লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ১৪২ কোটি টাকার ১১টি প্রকল্প অচল: নেই জনবল ও পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম নগরে উন্নয়ন ও জনসেবার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত অন্তত ১১টি প্রকল্প এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির বেশির ভাগই দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত ও অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রকল্পগুলো রয়েছে। সিডিএ নিজস্ব তহবিলে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও বাকিগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বা উপহার হিসেবে পেয়েছে সিটি করপোরেশন।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রাজাখালী খালের ওপর নির্মিত ৭০ মিটার দীর্ঘ সেতু। গাড়ি চলাচল সহজ করার লক্ষ্যে সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়কই নেই। ফলে চার বছর ধরে এটি কোনো কাজেই আসছে না। একই দশা নিউমার্কেটের মাল্টিলেভেল কার পার্কিংয়ের। ২০১৭ সালে চার কোটি টাকা ব্যয়ে সাততলা এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হলেও কার্যত এটি ক্রেতাদের কোনো উপকারে আসছে না।

বিপণিবিতানগুলোর অবস্থাও নাজুক। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে নির্মিত সিডিএর সল্টগোলা শপিং কমপ্লেক্সটি আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এখনো চালু হয়নি। ১৮৬টি দোকানের মধ্যে মাত্র ৮২টি বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাবেক কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় এই বিপণিবিতান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এদিকে, ২০১৫ সালে নির্মিত সিডিএর নিউমার্কেট বি-ব্লকের ১০ তলা বিপণিবিতানটির অবস্থাও একই। ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪৫০টি দোকানের এই ভবনের ওপরের তলাগুলোর অধিকাংশ বন্ধ। বিপণিবিতান মার্চেন্ট ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, পাহাড়ের পাশে দেয়াল না থাকায় পানি ঢুকে এসকেলেটর নষ্ট হয়ে গেছে এবং লিফট অচল হয়ে পড়েছে। সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, সল্টগোলা শপিং কমপ্লেক্স আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং নিউমার্কেটের বিপণিবিতানটির পরিবেশ উন্নয়নের কাজ চলছে।

অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির তালিকায় রয়েছে বিবিরহাটের আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পরীক্ষাগারটি ১০ বছরেও চালু করা যায়নি। সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, জনবল নিয়োগের অনুমোদন না থাকায় এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া জার্মানি থেকে পাওয়া প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের একটি খাদ্য পরীক্ষার গাড়িও পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়। একই সঙ্গে ধুলা পরিষ্কারের ছয়টি গাড়ি, যার মূল্য প্রায় ছয় কোটি ৭০ লাখ টাকা, এবং ভারত সরকারের উপহার দেওয়া একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সও কোনো কাজে আসছে না। এছাড়া ২০২২ সালে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা আটটি উইড হারভেস্টারের মধ্যে একটি সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হলেও তা ব্যবহারের উপযোগী নয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এ ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা যাচাই ও জনবল নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত না করে অর্থ অপচয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল-পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই দক্ষ জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা অপরিহার্য ছিল।

২০২৫ সালের মার্চে এগুলোর একটি দেওয়া হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা

চট্টগ্রামে ১৪২ কোটি টাকার ১১টি প্রকল্প অচল: নেই জনবল ও পরিকল্পনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩০:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরে উন্নয়ন ও জনসেবার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত অন্তত ১১টি প্রকল্প এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির বেশির ভাগই দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত ও অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রকল্পগুলো রয়েছে। সিডিএ নিজস্ব তহবিলে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও বাকিগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বা উপহার হিসেবে পেয়েছে সিটি করপোরেশন।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রাজাখালী খালের ওপর নির্মিত ৭০ মিটার দীর্ঘ সেতু। গাড়ি চলাচল সহজ করার লক্ষ্যে সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়কই নেই। ফলে চার বছর ধরে এটি কোনো কাজেই আসছে না। একই দশা নিউমার্কেটের মাল্টিলেভেল কার পার্কিংয়ের। ২০১৭ সালে চার কোটি টাকা ব্যয়ে সাততলা এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হলেও কার্যত এটি ক্রেতাদের কোনো উপকারে আসছে না।

বিপণিবিতানগুলোর অবস্থাও নাজুক। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে নির্মিত সিডিএর সল্টগোলা শপিং কমপ্লেক্সটি আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এখনো চালু হয়নি। ১৮৬টি দোকানের মধ্যে মাত্র ৮২টি বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাবেক কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় এই বিপণিবিতান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এদিকে, ২০১৫ সালে নির্মিত সিডিএর নিউমার্কেট বি-ব্লকের ১০ তলা বিপণিবিতানটির অবস্থাও একই। ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪৫০টি দোকানের এই ভবনের ওপরের তলাগুলোর অধিকাংশ বন্ধ। বিপণিবিতান মার্চেন্ট ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, পাহাড়ের পাশে দেয়াল না থাকায় পানি ঢুকে এসকেলেটর নষ্ট হয়ে গেছে এবং লিফট অচল হয়ে পড়েছে। সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, সল্টগোলা শপিং কমপ্লেক্স আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং নিউমার্কেটের বিপণিবিতানটির পরিবেশ উন্নয়নের কাজ চলছে।

অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির তালিকায় রয়েছে বিবিরহাটের আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পরীক্ষাগারটি ১০ বছরেও চালু করা যায়নি। সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, জনবল নিয়োগের অনুমোদন না থাকায় এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া জার্মানি থেকে পাওয়া প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের একটি খাদ্য পরীক্ষার গাড়িও পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়। একই সঙ্গে ধুলা পরিষ্কারের ছয়টি গাড়ি, যার মূল্য প্রায় ছয় কোটি ৭০ লাখ টাকা, এবং ভারত সরকারের উপহার দেওয়া একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সও কোনো কাজে আসছে না। এছাড়া ২০২২ সালে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা আটটি উইড হারভেস্টারের মধ্যে একটি সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হলেও তা ব্যবহারের উপযোগী নয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এ ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা যাচাই ও জনবল নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত না করে অর্থ অপচয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল-পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই দক্ষ জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা অপরিহার্য ছিল।

২০২৫ সালের মার্চে এগুলোর একটি দেওয়া হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে।