লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে ‘কঠোর আঘাতের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, সংলাপের ডাক পেজেশকিয়ানের

কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। রোববার দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'কঠোর আঘাত' করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার লক্ষ্যে চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে দুই পক্ষই বর্তমানে এক অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ অব্যাহত রেখেছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

রোববার হরমুজ প্রণালীর ইরানি দ্বীপ লারাকে মার্কিন হামলার পর এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের মাইন পুঁতে রাখা ঠেকাতে তারা লারাক দ্বীপে রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। এই ঘটনার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, "আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব। এর জবাব দেওয়া হবে।"

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কিরগিজস্তানে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমরা সমঝোতা ও বোঝাপড়ার পথ খুঁজে পেতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের বা এই অঞ্চলের স্বার্থে নয়। বিদ্যমান সমস্যাগুলো মেটাতে সংলাপ ও সহযোগিতাই একমাত্র পথ।"

এদিকে হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুই পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী দাবি করা হয়েছে। ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে চালানো তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোড়া প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে, কেবল একটি ক্ষেপণাস্ত্র বাদে যা কোনো হুমকি তৈরি করেনি। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে সেগুলোর উৎস সম্পর্কে তারা কিছু জানায়নি।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিকে 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে আবুধাবি কর্তৃপক্ষ। তবে তারা নিজেদের জলসীমায় একটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালীর ওপর আরও একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে আইআরজিসি। একই সঙ্গে সোমবার রাতে ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। তবে এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি।

চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও বেশ গভীর। ইরানকে 'ব্যর্থ রাষ্ট্র' আখ্যা দিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট উত্তর ক্যারোলাইনায় জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের জানান, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা হবে। এই চাপের ফল আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে দেখা যেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির ভোটারদের জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হতো।

জনপ্রিয় সংবাদ

আল্লাহর সুন্দর নামগুলোর জ্ঞানার্জন ও তাৎপর্য অনুধাবন করা জরুরি

ইরানে ‘কঠোর আঘাতের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, সংলাপের ডাক পেজেশকিয়ানের

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। রোববার দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'কঠোর আঘাত' করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার লক্ষ্যে চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে দুই পক্ষই বর্তমানে এক অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ অব্যাহত রেখেছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

রোববার হরমুজ প্রণালীর ইরানি দ্বীপ লারাকে মার্কিন হামলার পর এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের মাইন পুঁতে রাখা ঠেকাতে তারা লারাক দ্বীপে রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। এই ঘটনার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, "আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব। এর জবাব দেওয়া হবে।"

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কিরগিজস্তানে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমরা সমঝোতা ও বোঝাপড়ার পথ খুঁজে পেতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের বা এই অঞ্চলের স্বার্থে নয়। বিদ্যমান সমস্যাগুলো মেটাতে সংলাপ ও সহযোগিতাই একমাত্র পথ।"

এদিকে হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুই পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী দাবি করা হয়েছে। ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে চালানো তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোড়া প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে, কেবল একটি ক্ষেপণাস্ত্র বাদে যা কোনো হুমকি তৈরি করেনি। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে সেগুলোর উৎস সম্পর্কে তারা কিছু জানায়নি।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিকে 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে আবুধাবি কর্তৃপক্ষ। তবে তারা নিজেদের জলসীমায় একটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালীর ওপর আরও একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে আইআরজিসি। একই সঙ্গে সোমবার রাতে ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। তবে এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি।

চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও বেশ গভীর। ইরানকে 'ব্যর্থ রাষ্ট্র' আখ্যা দিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট উত্তর ক্যারোলাইনায় জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের জানান, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা হবে। এই চাপের ফল আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে দেখা যেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির ভোটারদের জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হতো।