লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা উত্তরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম, দক্ষিণ সিটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি

চলতি বছরের শুরু থেকেই রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বেশ দৃশ্যমান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) এলাকাতেই মারা গেছেন ৪৬ জন, আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) ১৬ জন। অর্থাৎ, উত্তর সিটির তুলনায় দক্ষিণ সিটিতে মৃতের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেশি।

আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকেও দক্ষিণ সিটি এগিয়ে রয়েছে। উল্লিখিত সময় পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে ৫ হাজার ৮২৫ জন এবং উত্তর সিটিতে ৫ হাজার ৪২৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১১ জন, চট্টগ্রামে ৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৩ জন, ময়মনসিংহে ১৩ জন, রাজশাহীতে ৪ জন, রংপুরে একজন এবং সিলেটে একজন মারা গেছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যায়ও বিভিন্ন বিভাগ পিছিয়ে নেই; খুলনা বিভাগে ৭ হাজার ২৯৮ জন, বরিশাল বিভাগে ৬ হাজার ৮১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ হাজার ৭৭২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬ হাজার ৯৬৬ জন, ময়মনসিংহে ২ হাজার ৪৯৯ জন, রাজশাহীতে ২ হাজার ৫৫৭ জন, রংপুরে এক হাজার ১৬৮ জন এবং সিলেটে ২০৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

সরকারি এই পরিসংখ্যান নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান। তিনি দাবি করেন, দক্ষিণ সিটিতে আক্রান্ত বা মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। তার মতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণ সিটিতে অবস্থিত হওয়ায় সারা দেশ থেকে আসা রোগীদের তথ্য এখানে যুক্ত হচ্ছে, যা প্রকৃত চিত্র নয়। তিনি জানান, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ওয়ার্ডে দুটি করে টিম কাজ করছে। লার্ভা শনাক্তে সকালে একটি টিম এবং ওষুধ প্রয়োগে বিকেলে আরেকটি টিম কাজ করছে। পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক মনিটরিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, ডেঙ্গুর বিস্তার এখন কেবল ঋতু পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘায়িত হয়েছে। তিনি ব্রিডিং সোর্স ম্যানেজমেন্ট বা প্রজনন উৎস ধ্বংসের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ফুলের টব, টায়ার, পানির ট্যাংক বা বেইসমেন্টে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ০৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৩০ জন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে হট্টগোল ও উত্তেজনা

ঢাকা উত্তরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম, দক্ষিণ সিটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি বছরের শুরু থেকেই রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বেশ দৃশ্যমান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) এলাকাতেই মারা গেছেন ৪৬ জন, আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) ১৬ জন। অর্থাৎ, উত্তর সিটির তুলনায় দক্ষিণ সিটিতে মৃতের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেশি।

আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকেও দক্ষিণ সিটি এগিয়ে রয়েছে। উল্লিখিত সময় পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে ৫ হাজার ৮২৫ জন এবং উত্তর সিটিতে ৫ হাজার ৪২৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১১ জন, চট্টগ্রামে ৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৩ জন, ময়মনসিংহে ১৩ জন, রাজশাহীতে ৪ জন, রংপুরে একজন এবং সিলেটে একজন মারা গেছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যায়ও বিভিন্ন বিভাগ পিছিয়ে নেই; খুলনা বিভাগে ৭ হাজার ২৯৮ জন, বরিশাল বিভাগে ৬ হাজার ৮১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ হাজার ৭৭২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬ হাজার ৯৬৬ জন, ময়মনসিংহে ২ হাজার ৪৯৯ জন, রাজশাহীতে ২ হাজার ৫৫৭ জন, রংপুরে এক হাজার ১৬৮ জন এবং সিলেটে ২০৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

সরকারি এই পরিসংখ্যান নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান। তিনি দাবি করেন, দক্ষিণ সিটিতে আক্রান্ত বা মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। তার মতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণ সিটিতে অবস্থিত হওয়ায় সারা দেশ থেকে আসা রোগীদের তথ্য এখানে যুক্ত হচ্ছে, যা প্রকৃত চিত্র নয়। তিনি জানান, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ওয়ার্ডে দুটি করে টিম কাজ করছে। লার্ভা শনাক্তে সকালে একটি টিম এবং ওষুধ প্রয়োগে বিকেলে আরেকটি টিম কাজ করছে। পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক মনিটরিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, ডেঙ্গুর বিস্তার এখন কেবল ঋতু পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘায়িত হয়েছে। তিনি ব্রিডিং সোর্স ম্যানেজমেন্ট বা প্রজনন উৎস ধ্বংসের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ফুলের টব, টায়ার, পানির ট্যাংক বা বেইসমেন্টে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ০৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৩০ জন।