লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ২ লাখ টন ফার্নেস তেল চায় পিডিবি

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস-সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে ফার্নেস তেলচালিত কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসে এসব কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে জরুরি ভিত্তিতে ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টন ফার্নেস তেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মোট ৫৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এই তেল চাওয়া হয়েছে, যাদের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৫৩৮ মেগাওয়াট।

তবে বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এত বিপুল পরিমাণ তেলের চাহিদা মেটানো সহজ হবে না। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে সব খাত মিলিয়ে বিপিসি ৩১ হাজার ৯০২ টন ফার্নেস তেল বিক্রি করেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর দিন শেষে সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১৪ হাজার ৭৫১ টন। বিপিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাসের বাকি সময়ে আরও ১ লাখ টন তেল আমদানি এবং স্থানীয় উৎস থেকে ২৫ হাজার টন পাওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরে মোট সরবরাহযোগ্য ফার্নেস তেলের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৫৩ টন। ফলে শিল্পকারখানাসহ অন্যান্য খাতের চাহিদা বাদ দিলেও পিডিবির একার চাহিদাই এই জোগানের চেয়ে ৩২ হাজার ৪৪৭ টন বেশি।

গ্যাস-সংকটের কারণে বিভিন্ন শিল্পকারখানাও বিকল্প হিসেবে ফার্নেস তেলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এতে বাজারে এই তেলের বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে দৈনিক গড়ে ৬ হাজার ৩৮০ টন ফার্নেস তেল বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ২ হাজার ১৭৭ টন। অর্থাৎ বিক্রি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৬১৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে ১৪ হাজার ৩৬িল মেগাওয়াট, ফলে দেশজুড়ে ২ হাজার ২৫৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফার্নেস তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে গত ৩ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত থাকা পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানান, পিডিবি প্রথমে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ৮৪ হাজার টন তেলের চাহিদা দিয়েছিল। পরে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর এই চাহিদা বেড়ে ২ লাখ তনের বেশি হয়। তিনি আরও জানান, একসঙ্গে এত তেল দেওয়া সম্ভব নয় বিধায় ধাপে ধাপে সরবরাহের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ৬৫টি ফার্নেস তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। আগস্টের শেষভাগে এসব কেন্দ্র থেকে রাতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার এবং দিনে দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল। মূলত গ্যাসের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো না যাওয়ায় তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ বাড়ে। আগস্টের শেষ দিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বেশ নাজুক হয়ে পড়েছিল। গত ২৭ আগস্ট দেশের ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬২টির উৎপাদন ব্যাহত হয়, যার মধ্যে ২০টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ওই দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট এবং ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ছিল।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বিপিসির কাছে কিছু তেল মজুত রয়েছে এবং কয়েকটি তেলবাহী জাহাজও আসার পথে আছে। এছাড়া আরও একটি জাহাজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মাসের মধ্যে পিডিবির চাহিদার কাছাকাছি পরিমাণ তেল জোগাড় করা সম্ভব হবে বলে বিপিসি তাদের আশ্বস্ত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই তেল সব একসঙ্গে প্রয়োজন হবে না, ধাপে ধাপে পেলেই কেন্দ্রগুলো সচল রাখা যাবে। এছাড়া ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টনের এই হিসাবটি কেবল বিপিসির মাধ্যমে তেল নেওয়া কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রযোজ্য। যেসব বেসরকারি কেন্দ্র নিজস্ব উদ্যোগে তেল আমদানি করে, তাদের চাহিদা এই হিসাবের বাইরে রয়েছে।

পিডিবির তালিকায় সবচেয়ে বেশি ফার্নেস তেল চাওয়া হয়েছে বিআর পাওয়ারজেন লিমিটেডের (বিআরপিএল) তিনটি কেন্দ্রের জন্য। এর মধ্যে শ্রীপুর কেন্দ্রের জন্য ১৪ হাজার, কড্ডার জন্য ১৩ হাজার এবং মিরসরাই কেন্দ্রের জন্য ৮ হাজার টন মিলিয়ে মোট ৩৫ হাজার টন তেলের চাহিদা রয়েছে। বিআরপিএলের নির্বাহী পরিচালক গোবিন্দ চন্দ্র লাহা জানান, শ্রীপুর ও কড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিটিতে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮০৯ টন তেল প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে মিরসরাইয়ে তেল নিতে হয় সড়কপথে, যেখানে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত থাকলেও দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টনের বেশি তেল পরিবহন করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও জানান, তিনটি কেন্দ্রই সচল রয়েছে তবে উৎপাদন জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের চাহিদা ও তেলের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে। গত মাসের শেষ দিকে তেলের ঘাটতির কারণে কিছু সময় কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যায়নি।

তেল পাওয়া গেলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গোবিন্দ চন্দ্র লাহা জানান, গত বছর প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম ছিল প্রায় ৭১ টাকা, যা এখন বেড়ে প্রায় ১০০ টাকা হয়েছে। ফলে তেলচালিত কেন্দ্র বেশি চালিয়ে লোডশেডিং কমানো গেলেও উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। এছাড়া বিপিসির আমদানি ও খালাসের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ডলফিন-৫ ও ৬ জেটি দিয়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল খালাস করা হয়। এই একই অবকাঠামো দিয়ে ডিজেল, জেট ফুয়েল, অকটেন ও মেরিন ফুয়ের পাশাপাশি মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টন ফার্নেস তেল খালাস করা সম্ভব। সাগরে বড় ট্যাংকার থেকে সরাসরি পাইপে তেল খালাসের প্রকল্প সচল না হওয়ায় হঠাৎ করে আমদানি বাড়ানো বিপিসির জন্য কঠিন। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. মনজুর আলম প্রধান বলেন, ফার্নেস তেলের আমদানি বাড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। পিডিবির চাহিদার পুরোটা দেওয়া সম্ভব না হলেও যতটা সম্ভব কাছাকাছি পরিমাণ সরবরাহের চেষ্টা করা হবে।

যেসব বেসরকারি কেন্দ্র নিজেরা ফার্নেস তেল আমদানি করে, তাদের চাহিদা এই হিসাবে নেই।.শ্রীপুর ও কড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিটিতে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮০০ টন করে ফার্নেস তেল প্রয়োজন।

শ্রীপুরে ১৪ হাজার, কড্ডায় ১৩ হাজার এবং মিরসরাইয়ে ৮ হাজার টন—তিন কেন্দ্র মিলিয়ে চাহিদা ৩৫ হাজার টন।বিআরপিএলের নির্বাহী পরিচালক গোবিন্দ চন্দ্র লাহা প্রথম আলোকে বলেন, শ্রীপুর ও কড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিটিতে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮০০ টন করে ফার্নেস তেল প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ৫

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ২ লাখ টন ফার্নেস তেল চায় পিডিবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস-সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে ফার্নেস তেলচালিত কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসে এসব কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে জরুরি ভিত্তিতে ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টন ফার্নেস তেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মোট ৫৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এই তেল চাওয়া হয়েছে, যাদের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৫৩৮ মেগাওয়াট।

তবে বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এত বিপুল পরিমাণ তেলের চাহিদা মেটানো সহজ হবে না। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে সব খাত মিলিয়ে বিপিসি ৩১ হাজার ৯০২ টন ফার্নেস তেল বিক্রি করেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর দিন শেষে সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১৪ হাজার ৭৫১ টন। বিপিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাসের বাকি সময়ে আরও ১ লাখ টন তেল আমদানি এবং স্থানীয় উৎস থেকে ২৫ হাজার টন পাওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরে মোট সরবরাহযোগ্য ফার্নেস তেলের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৫৩ টন। ফলে শিল্পকারখানাসহ অন্যান্য খাতের চাহিদা বাদ দিলেও পিডিবির একার চাহিদাই এই জোগানের চেয়ে ৩২ হাজার ৪৪৭ টন বেশি।

গ্যাস-সংকটের কারণে বিভিন্ন শিল্পকারখানাও বিকল্প হিসেবে ফার্নেস তেলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এতে বাজারে এই তেলের বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে দৈনিক গড়ে ৬ হাজার ৩৮০ টন ফার্নেস তেল বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ২ হাজার ১৭৭ টন। অর্থাৎ বিক্রি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৬১৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে ১৪ হাজার ৩৬িল মেগাওয়াট, ফলে দেশজুড়ে ২ হাজার ২৫৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফার্নেস তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে গত ৩ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত থাকা পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানান, পিডিবি প্রথমে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ৮৪ হাজার টন তেলের চাহিদা দিয়েছিল। পরে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর এই চাহিদা বেড়ে ২ লাখ তনের বেশি হয়। তিনি আরও জানান, একসঙ্গে এত তেল দেওয়া সম্ভব নয় বিধায় ধাপে ধাপে সরবরাহের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ৬৫টি ফার্নেস তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। আগস্টের শেষভাগে এসব কেন্দ্র থেকে রাতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার এবং দিনে দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল। মূলত গ্যাসের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো না যাওয়ায় তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ বাড়ে। আগস্টের শেষ দিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বেশ নাজুক হয়ে পড়েছিল। গত ২৭ আগস্ট দেশের ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬২টির উৎপাদন ব্যাহত হয়, যার মধ্যে ২০টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ওই দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট এবং ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ছিল।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বিপিসির কাছে কিছু তেল মজুত রয়েছে এবং কয়েকটি তেলবাহী জাহাজও আসার পথে আছে। এছাড়া আরও একটি জাহাজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মাসের মধ্যে পিডিবির চাহিদার কাছাকাছি পরিমাণ তেল জোগাড় করা সম্ভব হবে বলে বিপিসি তাদের আশ্বস্ত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই তেল সব একসঙ্গে প্রয়োজন হবে না, ধাপে ধাপে পেলেই কেন্দ্রগুলো সচল রাখা যাবে। এছাড়া ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টনের এই হিসাবটি কেবল বিপিসির মাধ্যমে তেল নেওয়া কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রযোজ্য। যেসব বেসরকারি কেন্দ্র নিজস্ব উদ্যোগে তেল আমদানি করে, তাদের চাহিদা এই হিসাবের বাইরে রয়েছে।

পিডিবির তালিকায় সবচেয়ে বেশি ফার্নেস তেল চাওয়া হয়েছে বিআর পাওয়ারজেন লিমিটেডের (বিআরপিএল) তিনটি কেন্দ্রের জন্য। এর মধ্যে শ্রীপুর কেন্দ্রের জন্য ১৪ হাজার, কড্ডার জন্য ১৩ হাজার এবং মিরসরাই কেন্দ্রের জন্য ৮ হাজার টন মিলিয়ে মোট ৩৫ হাজার টন তেলের চাহিদা রয়েছে। বিআরপিএলের নির্বাহী পরিচালক গোবিন্দ চন্দ্র লাহা জানান, শ্রীপুর ও কড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিটিতে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮০৯ টন তেল প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে মিরসরাইয়ে তেল নিতে হয় সড়কপথে, যেখানে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত থাকলেও দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টনের বেশি তেল পরিবহন করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও জানান, তিনটি কেন্দ্রই সচল রয়েছে তবে উৎপাদন জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের চাহিদা ও তেলের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে। গত মাসের শেষ দিকে তেলের ঘাটতির কারণে কিছু সময় কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যায়নি।

তেল পাওয়া গেলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গোবিন্দ চন্দ্র লাহা জানান, গত বছর প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম ছিল প্রায় ৭১ টাকা, যা এখন বেড়ে প্রায় ১০০ টাকা হয়েছে। ফলে তেলচালিত কেন্দ্র বেশি চালিয়ে লোডশেডিং কমানো গেলেও উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। এছাড়া বিপিসির আমদানি ও খালাসের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ডলফিন-৫ ও ৬ জেটি দিয়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল খালাস করা হয়। এই একই অবকাঠামো দিয়ে ডিজেল, জেট ফুয়েল, অকটেন ও মেরিন ফুয়ের পাশাপাশি মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টন ফার্নেস তেল খালাস করা সম্ভব। সাগরে বড় ট্যাংকার থেকে সরাসরি পাইপে তেল খালাসের প্রকল্প সচল না হওয়ায় হঠাৎ করে আমদানি বাড়ানো বিপিসির জন্য কঠিন। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. মনজুর আলম প্রধান বলেন, ফার্নেস তেলের আমদানি বাড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। পিডিবির চাহিদার পুরোটা দেওয়া সম্ভব না হলেও যতটা সম্ভব কাছাকাছি পরিমাণ সরবরাহের চেষ্টা করা হবে।

যেসব বেসরকারি কেন্দ্র নিজেরা ফার্নেস তেল আমদানি করে, তাদের চাহিদা এই হিসাবে নেই।.শ্রীপুর ও কড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিটিতে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮০০ টন করে ফার্নেস তেল প্রয়োজন।

শ্রীপুরে ১৪ হাজার, কড্ডায় ১৩ হাজার এবং মিরসরাইয়ে ৮ হাজার টন—তিন কেন্দ্র মিলিয়ে চাহিদা ৩৫ হাজার টন।বিআরপিএলের নির্বাহী পরিচালক গোবিন্দ চন্দ্র লাহা প্রথম আলোকে বলেন, শ্রীপুর ও কড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিটিতে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮০০ টন করে ফার্নেস তেল প্রয়োজন।