লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনজীবীর কাছে চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় মামলা

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না দেওয়ায় জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে করা নালিশি দরখাস্তটি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা এ আদেশ দেন। আদালত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নালিশি দরখাস্তটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালতে দাখিল করা নালিশি দরখাস্তে নাদিম মাহমুদ অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েক দফায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ও তার পরিবারকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ এবং জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় বাদীর বাড়ির সামনে তাকে গতিরোধ করা হয়। ১ ও ২ নম্বর আসামির নির্দেশে ৩ থেকে ৬ নম্বর আসামি তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ৭ থেকে ৯ নম্বর আসামি একইভাবে চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।

সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১ থেকে ৯ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি বাদীর মালিকানাধীন ২৫ শতাংশ জমিতে প্রবেশ করেন। বাদীর বাবা ও জেঠার নামে থাকা সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া এই জমির আরএস খতিয়ান নম্বর ১৩৪৯ এবং আরএস দাগ নম্বর ৩২৪২-এর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ করে মোট ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে। দলিল নম্বর ৫৬২২ ও ৫৬২০, যার তারিখ ১৭ অক্টোবর ১৯৮৮। আসামিরা ওই জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা ও মাটি কেটে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। বাদীর পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীরা বাধা দিলে আসামিরা মারধরের চেষ্টা করেন এবং গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিদের কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার সময়ও আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাদিম মাহমুদ জানান, ঘটনার দিন ৫ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শের পর তিনি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মো. জনি, মো. রুবেল, মো. দেলোয়ার, মো. বাবুল, মো. আবু তাহের, মো. আলীম, মো. নূর হোসেন, মো. ইমান আলী, মো. ইয়ার হোসেন এবং কানা শুকুরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৮৫, ৪২৭, ৪৪৭, ১৪৩, ১৪৭, ১৪৯, ৫০৬(২), ১২০-বি ও ৩৪ ধারায় দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকসুর বিতর্কিত কার্যক্রমের তদন্তে কমিটি গঠন করল ঢাবি প্রশাসন

আইনজীবীর কাছে চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় মামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না দেওয়ায় জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে করা নালিশি দরখাস্তটি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা এ আদেশ দেন। আদালত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নালিশি দরখাস্তটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালতে দাখিল করা নালিশি দরখাস্তে নাদিম মাহমুদ অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েক দফায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ও তার পরিবারকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ এবং জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় বাদীর বাড়ির সামনে তাকে গতিরোধ করা হয়। ১ ও ২ নম্বর আসামির নির্দেশে ৩ থেকে ৬ নম্বর আসামি তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ৭ থেকে ৯ নম্বর আসামি একইভাবে চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।

সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১ থেকে ৯ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি বাদীর মালিকানাধীন ২৫ শতাংশ জমিতে প্রবেশ করেন। বাদীর বাবা ও জেঠার নামে থাকা সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া এই জমির আরএস খতিয়ান নম্বর ১৩৪৯ এবং আরএস দাগ নম্বর ৩২৪২-এর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ করে মোট ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে। দলিল নম্বর ৫৬২২ ও ৫৬২০, যার তারিখ ১৭ অক্টোবর ১৯৮৮। আসামিরা ওই জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা ও মাটি কেটে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। বাদীর পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীরা বাধা দিলে আসামিরা মারধরের চেষ্টা করেন এবং গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিদের কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার সময়ও আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাদিম মাহমুদ জানান, ঘটনার দিন ৫ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শের পর তিনি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মো. জনি, মো. রুবেল, মো. দেলোয়ার, মো. বাবুল, মো. আবু তাহের, মো. আলীম, মো. নূর হোসেন, মো. ইমান আলী, মো. ইয়ার হোসেন এবং কানা শুকুরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৮৫, ৪২৭, ৪৪৭, ১৪৩, ১৪৭, ১৪৯, ৫০৬(২), ১২০-বি ও ৩৪ ধারায় দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।