লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার তাগিদ

শিশুর পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বয়স অনুযায়ী সঠিক উচ্চতা ও ওজন বজায় রাখার পাশাপাশি শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং শেখার সক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে শিশুপুষ্টির উন্নয়নই মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

একটি শিশুর জীবনের প্রথম ২৪ মাস পুষ্টির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। জন্মের পর প্রথমত মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং ছয় মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাদ্য দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু খর্বকায় ও কৃশকায় হচ্ছে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, উন্নত পয়োনিস্কাশন এবং মাতৃদুগ্ধ পানে জোর দিতে হবে।

মানবদেহের কার্যক্রম সচল রাখতে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা জানান, দুধের কোনো বিকল্প নেই কারণ এতে দেহ গঠনের প্রয়োজনীয় সব প্রোটিন রয়েছে। শিশু, বাড়ন্ত বয়সী কিশোর-কিশোরী, অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য প্রতিদিন দুধ পান করা অপরিহার্য। এটি হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করার পাশাপাশি বয়স্কদের হাড়ের ভঙ্গুরতা রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে তাদের লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়ে এবং খর্বাকৃতি ও কম ওজনের মতো শারীরিক জটিলতা দূর হয়।

বাংলাদেশে অপুষ্টির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অধিক জনসংখ্যা, দারিদ্র্য এবং পুষ্টি সম্পর্কে অসচেতনতা। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে খাদ্যের সহজলভ্যতা কমে যাওয়ায় অনেকে পুষ্টিবঞ্চিত হচ্ছে। আবার আর্থিক সংকটের কারণে অনেকে পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারে না। অন্যদিকে, সচ্ছল পরিবারের সন্তানরাও অতিরিক্ত জাঙ্কফুড খাওয়ার কারণে অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। বর্তমানে উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে দেশে খাদ্যাভাব কমলেও রাসায়নিক ও ভেজালের কারণে খাদ্য দূষিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

পুষ্টির অভাবের পেছনে অর্থনৈতিক সংকটের চেয়ে খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞানের অভাবকে মূলত দায়ী করা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন কেবল দুধ ও মাংস খেলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকে, তবে সুস্থতার জন্য খাবারে সুষম উপাদানের উপস্থিতি প্রয়োজন। এজন্য দুধ ও মাংসের পাশাপাশি মাছ, ডিম, ডাল, ভাত, রুটি, সবজি ও ফলমূল খেতে হবে। দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের অপুষ্টি দূর করতে ব্যাপক উদ্যোগের প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে শিশুর বুকের দুধ খাওয়ানো, উপযুক্ত সম্পূরক খাবার দেওয়া এবং ছয় মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো। একই সাথে ভাতের পাশাপাশি শাকসবজি, ডাল ও দেশীয় ফলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। দেশের পুষ্টিমান উন্নয়নে সরকার, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোন খাবার হজম হতে কত সময় লাগে? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার তাগিদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশুর পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বয়স অনুযায়ী সঠিক উচ্চতা ও ওজন বজায় রাখার পাশাপাশি শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং শেখার সক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে শিশুপুষ্টির উন্নয়নই মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

একটি শিশুর জীবনের প্রথম ২৪ মাস পুষ্টির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। জন্মের পর প্রথমত মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং ছয় মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাদ্য দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু খর্বকায় ও কৃশকায় হচ্ছে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, উন্নত পয়োনিস্কাশন এবং মাতৃদুগ্ধ পানে জোর দিতে হবে।

মানবদেহের কার্যক্রম সচল রাখতে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা জানান, দুধের কোনো বিকল্প নেই কারণ এতে দেহ গঠনের প্রয়োজনীয় সব প্রোটিন রয়েছে। শিশু, বাড়ন্ত বয়সী কিশোর-কিশোরী, অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য প্রতিদিন দুধ পান করা অপরিহার্য। এটি হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করার পাশাপাশি বয়স্কদের হাড়ের ভঙ্গুরতা রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে তাদের লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়ে এবং খর্বাকৃতি ও কম ওজনের মতো শারীরিক জটিলতা দূর হয়।

বাংলাদেশে অপুষ্টির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অধিক জনসংখ্যা, দারিদ্র্য এবং পুষ্টি সম্পর্কে অসচেতনতা। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে খাদ্যের সহজলভ্যতা কমে যাওয়ায় অনেকে পুষ্টিবঞ্চিত হচ্ছে। আবার আর্থিক সংকটের কারণে অনেকে পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারে না। অন্যদিকে, সচ্ছল পরিবারের সন্তানরাও অতিরিক্ত জাঙ্কফুড খাওয়ার কারণে অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। বর্তমানে উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে দেশে খাদ্যাভাব কমলেও রাসায়নিক ও ভেজালের কারণে খাদ্য দূষিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

পুষ্টির অভাবের পেছনে অর্থনৈতিক সংকটের চেয়ে খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞানের অভাবকে মূলত দায়ী করা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন কেবল দুধ ও মাংস খেলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকে, তবে সুস্থতার জন্য খাবারে সুষম উপাদানের উপস্থিতি প্রয়োজন। এজন্য দুধ ও মাংসের পাশাপাশি মাছ, ডিম, ডাল, ভাত, রুটি, সবজি ও ফলমূল খেতে হবে। দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের অপুষ্টি দূর করতে ব্যাপক উদ্যোগের প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে শিশুর বুকের দুধ খাওয়ানো, উপযুক্ত সম্পূরক খাবার দেওয়া এবং ছয় মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো। একই সাথে ভাতের পাশাপাশি শাকসবজি, ডাল ও দেশীয় ফলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। দেশের পুষ্টিমান উন্নয়নে সরকার, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।