লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে গৃহকর্তা হত্যা ও মরদেহ ১৫ খণ্ড করার রহস্য উন্মোচন

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় চাঞ্চল্যকর আবু রায়হান তালুকদার (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবু রায়হানের চার বছরের বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার মো. রাজু মির্জা (২২) এবং তার সহযোগী মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে ফুলবাড়ীয়া থানার কাহালগাঁও এলাকা থেকে আবু রায়হান নিখোঁজ হন। ২৭ জুলাই পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে তদন্ত শুরু হয়। একপর্যায়ে ২ আগস্ট নিখোঁজের বাড়ির ৩০০ গজ দূরে একটি পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপ থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে রাখা ১৫ খণ্ড মানবদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পোশাক ও মরদেহের অংশ দেখে পরিবারের সদস্যরা তা আবু রায়হানের বলে শনাক্ত করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়া থানার সাব-ইনস্পেক্টর শুভ্র সাহার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে রাজু ও জিতুলের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ২৬ আগস্ট রাত ১টা ৫০ মিনিটে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার কথা স্বীকার করেছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রাজু কৌশলে আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। এরপর রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। মরদেহ গুম করতে তা ১৫ খণ্ড করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

আসামিরা অপরাধের আলামত নষ্ট করতে ডিটারজেন্ট পাউডার, হারপিক ও হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে পুরো ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করেছিল। এমনকি ভিকটিমের নিখোঁজ থাকা অবস্থায় তার মোবাইল ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে টাকাও তুলেছিল তারা। পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত লোহার রড, চাপাতি ও চাকুসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করল ৭ বিশ্ববিদ্যালয়

ময়মনসিংহে গৃহকর্তা হত্যা ও মরদেহ ১৫ খণ্ড করার রহস্য উন্মোচন

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় চাঞ্চল্যকর আবু রায়হান তালুকদার (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবু রায়হানের চার বছরের বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার মো. রাজু মির্জা (২২) এবং তার সহযোগী মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে ফুলবাড়ীয়া থানার কাহালগাঁও এলাকা থেকে আবু রায়হান নিখোঁজ হন। ২৭ জুলাই পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে তদন্ত শুরু হয়। একপর্যায়ে ২ আগস্ট নিখোঁজের বাড়ির ৩০০ গজ দূরে একটি পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপ থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে রাখা ১৫ খণ্ড মানবদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পোশাক ও মরদেহের অংশ দেখে পরিবারের সদস্যরা তা আবু রায়হানের বলে শনাক্ত করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়া থানার সাব-ইনস্পেক্টর শুভ্র সাহার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে রাজু ও জিতুলের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ২৬ আগস্ট রাত ১টা ৫০ মিনিটে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার কথা স্বীকার করেছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রাজু কৌশলে আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। এরপর রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। মরদেহ গুম করতে তা ১৫ খণ্ড করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

আসামিরা অপরাধের আলামত নষ্ট করতে ডিটারজেন্ট পাউডার, হারপিক ও হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে পুরো ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করেছিল। এমনকি ভিকটিমের নিখোঁজ থাকা অবস্থায় তার মোবাইল ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে টাকাও তুলেছিল তারা। পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত লোহার রড, চাপাতি ও চাকুসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।