরনের বিধিনিষেধ শিল্পীর সৃজনশীল স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে তারা দাবি করেন।

সংগঠনগুলো আরও বলেছে, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় তার প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি সৃজনশীল মাধ্যমের পুরো একটি ধারা বন্ধ করার চেষ্টা অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে তারা দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও স্বীকার করেছে।

এই প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সুমন। এ ছাড়া ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সাহিল রনি, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদেক সিদ্দিকী, টেলিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক রাজ এবং বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রহমান মানিকও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে, যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এই নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। নোটিশে প্রেমভিত্তিক কনটেন্টের আধিক্য, পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের নেতিবাচক প্রভাবের অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি বিজ্ঞান, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ডাকযোগে নোটিশটি পাঠান। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।

এ অবস্থায় যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।নোটিশদাতা সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদের পাশাপাশি ৩৯ ও ২৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তাঁর দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

তাঁর ভাষ্য, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক্‌ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর সলিল সমাধি

প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা বন্ধের আইনি নোটিশে বিনোদন অঙ্গনের প্রতিবাদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়ে পাঠানো একটি আইনি নোটিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে টেলিভিশন নাটকের সংশ্লিষ্ট সাতটি সংগঠন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী সরকারের তিন সচিব ও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর এই নোটিশ পাঠালে বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে টেলিভিশন নাটকের সাথে যুক্ত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।

প্রতিবাদলিপিতে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণ সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার দাবি সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ বিনোদন অঙ্গনের শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজক ও কলাকুশলীদের মধ্যে বিস্ময় ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল শিল্প দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তাই এ ধরনের বিধিনিষেধ শিল্পীর সৃজনশীল স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে তারা দাবি করেন।

সংগঠনগুলো আরও বলেছে, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় তার প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি সৃজনশীল মাধ্যমের পুরো একটি ধারা বন্ধ করার চেষ্টা অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে তারা দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও স্বীকার করেছে।

এই প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সুমন। এ ছাড়া ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সাহিল রনি, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদেক সিদ্দিকী, টেলিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক রাজ এবং বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রহমান মানিকও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে, যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এই নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। নোটিশে প্রেমভিত্তিক কনটেন্টের আধিক্য, পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের নেতিবাচক প্রভাবের অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি বিজ্ঞান, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ডাকযোগে নোটিশটি পাঠান। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।

এ অবস্থায় যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।নোটিশদাতা সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদের পাশাপাশি ৩৯ ও ২৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তাঁর দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

তাঁর ভাষ্য, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক্‌ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে।