লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবুও টিকে থাকার লড়াই

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে নাটকীয় নির্বাচনী ফলাফলের পরও তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারিত করা বিরোধীদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা গেছে ১২০ আসনের সংসদে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ঝুলিতে যেতে পারে ৪৮টি আসন।

নির্বাচনে আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব দলের সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের জন্য সরকার গঠন করা অত্যন্ত জটিল। তবে ইসরাইলের বেশিরভাগ ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের জোট গঠনে তীব্র বিরোধী। এই অচলাবস্থায় নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাকে এই দায়িত্বেই থাকতে হতে পারে।

নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার জন্য দুই দেশের সামনে ইতিহাসের এক অনন্য সুযোগ এসেছে। ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ফলের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, তিনি ‘খুব ভালো করেছেন’ এবং তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে সহায়তা করেছে।

নেতানিয়াহুর বিরোধীরা আশা করেছিলেন যে তার পরাজয় ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির প্রভাব কমিয়ে দেবে, কিন্তু চূড়ান্ত ফলে তারা হতাশ। গাদি আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন যে, নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ও সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু এখন একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের কাছ থেকে তার নতুন কোনো ম্যান্ডেট নেই। তাই কোনো চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনের এই ফল ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের শক্ত অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। বর্তমানে দেশটির মধ্য-বামপন্থী দলগুলো অনেকটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং প্রায় সব ইহুদি রাজনৈতিক দলই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ইসরাইলের হামলায় সেখানে ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। চূড়ান্ত ফল ও জোট গঠনের আলোচনাই ইসরাইলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন রাকিব হাসান

নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবুও টিকে থাকার লড়াই

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে নাটকীয় নির্বাচনী ফলাফলের পরও তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারিত করা বিরোধীদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা গেছে ১২০ আসনের সংসদে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ঝুলিতে যেতে পারে ৪৮টি আসন।

নির্বাচনে আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব দলের সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের জন্য সরকার গঠন করা অত্যন্ত জটিল। তবে ইসরাইলের বেশিরভাগ ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের জোট গঠনে তীব্র বিরোধী। এই অচলাবস্থায় নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাকে এই দায়িত্বেই থাকতে হতে পারে।

নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার জন্য দুই দেশের সামনে ইতিহাসের এক অনন্য সুযোগ এসেছে। ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ফলের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, তিনি ‘খুব ভালো করেছেন’ এবং তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে সহায়তা করেছে।

নেতানিয়াহুর বিরোধীরা আশা করেছিলেন যে তার পরাজয় ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির প্রভাব কমিয়ে দেবে, কিন্তু চূড়ান্ত ফলে তারা হতাশ। গাদি আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন যে, নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ও সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু এখন একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের কাছ থেকে তার নতুন কোনো ম্যান্ডেট নেই। তাই কোনো চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনের এই ফল ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের শক্ত অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। বর্তমানে দেশটির মধ্য-বামপন্থী দলগুলো অনেকটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং প্রায় সব ইহুদি রাজনৈতিক দলই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ইসরাইলের হামলায় সেখানে ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। চূড়ান্ত ফল ও জোট গঠনের আলোচনাই ইসরাইলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।