লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের নিয়ন্ত্রণ পেল যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, যা দেশটির জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

ট্রাম্প জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী পিট হেগসেথকে এই চুক্তিটি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁরা ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই সমঝোতায় পৌঁছান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাসোলিনের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারের বেশি, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় একটি নতুন বেসরকারি যৌথ তেল কোম্পানি গঠন করা হয়েছে, যার ৫৫ শতাংশ উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। মজুতের সক্ষমতার বিচারে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি তেল কোম্পানি হতে পারে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই যৌথ উদ্যোগটিকে তাদের তেলক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ইজারা বা অনুমোদন প্রদান করেছে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির বিশাল জ্বালানি মজুতকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে আমেরিকান ও ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য একটি বিশাল বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, যা দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে ও হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের নিয়ন্ত্রণ পেল যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ঘোষণা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, যা দেশটির জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

ট্রাম্প জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী পিট হেগসেথকে এই চুক্তিটি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁরা ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই সমঝোতায় পৌঁছান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাসোলিনের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারের বেশি, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় একটি নতুন বেসরকারি যৌথ তেল কোম্পানি গঠন করা হয়েছে, যার ৫৫ শতাংশ উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। মজুতের সক্ষমতার বিচারে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি তেল কোম্পানি হতে পারে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই যৌথ উদ্যোগটিকে তাদের তেলক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ইজারা বা অনুমোদন প্রদান করেছে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির বিশাল জ্বালানি মজুতকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে আমেরিকান ও ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য একটি বিশাল বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, যা দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে ও হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।