লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেছেন, চলচ্চিত্র সমাজ ও মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের এক অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে সিনেমা যে বার্তাগুলো দিত, তা কেবল চোখ দিয়ে দেখা হতো না, বরং তা মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে যেত। প্রতিটি চলচ্চিত্রের নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের কাজের কথা স্মরণ করে বলেন, তাদের প্রতিটি সিনেমাতেই সামাজিক ও মানবিক বার্তা থাকত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চলচ্চিত্র নির্মাতারা আগামীতে এমন কাজ করবেন যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবারও মানুষের সাথে কথা বলে।

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে আন্দালিভ রহমান বলেন, সমাজের বাস্তবতা এখন বদলেছে। তরুণ প্রজন্ম মাদকের ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে এবং সমাজে নানা বৈষম্য রয়েছে। এই সংকটময় সময়ে সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। তিনি চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সিনেমাকে তার পুরোনো গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি যে পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা এখনো অর্জিত হয়নি। সরকার শুধু এফডিসিকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার চলচ্চিত্র খাতের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট কাটিয়ে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানে বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই তিনি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছেন। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), এ জে মিন্টু, কাজী হায়াৎ, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, ড. মতিন রহমান ও মশিউদ্দীন শাকেরসহ গুণী ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমন। এ সময় সমিতির মহাসচিব শাহিন কবির টুটুল ও বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানিসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেট টেস্ট: ৩৫৬ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ওপেনিংয়ে নাঈমের অভিষেক

চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেছেন, চলচ্চিত্র সমাজ ও মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের এক অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে সিনেমা যে বার্তাগুলো দিত, তা কেবল চোখ দিয়ে দেখা হতো না, বরং তা মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে যেত। প্রতিটি চলচ্চিত্রের নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের কাজের কথা স্মরণ করে বলেন, তাদের প্রতিটি সিনেমাতেই সামাজিক ও মানবিক বার্তা থাকত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চলচ্চিত্র নির্মাতারা আগামীতে এমন কাজ করবেন যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবারও মানুষের সাথে কথা বলে।

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে আন্দালিভ রহমান বলেন, সমাজের বাস্তবতা এখন বদলেছে। তরুণ প্রজন্ম মাদকের ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে এবং সমাজে নানা বৈষম্য রয়েছে। এই সংকটময় সময়ে সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। তিনি চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সিনেমাকে তার পুরোনো গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি যে পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা এখনো অর্জিত হয়নি। সরকার শুধু এফডিসিকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার চলচ্চিত্র খাতের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট কাটিয়ে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানে বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই তিনি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছেন। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), এ জে মিন্টু, কাজী হায়াৎ, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, ড. মতিন রহমান ও মশিউদ্দীন শাকেরসহ গুণী ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমন। এ সময় সমিতির মহাসচিব শাহিন কবির টুটুল ও বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানিসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।