লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জনের শৈশবের যৌন ট্রমার কথা উঠে এল ‘আওয়াজ ডট বিডি’তে

শৈশবে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ভয়াবহ ও ট্রমাটিক অভিজ্ঞতাগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে চালু হয়েছে নতুন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘আওয়াজ ডট বিডি’ (https://awaz.bd/)। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্ল্যাটফর্মটি চালু হওয়ার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এখানে ৪৫ জন ভুক্তভোগী তাঁদের শৈশবের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা বেনামে প্রকাশ করেছেন। মূলত ছেলেশিশুদের ওপর হওয়া যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলো সামনে আনাই এই প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক লক্ষ্য হলেও, মেয়েদের ছোটবেলার নিপীড়নের নানা ঘটনাও এতে উঠে এসেছে।

এই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করলেই স্ক্রিনে ‘আওয়াজ উঠাও’ স্লোগানের পাশাপাশি লেখা ভেসে ওঠে, ‘আপনার নীরবতা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়, আপনার তথ্য অপরাধ দমনে সহায়তা করে’। বাংলাদেশে বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিশুদের ওপর হওয়া যৌন নিপীড়নের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে মানুষের দেওয়া বেনামি তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে কোনো নাম, ছবি বা পরিচয় নেওয়া হয় না; এমনকি কোনো কুকি বা ট্র্যাকিং তথ্যও সংরক্ষণ করা হয় না। প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তোলার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছেন রাকিবুল হাসান (২৭) ও সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর (৪২)। রাকিবুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে, সালাহউদ্দীন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছেন এবং একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত আছেন।

উদ্যোক্তা রাকিবুল হাসান জানান, ছেলেশিশু ধর্ষণ, বিশেষ করে মাদ্রাসায় শিশুধর্ষণের ঘটনাগুলো বারবার সামনে আসার পর তাঁরা এমন একটি উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। দেশের বহুল আলোচিত ‘ঘুষ’ সাইটটি যেভাবে মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলে সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছেছিল, ঠিক একইভাবে এই প্ল্যাটফর্মটিও যেন শিশু নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরকারকে নাড়া দিতে পারে—সেই উদ্দেশ্য থেকেই এটি তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনো আইনি সহায়তা কেন্দ্র বা হেল্প সেন্টার নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা তৈরির একটি মাধ্যম। কওমি মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাকিবুল চান, মাদ্রাসা বোর্ড ও সরকার যেন শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে সামাজিক চাপের মুখে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। প্রাথমিকভাবে শুধু মাদ্রাসার ছেলেশিশুদের নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরার পরিকল্পনা থাকলেও প্ল্যাটফর্মটি চালুর পর সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নারী-পুরুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলছে।

প্ল্যাটফর্মে জমা হওয়া প্রথম ৪৫টি অভিযোগের ভিত্তিতে একটি পরিসংখ্যানগত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ৭ থেকে ১২ বছর বয়সে ভুক্তভোগী হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাঁদের সঙ্গে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে এবং ৩৮ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যেখানে প্রথমে জোরপূর্বক এবং পরে ভয় দেখিয়ে তাঁদের মুখ বন্ধ রাখা হয়েছিল। মোট ভুক্তভোগীর ৬৪ শতাংশই পুরুষ। ছেলেদের ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশ পরিচিত ব্যক্তি, ২৬ শতাংশ বিশ্বস্ত পরিচিত, ১৬ শতাংশ নিকটাত্মীয় এবং ১০ শতাংশ দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের মাধ্যমে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, মেয়েদের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ পরিচিত, ১৪ শতাংশ বিশ্বস্ত পরিচিত, ১৪ শতাংশ নিকটাত্মীয় এবং ৪৩ শতাংশ দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের মাধ্যমে এই অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন। প্রতি পাঁচজন ভুক্তভোগীর মধ্যে একজন তাঁর নিজের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেই নিপীড়িত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যৌন নিপীড়নের ৫৬ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে বাড়িতে। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ ভুক্তভোগীর নিজের বাড়িতে, ১৯ শতাংশ অভিযুক্তের বাড়িতে এবং ১৫ শতাংশ আত্মীয়ের বাসায় ঘটেছে। এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন ৩৬ শতাংশ ভুক্তভোগী। ধর্মীয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৬ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে কওমি মাদ্রাসায় এবং ১৯ শতাংশ ঘটেছে স্কুলে। এর বাইরে মসজিদ, আলিয়া মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাও উঠে এসেছে।

প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ট্রমা শেয়ার করতে গিয়ে একজন পুরুষ লিখেছেন, শৈশবে নিজের বাড়িতেই আপন চাচাতো ভাইয়ের হাতে তিনি বারবার বলাৎকারের শিকার হন। প্রথম দিকে বিষয়টি না বুঝলেও পরে তিনি নিজেও এতে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর মতে, এই ঘৃণ্য কাজ শুধু মাদ্রাসায় নয়, সমাজের অনেক মানুষই এর সঙ্গে জড়িত। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় মামাতো ভাইয়ের হাতে নিপীড়নের শিকার হওয়া এক নারী লিখেছেন, সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে আজও তাঁর গা শিউরে ওঠে। কওমি মাদ্রাসার এক সাবেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শুয়ে থাকার সময় বড় এক ছাত্রের দ্বারা তিনি নিপীড়নের শিকার হন। তিনি আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। আরেকজন লিখেছেন, গ্রামের কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়ার সময় হেড স্যারের কাছে রাতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে বড় ক্লাসের এক ছেলের দ্বারা নিগৃহীত হন, যার ট্রমা তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন। শৈশবের এই নিপীড়ন কীভাবে মানুষকে পরবর্তীতে নিপীড়ক বানিয়ে তোলে, তারও একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন এক ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অনেকেই শিশুদের সুরক্ষায় মা-বাবার সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। এক নারী লিখেছেন, আত্মীয়দের কাছে যেতে না চাইলে মা-বাবা রাগ করতেন; তাঁরা যদি একটু সচেতন হতেন, তবে জীবনটা এভাবে অন্ধকার হয়ে যেত না। শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার এ বিষয়ে বলেন, শৈশবের যৌন নির্যাতন শিশুদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা তৈরি করে, যা বড় হওয়ার পর তাদের স্বাভাবিক জীবন ও সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে। ঘরে-বাইরে ও শিক্ষাপ্রতিństhane শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের ‘ভালো স্পর্শ’ ও ‘খারাপ স্পর্শ’ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। কোনো ভয় ছাড়া শিশুরা যেন মা-বাবা বা শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সরকারকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন, পরকীয়ার জেরে হত্যা

২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জনের শৈশবের যৌন ট্রমার কথা উঠে এল ‘আওয়াজ ডট বিডি’তে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শৈশবে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ভয়াবহ ও ট্রমাটিক অভিজ্ঞতাগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে চালু হয়েছে নতুন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘আওয়াজ ডট বিডি’ (https://awaz.bd/)। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্ল্যাটফর্মটি চালু হওয়ার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এখানে ৪৫ জন ভুক্তভোগী তাঁদের শৈশবের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা বেনামে প্রকাশ করেছেন। মূলত ছেলেশিশুদের ওপর হওয়া যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলো সামনে আনাই এই প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক লক্ষ্য হলেও, মেয়েদের ছোটবেলার নিপীড়নের নানা ঘটনাও এতে উঠে এসেছে।

এই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করলেই স্ক্রিনে ‘আওয়াজ উঠাও’ স্লোগানের পাশাপাশি লেখা ভেসে ওঠে, ‘আপনার নীরবতা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়, আপনার তথ্য অপরাধ দমনে সহায়তা করে’। বাংলাদেশে বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিশুদের ওপর হওয়া যৌন নিপীড়নের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে মানুষের দেওয়া বেনামি তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে কোনো নাম, ছবি বা পরিচয় নেওয়া হয় না; এমনকি কোনো কুকি বা ট্র্যাকিং তথ্যও সংরক্ষণ করা হয় না। প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তোলার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছেন রাকিবুল হাসান (২৭) ও সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর (৪২)। রাকিবুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে, সালাহউদ্দীন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছেন এবং একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত আছেন।

উদ্যোক্তা রাকিবুল হাসান জানান, ছেলেশিশু ধর্ষণ, বিশেষ করে মাদ্রাসায় শিশুধর্ষণের ঘটনাগুলো বারবার সামনে আসার পর তাঁরা এমন একটি উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। দেশের বহুল আলোচিত ‘ঘুষ’ সাইটটি যেভাবে মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলে সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছেছিল, ঠিক একইভাবে এই প্ল্যাটফর্মটিও যেন শিশু নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরকারকে নাড়া দিতে পারে—সেই উদ্দেশ্য থেকেই এটি তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনো আইনি সহায়তা কেন্দ্র বা হেল্প সেন্টার নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা তৈরির একটি মাধ্যম। কওমি মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাকিবুল চান, মাদ্রাসা বোর্ড ও সরকার যেন শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে সামাজিক চাপের মুখে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। প্রাথমিকভাবে শুধু মাদ্রাসার ছেলেশিশুদের নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরার পরিকল্পনা থাকলেও প্ল্যাটফর্মটি চালুর পর সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নারী-পুরুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলছে।

প্ল্যাটফর্মে জমা হওয়া প্রথম ৪৫টি অভিযোগের ভিত্তিতে একটি পরিসংখ্যানগত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ৭ থেকে ১২ বছর বয়সে ভুক্তভোগী হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাঁদের সঙ্গে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে এবং ৩৮ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যেখানে প্রথমে জোরপূর্বক এবং পরে ভয় দেখিয়ে তাঁদের মুখ বন্ধ রাখা হয়েছিল। মোট ভুক্তভোগীর ৬৪ শতাংশই পুরুষ। ছেলেদের ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশ পরিচিত ব্যক্তি, ২৬ শতাংশ বিশ্বস্ত পরিচিত, ১৬ শতাংশ নিকটাত্মীয় এবং ১০ শতাংশ দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের মাধ্যমে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, মেয়েদের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ পরিচিত, ১৪ শতাংশ বিশ্বস্ত পরিচিত, ১৪ শতাংশ নিকটাত্মীয় এবং ৪৩ শতাংশ দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের মাধ্যমে এই অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন। প্রতি পাঁচজন ভুক্তভোগীর মধ্যে একজন তাঁর নিজের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেই নিপীড়িত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যৌন নিপীড়নের ৫৬ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে বাড়িতে। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ ভুক্তভোগীর নিজের বাড়িতে, ১৯ শতাংশ অভিযুক্তের বাড়িতে এবং ১৫ শতাংশ আত্মীয়ের বাসায় ঘটেছে। এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন ৩৬ শতাংশ ভুক্তভোগী। ধর্মীয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৬ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে কওমি মাদ্রাসায় এবং ১৯ শতাংশ ঘটেছে স্কুলে। এর বাইরে মসজিদ, আলিয়া মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাও উঠে এসেছে।

প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ট্রমা শেয়ার করতে গিয়ে একজন পুরুষ লিখেছেন, শৈশবে নিজের বাড়িতেই আপন চাচাতো ভাইয়ের হাতে তিনি বারবার বলাৎকারের শিকার হন। প্রথম দিকে বিষয়টি না বুঝলেও পরে তিনি নিজেও এতে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর মতে, এই ঘৃণ্য কাজ শুধু মাদ্রাসায় নয়, সমাজের অনেক মানুষই এর সঙ্গে জড়িত। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় মামাতো ভাইয়ের হাতে নিপীড়নের শিকার হওয়া এক নারী লিখেছেন, সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে আজও তাঁর গা শিউরে ওঠে। কওমি মাদ্রাসার এক সাবেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শুয়ে থাকার সময় বড় এক ছাত্রের দ্বারা তিনি নিপীড়নের শিকার হন। তিনি আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। আরেকজন লিখেছেন, গ্রামের কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়ার সময় হেড স্যারের কাছে রাতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে বড় ক্লাসের এক ছেলের দ্বারা নিগৃহীত হন, যার ট্রমা তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন। শৈশবের এই নিপীড়ন কীভাবে মানুষকে পরবর্তীতে নিপীড়ক বানিয়ে তোলে, তারও একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন এক ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অনেকেই শিশুদের সুরক্ষায় মা-বাবার সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। এক নারী লিখেছেন, আত্মীয়দের কাছে যেতে না চাইলে মা-বাবা রাগ করতেন; তাঁরা যদি একটু সচেতন হতেন, তবে জীবনটা এভাবে অন্ধকার হয়ে যেত না। শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার এ বিষয়ে বলেন, শৈশবের যৌন নির্যাতন শিশুদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা তৈরি করে, যা বড় হওয়ার পর তাদের স্বাভাবিক জীবন ও সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে। ঘরে-বাইরে ও শিক্ষাপ্রতিństhane শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের ‘ভালো স্পর্শ’ ও ‘খারাপ স্পর্শ’ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। কোনো ভয় ছাড়া শিশুরা যেন মা-বাবা বা শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সরকারকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।