লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুমের পৈশাচিক সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধের দাবি নাহিদ ইসলামের

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের পৈশাচিক সংস্কৃতি যেন আর কখনো ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। ৩০ আগস্ট পালিত হতে যাওয়া এই দিবসটি সামনে রেখে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত এই নৃশংসতার শিকার হয়েছেন ভিন্ন মতাদর্শের অসংখ্য মানুষ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের স্বজনরা বছরের পর বছর ধরে প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন।

এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘আয়নাঘর’ নামক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে অসংখ্য মানুষকে আটকে রেখে যে অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা বিশ্বমানবতাকে লজ্জিত করে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘশ্বাস, অপেক্ষা ও কান্নার ওপর দাঁড়িয়েই ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশেও অনেক পরিবার এখনো তাদের প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছে এবং এখনো অনেকের কোনো সন্ধান মেলেনি।

বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের কিছু পদক্ষেপের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে গুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও বর্তমানে সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গুমের মতো মারাত্মক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিবর্তে এক ধরনের দায়মুক্তির সুযোগ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা ছাড়া এই সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পরিশেষে বলেন, গুমের শিকার প্রতিটি পরিবারের কান্নার জবাব দিতে হবে। সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি প্রকৃত মানবিক, গণতান্ত্রিক ও নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোটের কারবার, আটক ১

গুমের পৈশাচিক সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধের দাবি নাহিদ ইসলামের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের পৈশাচিক সংস্কৃতি যেন আর কখনো ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। ৩০ আগস্ট পালিত হতে যাওয়া এই দিবসটি সামনে রেখে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত এই নৃশংসতার শিকার হয়েছেন ভিন্ন মতাদর্শের অসংখ্য মানুষ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের স্বজনরা বছরের পর বছর ধরে প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন।

এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘আয়নাঘর’ নামক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে অসংখ্য মানুষকে আটকে রেখে যে অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা বিশ্বমানবতাকে লজ্জিত করে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘশ্বাস, অপেক্ষা ও কান্নার ওপর দাঁড়িয়েই ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশেও অনেক পরিবার এখনো তাদের প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছে এবং এখনো অনেকের কোনো সন্ধান মেলেনি।

বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের কিছু পদক্ষেপের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে গুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও বর্তমানে সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গুমের মতো মারাত্মক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিবর্তে এক ধরনের দায়মুক্তির সুযোগ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা ছাড়া এই সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পরিশেষে বলেন, গুমের শিকার প্রতিটি পরিবারের কান্নার জবাব দিতে হবে। সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি প্রকৃত মানবিক, গণতান্ত্রিক ও নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।