লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রৌমারীতে সারের দাবিতে ডিলারের গুদাম ভাঙচুর, ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকদের বিক্ষোভ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে সার বিতরণে বিলম্বের জেরে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই সার নেওয়ার জন্য প্রায় এক হাজার কৃষক লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ডিলার ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামের দাবি, গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল, যার মধ্যে এক থেকে দেড় শ বস্তা সার কৃষকেরা নিয়ে গেছেন। ধাক্কাধাক্কির সুযোগে এই ভাঙচুর হয় বলে তিনি জানান। তবে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া এই সার লুট হওয়ার ঘটনাটি অস্বীকার করে একে ভুয়া বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, রৌমারীতে ৪২ হাজার কৃষকই সঠিকভাবে সার পাচ্ছেন। রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু বস্তা সার নিয়ে গেছেন। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

একই দিনে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট এলাকায় সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ করেছেন। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সার নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই কৃষকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটছে, যা পুলিশের নিয়মিত কাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বললেও কৃষকদের চাহিদা ও মজুত সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য কৃষকদের বাড়তি চাহিদার কারণে সাময়িক সংকট দেখা দিচ্ছে। এর আগে রবিবার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারেও একই কারণে ডিলারের গুদামে ভাঙচুর হয়েছে। এছাড়া ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেন তাঁরা। ওই ঘটনায় ধলডাঙ্গা বাজারের সারের ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া এবং ক্যাশমেমোতে অসংগতির অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা। গোয়ালঘর, খড়ের মাচায় লুকানো ছিল সার, উদ্ধার করলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের চুক্তি কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল

রৌমারীতে সারের দাবিতে ডিলারের গুদাম ভাঙচুর, ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০২:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে সার বিতরণে বিলম্বের জেরে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই সার নেওয়ার জন্য প্রায় এক হাজার কৃষক লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ডিলার ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামের দাবি, গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল, যার মধ্যে এক থেকে দেড় শ বস্তা সার কৃষকেরা নিয়ে গেছেন। ধাক্কাধাক্কির সুযোগে এই ভাঙচুর হয় বলে তিনি জানান। তবে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া এই সার লুট হওয়ার ঘটনাটি অস্বীকার করে একে ভুয়া বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, রৌমারীতে ৪২ হাজার কৃষকই সঠিকভাবে সার পাচ্ছেন। রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু বস্তা সার নিয়ে গেছেন। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

একই দিনে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট এলাকায় সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ করেছেন। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সার নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই কৃষকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটছে, যা পুলিশের নিয়মিত কাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বললেও কৃষকদের চাহিদা ও মজুত সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য কৃষকদের বাড়তি চাহিদার কারণে সাময়িক সংকট দেখা দিচ্ছে। এর আগে রবিবার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারেও একই কারণে ডিলারের গুদামে ভাঙচুর হয়েছে। এছাড়া ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেন তাঁরা। ওই ঘটনায় ধলডাঙ্গা বাজারের সারের ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া এবং ক্যাশমেমোতে অসংগতির অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা। গোয়ালঘর, খড়ের মাচায় লুকানো ছিল সার, উদ্ধার করলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।