লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা ও বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বিনিয়োগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সর‌ওয়ার আলম এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। অভিনন্দনপত্রের জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি এবং হাইকমিশনারের মাধ্যমে রাজাকে শুভেচ্ছা জানান।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। এই ধারাকে আরও বেগবান করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর তিনি জোর দেন। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্র চর্চার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ পণ্য আরও তিন বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। রাষ্ট্রপতি এ সুবিধাকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেন।

যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, কমনওয়েলথ শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল ক্লাইমেট ডাটা বা আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগের বিষয়ে হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এর ফলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম, ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট dপ্তের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকসুর বিতর্কিত কার্যক্রমের তদন্তে কমিটি গঠন করল ঢাবি প্রশাসন

যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা ও বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বিনিয়োগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সর‌ওয়ার আলম এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। অভিনন্দনপত্রের জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি এবং হাইকমিশনারের মাধ্যমে রাজাকে শুভেচ্ছা জানান।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। এই ধারাকে আরও বেগবান করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর তিনি জোর দেন। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্র চর্চার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ পণ্য আরও তিন বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। রাষ্ট্রপতি এ সুবিধাকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেন।

যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, কমনওয়েলথ শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল ক্লাইমেট ডাটা বা আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগের বিষয়ে হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এর ফলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম, ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট dপ্তের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।