লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে অনুমোদন ছাড়াই ৫০ লাখ টাকার সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক প্রশস্তকরণ কাজকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই শত শত সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে এসব গাছ কাটা হয়। অভিযোগের তির উঠেছে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও রায়চাঁদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কের দুই পাশে থাকা রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চার শতাধিক গাছ ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ৫০ লাখ টাকা। কেটে ফেলা অধিকাংশ গাছ রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছেও বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া গাছ কাটার প্রমাণ আড়াল করতে সড়কের চলমান কাজের মাটি দিয়ে গাছের গোড়া ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু গাছ গোড়াসহ উপড়ে ফেলা হয়। কিছু গাছ স্থানীয় মো. মনিরের স্ব-মিলে রেখে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দিলে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক কাটার উপযোগী গাছের সংখ্যা ও সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করতে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করেন এবং টেন্ডারমূল্য নির্ধারণ করে ইউএনও কার্যালয়ে চিঠি পাঠাস। তবে রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, সড়কের পাশের এসব গাছ বন বিভাগের মালিকানাধীন নয়।

গাছ কাটা ও বিক্রিতে সহযোগিতার বিষয়ে স্ব-মিল মালিক মো. মনির জানান, রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা জসিম মাস্টার ও মাসুম বিল্লাহর কথামতো তিনি গাছ কাটার শ্রমিক ঠিক করে দিয়েছিলেন, তবে তিনি নিজে কোনো গাছ কাটেননি। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করা গাছ কাটার শ্রমিক মো. মামুনও নিশ্চিত করেন, জসিম মাস্টারের নির্দেশেই তারা কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটেছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, জসিম উদ্দিনের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, দরপত্রের মাধ্যমে এক লাখ ৮৬ হাজার টাকায় কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশের ৪৮টি গাছ তারা পেয়েছেন এবং কেবল সেই গাছগুলোই কাটা হচ্ছে। তবে লালমোহন উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান জানান, সড়কের পাশের গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে জটিলতা থাকায় বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সড়ক থেকে গাছ কাটার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক প্রশাসনিক অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন না হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, একটি গাছ কাটলে পাঁচটি গাছ রোপণের নিয়ম থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। তবে সড়কের পাশ থেকে বেআইনিভাবে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে ১০ থেকে ১২ দিন আগে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা তিনি মেনে নিলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, লিখিত পাওয়ার পরও প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে অতিরিক্ত ফি কমানোর দাবি ডাকসু নেতার

লালমোহনে অনুমোদন ছাড়াই ৫০ লাখ টাকার সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক প্রশস্তকরণ কাজকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই শত শত সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে এসব গাছ কাটা হয়। অভিযোগের তির উঠেছে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও রায়চাঁদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কের দুই পাশে থাকা রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চার শতাধিক গাছ ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ৫০ লাখ টাকা। কেটে ফেলা অধিকাংশ গাছ রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছেও বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া গাছ কাটার প্রমাণ আড়াল করতে সড়কের চলমান কাজের মাটি দিয়ে গাছের গোড়া ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু গাছ গোড়াসহ উপড়ে ফেলা হয়। কিছু গাছ স্থানীয় মো. মনিরের স্ব-মিলে রেখে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দিলে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক কাটার উপযোগী গাছের সংখ্যা ও সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করতে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করেন এবং টেন্ডারমূল্য নির্ধারণ করে ইউএনও কার্যালয়ে চিঠি পাঠাস। তবে রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, সড়কের পাশের এসব গাছ বন বিভাগের মালিকানাধীন নয়।

গাছ কাটা ও বিক্রিতে সহযোগিতার বিষয়ে স্ব-মিল মালিক মো. মনির জানান, রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা জসিম মাস্টার ও মাসুম বিল্লাহর কথামতো তিনি গাছ কাটার শ্রমিক ঠিক করে দিয়েছিলেন, তবে তিনি নিজে কোনো গাছ কাটেননি। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করা গাছ কাটার শ্রমিক মো. মামুনও নিশ্চিত করেন, জসিম মাস্টারের নির্দেশেই তারা কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটেছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, জসিম উদ্দিনের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, দরপত্রের মাধ্যমে এক লাখ ৮৬ হাজার টাকায় কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশের ৪৮টি গাছ তারা পেয়েছেন এবং কেবল সেই গাছগুলোই কাটা হচ্ছে। তবে লালমোহন উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান জানান, সড়কের পাশের গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে জটিলতা থাকায় বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সড়ক থেকে গাছ কাটার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক প্রশাসনিক অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন না হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, একটি গাছ কাটলে পাঁচটি গাছ রোপণের নিয়ম থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। তবে সড়কের পাশ থেকে বেআইনিভাবে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে ১০ থেকে ১২ দিন আগে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা তিনি মেনে নিলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, লিখিত পাওয়ার পরও প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।