লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ঢাবি শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক এক শিক্ষার্থী। আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের ওই শিক্ষার্থী।

আবু তৈয়ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ছবি ছিঁড়ে ফেলার পর আবু তৈয়ব সাংবাদিকদের বলেন, যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রেপ্তার করিয়েছিলেন, সেই জিন্নাহর ছবি কোনোভাবেই ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে জিন্নাহকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো কথা উল্লেখ ছিল কি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে আবু তৈয়ব বলেন, এই অপচেষ্টার পেছনে ছাত্রশিবির রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ডাকসু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বাংলাদেশে জিন্নাহর মতো কোনো ভিলেন অথবা গোলাম আজম ও নিজামীর মতো কোনো যুদ্ধাপরাধী আমাদের নায়ক হতে পারে না। তাদের আমরা কখনোই নায়ক হতে দেব না।

সংস্কারকাজ শেষ করার পর গতকাল রোববার ডাকসু সংগ্রহশালাটি নতুন করে চালু করা হয়। তবে সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি রাখা হয়নি। উল্টো নতুন করে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি সেখানে যুক্ত করা হয়।

সংগ্রহশালায় স্থান পাওয়া জিন্নাহর ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। অন্যটি ছিল ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি, যাতে জিন্নাহ উপস্থিত ছিলেন। আর তৃতীয়টি ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবিসহ পাকিস্তানের ডন পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকসুর বিতর্কিত কার্যক্রমের তদন্তে কমিটি গঠন করল ঢাবি প্রশাসন

ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ঢাবি শিক্ষার্থী

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:১০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক এক শিক্ষার্থী। আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের ওই শিক্ষার্থী।

আবু তৈয়ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ছবি ছিঁড়ে ফেলার পর আবু তৈয়ব সাংবাদিকদের বলেন, যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রেপ্তার করিয়েছিলেন, সেই জিন্নাহর ছবি কোনোভাবেই ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে জিন্নাহকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো কথা উল্লেখ ছিল কি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে আবু তৈয়ব বলেন, এই অপচেষ্টার পেছনে ছাত্রশিবির রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ডাকসু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বাংলাদেশে জিন্নাহর মতো কোনো ভিলেন অথবা গোলাম আজম ও নিজামীর মতো কোনো যুদ্ধাপরাধী আমাদের নায়ক হতে পারে না। তাদের আমরা কখনোই নায়ক হতে দেব না।

সংস্কারকাজ শেষ করার পর গতকাল রোববার ডাকসু সংগ্রহশালাটি নতুন করে চালু করা হয়। তবে সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি রাখা হয়নি। উল্টো নতুন করে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি সেখানে যুক্ত করা হয়।

সংগ্রহশালায় স্থান পাওয়া জিন্নাহর ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। অন্যটি ছিল ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি, যাতে জিন্নাহ উপস্থিত ছিলেন। আর তৃতীয়টি ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবিসহ পাকিস্তানের ডন পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।